DLS 41: ।। আমার বউ আছে না ।।

1
1849
DLS 41: ।। আমার বউ আছে না ।।

ফুসকাওয়ালী

World Wide Web পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
টিউনারপেজে আমি শিখছি দিবারাত্র,
চেনে আমায় কেউ, বোঝেনা কেউ,
তবুও . . . . . .
টিউন করে যাই,
আপন মনে,
DLS 41: ।। আমার বউ আছে না ।।

বৃষ্টি নামের একটা পাগলীর আমার জীবনে আসার পর থেকে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি মেয়ে মানুষ কি জিনিস। যদিও আমি নিজে যে অনেক ভদ্র এমন কথা আজ পর্যন্ত কার মুখে শুনি নাই। টাও এই মেয়েটা আমারে জ্বালাইতে জ্বালাইতে কয়লা কইরা ফালাইছে।এমন একভাব যেন জন্ম নিছে আমার ১২টা বাজানোর জন্য। সব থেকে বিপদে কথা হল, এই নারী আমার মনের সব কথা বুঝে ফেলে। যা আমি নিজেও হয়ত বুঝি না।
ওর সাথে বন্ধুত্তের কিছু দিন পর থেকে আমার সব বন্ধুরা পচানি দিতে শুরু করল।আমাদের নাকি এইটা বন্ধুত্ব না। তার থেকে বেশি কিছু। এই নিয়ে অবশ্য আমি আর বৃষ্টি গোল টেবিল বৈঠক করছি। বৈঠকের শুরুতে একজন আর একজনের দিকে নাক সিটকে বললাম “প্রেম!! তাও আবার তোর সাথে? ছিঃ আমার পছন্দ এত খারাপ নাকি ! যা ভাগ” । আর তার কিছুক্ষণ পর যারা আমাদের উদ্দেশে এই মহান বানী উৎসর্গ করছে,তাদের কথা ভেবে হাসলাম। আর সব গুলোকে গাধা উপাধিতে ভূষিত করে,বৈঠক শেষ করলাম।

আমরা ২জনই যে পাগল তা বুঝতে আমাদের বেশি টাইম লাগেনি। আর টাই হয়ত হাজার খুনসুটি করেও আমরা ভাল বন্ধু।

এখন আমরা বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি। বৃষ্টি মানে আমার বৃষ্টি না,সবার বৃষ্টি, মানে আকাশের থেকে যে বৃষ্টি পরে ওই বৃষ্টি। হঠাৎ করেই আমাদের ইচ্ছা হইছে বৃষ্টিতে ভিজে চা খাব, চায়ের কাপ পলিথিনে প্যাঁচায় রাখা হবে, যেন বৃষ্টির পানি না ঢুকে কাপে। কিন্তু এই প্লান করার পর থেকে “আকাশের বৃষ্টির” কোন খোজ নাই, আর টাই “আমার বৃষ্টির” মন খারাপ। আচ্ছা আমি “আমার বৃষ্টি আমার বৃষ্টি” কেন করতেছি !! ধুর ও কি আমার নাকি। কার না কার “বৃষ্টি” নিয়ে আমার আমার করতেছি।

আমার বৃষ্টির মন খারাপ।তার বাসায় নাকি বিয়ের কথা হচ্ছে। এইযে Gender Discrimination হচ্ছে ঘরে ঘরে এই জন্য আন্দোলন করা উচিত। ওর আর আমার বয়স তো একই, তাইলে আমার বাপ মা কেন আমার বিয়ের কথা কয় না !! এইটা তো ঠিক না। তাই আমিও ঠিক করছি, যেদিন বৃষ্টি করবে ওইদিন আমিও বিয়ে করব। তাই বৃষ্টিকে বলছি একটা মেয়ে ঠিক করে রাখতে। আর মেয়ে না পাইলে তানিয়ারে বিয়া করুম।

তানিয়ার একটু বর্ণনা দেই, তানিয়া আমাদের ক্লাসের সব থেকে সুন্দর মেয়ে, আর এইজন্য আমাদের ক্লাসের মোটামোটি সুন্দরীরা, যেমন বৃষ্টি ,তানিয়াকে সহ্য করতে পারেনা। যদিও আমি দেখছি বৃষ্টি আমার মুখে অন্য কোন মেয়ের নামও শুনতে পারে না। মেয়েটা আসলেই অনেক হিংসুটে। আমি আবার ওর মত না। আমি খুবই উদার। শুধু রনি, শান্ত, তন্ময় আর সাহেদের সাথে বৃষ্টি কথা বললে একটু রাগ করি। এই আর কি ! তাও আগে করতাম। এখন করি না। কারন বৃষ্টি যতই দুষ্টামি করুক না কেন, আমি একবার যেদিন বলছি ওদের সাথে কথা না বলতে, ওইদিনের পরে আর মেয়েটা ওদের সাথে কথা বলেনি।আর তাই তো আমি ও তানিয়ার সাথে কথা বলি না। শুধু আজ বৃষ্টির মন খারাপ তাই জন্য বললাম।এখন হয়ত ভাবতেছেন মন খারাপ তাই তানিয়ার কথা কেন বললাম? আরে ভাই, এইটা বলার কারনেই তো ওর মন খারাপ এখন রাগে পরিনত হইছে।আমি ওর রাগ সহ্য করতে রাজি,কিন্তু মন খারাপ না ! মেয়েটা আমার উপর রাগ করে চলে গেলো। আর আমি একটা শান্তির হাসি দিলাম। যাক আমার বৃষ্টির মনতো আর খারাপ না।

আবার আমার বৃষ্টির !!! ধ্যাত !!!!

বৃষ্টি চলে যাওয়ার পর রাতে অনেক বার ফোন করে বলল সে বিয়ে করতে চায় না। আমি তার একজন ভাল বন্ধু বলে তারে বুঝালাম বিয়ে করার উপকারিতা। সে চুপচাপ শুনে একটা কথা বলে ফোন রেখে দিল। বলল “বিয়ে হয়ে গেলে তোর সাথে বৃষ্টিতে ভিজবো কিভাবে?”
আমি অবাক হয়ে অনুভব করলাম, হঠাৎ আমার বুকের মধ্যে বড় একটা শুন্যতা ঘিরে আছে। ঠিক শুন্যতা নয়, আরও অনেক কিছু। একা হয়ে যাওয়ার ভয়, তোকে হারাবার ভয়। কি আশ্চর্য এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। তাও কেন হচ্ছে।

হঠাৎ এক অজানা ভয়ে আমি বৃষ্টির সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিলাম। ক্লাস বন্ধ থাকার জন্য কিছুটা সুবিধা হল।
সুবিধা !! সত্যিই কি তাই হল। যদি তাই হত তা হলে কেন, ওর বাসার সামনে যেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়ায় থাকি? কেন নিজের অজান্তে চোখ ভিজে যায় !
পাছে বন্ধুরা কিছু বুঝে ফেলে, এই ভয়তে আড্ডায় যাওয়াও বন্ধ করে দিলাম। আচ্ছা কি বুঝে ফেলবে ওরা ?? কি লুকাচ্ছি আমি ??

কাল সকালে বৃষ্টির বিয়ে। ওর বান্ধবি আসে বলে গেলো। বিয়ের কথা বলতে আসছিল না আমাকে অপমান করতে ঠিক বুঝে উঠে পারলাম না। কি করব ওই যে যখন বলল “বৃষ্টি তোমাকে অনেক ভালবাসে” ওইটা শোনার পর কানে আর কিছু ধুকল না।
সন্ধ্যার আগেই ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়ে পরলাম। কয়েক দিন ধরে ঘুমের ওষুধ না খেলে ঘুম আসেনা। সকালে উঠে দেখি আমার সব বন্ধুরা আমার বাসায় হাজির। সবার মুখ ভার। রাজিবের কথায় বুঝলাম। বৃষ্টির বিয়ের কথা শুনে ওদের ধারনা আমার মন অনেক খারাপ তাই আমাকে সঙ্গ দিতেই তাদের এত সকালে আসা। কিন্তু আমার তো মন খারাপ না,মন কেন খারাপ হবে।
যদিও আমি হাসতে পারছি না, আর কোন এক কারনে চোখে পানি আসলো, যা লুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাও আমার মন খারাপ না।

১১টার দিকে কি হল বুঝলাম না। ঘর থেকে দৌড় দিলাম। সোজা বৃষ্টির বাড়ির সামনে। পুরা বাড়ি সাজানো। কিছু না ভেবে ঢুকে গেলাম। বৃষ্টির ছোটো বোন আমাকে দেখে ভুত দেখার মত চমকে উঠলো। বুঝলাম কয়েক দিন শেভ করিনাই,তাই বলে এই ভাবে তাকাতে হবে। ফাজিল পোলা পাইন। চারিদিকে বৃষ্টিকে খোজার জন্য তাকাতেই বুঝলাম শুধু ওর বোন না, কিছু মুরব্বি টাইপের লোকও আমার দিকে একই দৃষ্টিতে তাকায় আছে, তারাতারি প্যান্টের জিপের দিক তাকালাম, যাক বাবা সব ঠিক আছে।

এর মধ্যে ওই ফাজিল পিচ্চিটা আমার দিকে দৌড়ে আসে বলল টার আপু পার্লারে গেছে সাজতে,সাথে পার্লারের ঠিকানা। বৃষ্টিকে পাইলে আগে একটা থাপ্পর দিব।আমি শেভ না করে জঙ্গলি হয়ে আছি, আর সে গেছে সাজতে। নাহ মেয়ে মানুষ জাতটাই আউলা। আর এই আউলা জাতির একটা পাগলের জন্য আমি প্রানপনে দৌড়ব বলে বাইরে যেয়ে দেখি,রাজিব তার বাইক নিয়ে দাঁত বাইর করে আমার দিকে তাকায় আছে। নাহ এই গুলোরে যতটা হারামি ভাবতাম ওরা ঠিক ততো না, অল্প পিরিমানে হারামি। যাই হোক। বাইকে উঠে রওনা দিলাম পার্লারের উদ্দেশে।
মেয়ের পার্লার আর গার্লস স্কুল কলেজের উপর বরাবরই ছেলেদের একটা আকর্ষণ থেকে,আমারও আছে,ভাবলাম এই সুযোগে এই ইচ্ছাটা পূরণ করে ফেলি।কিন্তু আফসোস পার্লারের মধ্যে ধুকতে দিল না। এই ভেবে মন খারাপ হল।

যাই হোক বৃষ্টিকে খুজতে হবে, তাই বৃষ্টি বলে চিল্লানি দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে হঠাৎ কোথা থেকে কার যেন একটা বউ আমার উপর ঝাপায় পরল।

হায় হায় এখন কি হবে!! বৃষ্টি দেখলে তো এই মেয়ের খবর আছে। একবার তানিয়া আমার ব্যাগে হাত দিছিল বলে ,সে কি রাগ। পারলে তানিয়ার মাইরে আসে। আর এইখানে তো, এই বউ পুরা আমারে জড়ায় ধরছে। আর যদি এই মেয়ের বর দেখে ফেলায়,তাইলে এই বউয়ের সাথে সাথে আমারও খবর আছে। ভয়তে আমি আবার বৃষ্টি বলে চিল্লায় উঠলাম। সাথে সাথে বউটা তার মুখ তুলে আমার দিকে খটমট করে তাকালো। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, এই বউ আর সাথে বৃষ্টির চেহারার অনেক মিল আছে। একটু খেয়াল করে দেখলাম আরে এইটাই তো আমার বৃষ্টি !! হাঁ এইটাই তো আমার বউ(ও আমার বউ ক্যামনে হইল বুঝলাম না।কিন্তু তাও নিজেকে ওর স্বামী মনে হইল, আর ওকে আমার সম্পত্তি)। আমি কিছু না বলে শক্ত করে জড়ায় ধরলাম আমার বৃষ্টিকে। ব্যাস সে মোরামরি শুরু করল, আস্তে আস্তে বলে “ছাড়ো সবাই দেখতেছে”। মেজাজটা চরম খারাপ হয়ে গেলো, এত সময় যে সে আমাকে জড়ায় ধরে ছিল তখন কেউ দেখেনি, যেই আমি ধরছি অমনি সবাই দেখতেছে। আজব মেয়ে !!
আমি ঝারি দিয়ে বললাম “দেখে দেখুক,আমার বউকে আমি জড়ায় ধরব তাতে কার কি !” বৃষ্টি হেসে দিল। বলল “এখনই আমাকে এইখান থেকে না নিয়ে গেলে,তোমার বউকে অন্য কেউ বউ বানায় নিয়ে যাবে”।

আমি ভাবলাম ,হ্যাঁ তাই তো, ঠিকই তো। নাহ,আমার বউয়ের মাথায় বুদ্ধি আছে !!
তারাতারি বাইরে আসে দেখি আমার বন্ধুরা বিজয়ী হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকায় আছে, এমন ভাব যেন আমি ওদের বউকে উদ্ধার করে আনছি। ভালভাবে বৃষ্টির দিকে তাকায় দেখলাম,না এইটা আমারই বৃষ্টি,আমারই বউ। ওদের না। আর পরের ঘটনায় নিজেকে চোর মনে হইল। বউ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছি। কাজী অফিসে যেয়ে বিয়ে পড়ানোর সাথে সাথে জোরে চিল্লায় বললাম, “বৃষ্টি, দেখছিস বলছিলাম না, যেদিন তোর বিয়ে হবে,আমিও ওইদিন বিয়ে করব”।বলে যে কয়টা দাঁত বের করা যায়,সে কয়টা বার করে সবার দিকে তাকায় দেখলাম, সবার দৃষ্টি আমার দিকে, আর সেই দৃষ্টির মানে “তুই একটা আস্ত আতেল !”
হইলাম না হয় আতেল, তাতে কি, আমার এখন একটা বউ আছে। নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে ধনী মানুষ মনে হচ্ছে। আমার কাছে যে ধন আছে,তা আর কার কাছে নেই।আমার বউ, আমার বৃষ্টি !!

পরক্ষনে মনে পরল, এখনও বিজয়ীর হাসি হাসার সময় আসেনি, এখন যে আরও বড় যুদ্ধ , শত্রু পক্ষে আছে আমার শ্বশুর বাড়ির লোক, এমন কি আমার নিজের বাড়ির লোকরাও তাদের সাথে একত্রিত হয়ে দল গঠন করতে পারে।

ধুর যা হবে হোক। তাতে কি!! আমি যে এখন সব থেকে ধনী,আমার কাছে আমার বউ আছে না। আমার কি ভয় !!

লিখেছেন-Nijhum Rahman

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ