DLS 39: ।। মা ।।

0
236
DLS 39: ।। মা ।।

ফুসকাওয়ালী

World Wide Web পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
টিউনারপেজে আমি শিখছি দিবারাত্র,
চেনে আমায় কেউ, বোঝেনা কেউ,
তবুও . . . . . .
টিউন করে যাই,
আপন মনে,
DLS 39: ।। মা ।।

লিখেছেনঃ Oronne Rodon

রিমন ভার্সিটির স্টুডেন্ট। সারাদিন কাটে ক্লাস,আড্ডা,পড়াশোনা আর ফেসবুক নিয়ে। আজ তার মেজাজটা চরম বিগড়ে আছে। আর মেজাজ খারাপ হবেই বা না কেন?
মোবাইলটা ধরলেই শুরু হয় মা এর বকবকানি……… “ছেলেটা আমার সারাদিন মোবাইল নিয়ে পরে থাকে কেনো? কি আছে এটাতে? এতো মোবাইল টিপাটিপির কি দরকার?” এসব কথা শুনতে শুনতে আর ভালো লাগে না…….
আজ তাই মার সাথে রাগারাগি করে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। আসার সময় মা-কে বলে এসেছে আর ফিরবে না সে ঘরে ….মা অবশ্য বাধা দিয়েছিলো, কিন্তু তাতে কার কি? যেই ঘরে তার কোনো স্বাধীনতা নেই সেখানে সে ও নেই……

ও এখন একটা পার্কে বসে আছে। পার্কটা মোটামুটি শান্ত। চারপাশে খুব একটা মানুষ জন নেই। দুপুরবেলা, তাই হয়তো…. যাক! বাঁচা গেলো, এইখানে তো আর কেউ ডিস্টার্ব করতে আসবে না…..

ভাবতে ভাবতেই ‘অপেরা মিনি’ তে ব্রাউজ করে ফেসবুক এ ঢুকলো। ইদানিং ‘ভালোবাসার’ গল্প পড়াটা একেবারে নেশা হয়ে গেছে.. আজও সে সেই রকমই একটা পেজ ‘ভালোবাসাময় জীবন’ এ ক্লিক করল। ক্লিক করতেই তার চোখে পড়লো ৫ মিনিট আগে পোস্ট করা একটা গল্প যার নাম ….’মা’।

দেখেই আবার মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। যার জন্য ঘর ছেড়ে এখন সে এই পার্কে বসে আছে, আবার তিনি এসে হাজির। বলতে বলতেই শত অনিচছা সত্তেও গল্পটা পড়া শুরু করলো………………………

সরণ ঢাকার এক স্বনামধন্য স্কুলের ক্লাস ফোর এর ছাত্র। বাবা বিরাট ব্যবসায়ী। টাকা পয়সার ও তাই কোনো অভাব নেই। কিন্তু তবুও সরণ এর মনে শান্তি নেই। কারণটা, তার মা। সরণ তার মা কে হারিয়েছে সেই জন্মের সময়েই। তার বাবা অবশ্য তার জন্য আর একটা মা এনে দিয়েছেন। কিন্তু সরণ একটা ব্যাপার কিছুতেই বুঝতে পারে না। এই মা টা কেন তাকে আদর করে না??? তার ক্লাসমেটদের মায়েরা দেখি ওদেরকে কত্ত আদর দেয়!!! কত্ত কিছু কিনে দেয়!!! অথচ তার মা তো তাকে সব সময় শুধু শাসনই করে..কোনো দিনই তো কাছে ডাকে না। উল্টো কাছে গেলেই কুকুরের মতো দূরদূর করে তাড়িয়ে দেয়। সরণ এর কাছে সবচাইতে স্মরণীয় সময়টা হচ্ছে তার বাবা বাসায় থাকার সময়টা । কারণ, একমাত্র তার বাবার সামনে থাকলেই তার মা কেমন জানি হয়ে যায়!! তার ফ্রেন্ডরা যেই মায়ের গল্প শোনায় ঠিক সেই মায়ের মতো। ওর ছোট্ট মাথায় কিছুতেই ব্যাপারটা ঢুকে না। সে সব সময়ই ভাবে, ”আচ্ছা কেনো এমন হয়??” তার ফ্রেন্ডদের থেকে শুনেছে তার মা নাকি সৎ মা। তাই এমন করে । আচ্ছা তার আপন মা থাকলে কেমন হতো? সব সময় সত্যিকারের আদর দিতো? যা এই মা দেয় না!!!!

সরণ এর প্রত্যেকটা দিন এখন কাটছে তার ‘মা’ এর অপেক্ষায়…………..

গল্পটা পড়ার পর রিমন এর চোখ ছলছলিয়ে উঠে। এক মুহুর্তও দেরি না করে সে উঠে দাড়ায়। রিমন এখন হাঁটছে। গন্তব্য : তার বাসা । যেখানে অসীম মমতা নিয়ে অপেক্ষারত তার মা……….

সরণ এর মা না হয় মারা গেছে..কিন্তু,আমাদের যাদের মা আছে..তারা কেনো মা কে কষ্ট দিই?? একবার ভাবুন তো? সরণ এর জায়গায় আপনি হলে কি হতো?পারতেন সেই কষ্ট সহ্য করতে?
মা তো বকা ঝকা করেন আমাদেরই ভালোর জন্য…. তাই না?
চলুন না,আজ থেকে আমরা খুব ভালো সন্তান হয়ে যাই।

ভালো লাগলে অনুগ্রহ করে Comments দিয়ে একটিভ থাকুন

একটি উত্তর ত্যাগ