আমেচার রেডিও " বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের অনন্য মাধ্যম "

6
1654

হ্যাম রেডিও বা আমেচার রেডিও শব্দটির সাথে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সবাই পরিচিত ।
তবুও যারা এই ব্যাপারে জানেন না তাদের উদ্দেশ্যে বলছি…
আমেচার রেডিও " বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের অনন্য মাধ্যম "
আমেচার রেডিও বা হ্যাম রেডিও হচ্ছে একটি বিশ্বব্যাপি কমিউনিটি যার মাধ্যমে সারা বিশ্বের প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যাক্তি নিজেদের মাঝে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন । ২০০৪ সালের জরিপ অনুযায়ী এমেরিকায় ৭ লক্ষ , জাপানে ৬ লক্ষ , দক্ষিন কোরিয়ায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার , থাইল্যান্ডে ১ লক্ষ ৪০ হাজার , কানাডায় ৫৭ হাজার , জার্মানিতে ৭০ হাজার , ইংল্যান্ডে ৬০ হাজার , সুইডেনে ১১ হাজার , নরওয়েতে ৫ হাজার এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ১৬ হাজারের বেশি হ্যাম এই বিষয়ে যথেষ্ট এগিয়ে আছে । তারা স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে অ্যামেচার রেডিও নিয়ে আরও গবেষণা করার জন্য মহাকাশের বুকে নিজেদের অ্যামস্যাট (অ্যামেচার স্যাটেলাইট) পাঠিয়েছে, যা বিশ্বের যে কোন হ্যাম বিনা পয়সায় ব্যবহার করতে পারে ! এসব কাজে বিশ্বের সব দেশের সরকার ও যথাযথ কতৃপক্ষ সর্বাত্নক সহায়তা করেন, যার ছিটেফোঁটাও বাংলাদেশে নেই ।
বাংলাদেশে বিগত ২৭ নভেম্বর ২০০৮ তারিখে অ্যামেচার রেডিও ব্যবহারকারীদের পরীক্ষা নেয়া এবং লাইসেন্স প্রদান করলেও সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ বি,টি,আর,সি নতুন করে আর  অ্যামেচার রেডিও ব্যবহারকারীদের পরীক্ষা নিচ্ছেনা যা ডিজিটাল বাংলাদেশ এ রুপান্তরে বিশাল প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছেন অনেকেই ।
আমেচার রেডিও " বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের অনন্য মাধ্যম "
এবার আপনাদের বলি , অ্যামেচার রেডিও কিন্তু শুধু কথা বলার জন্য নয় , এই রেডিও ব্যবহার করে আপনি অ্যামেচার স্যাটালাইট , অ্যামেচার টেলিভিশন, স্লো-স্ক্যান টিভি , ফাস্ট-স্ক্যান টিভি , ডাটা ট্রান্সমিশনের বিভিন্ন মোডের ব্যবহার , মোর্স কোড ও রেডিওকে মডেম হিসেবে ব্যবহার করার মতো আরো অনেক মজার মজার কাজ করতে পারবেন । আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে , এসব কাজে আমাদের সাহায্য করার জন্য সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ HAM বসে আছে , যাদের পেশা অথবা শখই হলো বিনামূল্যে অন্যান্য HAM দেরকে সাহায্য করা এবং অ্যামেচার রেডিও নিয়ে গবেষণা করা ।
আমরা যদি এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের দেশের সাথে তুলনা করি , তাহলে বলা যায় যে, আমরা অন্যান্য দেশের থেকে প্রযুক্তি ও দক্ষ লোকবলের দিক থেকে যথেষ্ট এগিয়ে আছি । কারণ আমাদের দেশে ইকোলিংকে সংযুক্ত যে রিপিটারটি আছে , সেটি ২৪ ঘন্টা ইন্টারনেটে সংযুক্ত আছে একটি আইএসপি-র অফিসে এবং সেই আই্এসপি এর মালিক নিজে একজন হ্যাম এবং তিনি বা্ংলাদেশের হ্যামদের থেকে কোন অর্থ নেন না এই সেবা দেয়ার বিনিময়ে । আর বাংলাদেশের হ্যামরা সবসময়ই কেউ না কেউ ব্যান্ডে থাকে । তারা সবসময়ই নিজেদের মধ্যে নানা বিষয়ে কথাবর্তা বলে , এমন কোনো দিন নেই যেদিন ব্যান্ডে ১০-১২ টা বিদেশী স্টেশন আসে না । বিদেশের প্রত্যেকটি দেশের হ্যামদের কাছে সিয়েরা ২১ ল্যান্ড (বাংলাদেশের কলসাইন S21 দিয়ে শুরু , তাই বাংলাদেশকে সিয়েরা ২১ ল্যান্ড বলা হয়) খুবই জনপ্রীয় । কারণ হচ্ছে , যখনই কোন বিদেশী স্টেশন আমাদের দেশের ইকোলিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্টেশনের সাথে কথা বলতে চায় , তখন অবশ্যই কেউ না কেই তাদের উত্তর দেয় । বিদেশী স্টেশনগুলো অনেক সময়ই বাংলাদেশের স্টেশনগুলোর সাথে কথা বলে হ্যাম রেডিও সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশী হ্যামদের সাহায্য নেয় । এসবই হয় ইংরেজী ভাষায় , এতে করে আমাদের ইংরেজী ভাষার চর্চাটাও খুব বেশী হয় , যা আমাদের জন্য একান্ত দরকার । আমাদের দেশে হ্যামরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রেডিও সিগন্যাল পাঠাচ্ছেন বহনযোগ্য রিপিটার ব্যবহার করে , যেগুলো বাংলাদেশী প্রযুক্তিতে অতি সামান্য অর্থ ব্যয় করে হাতে তৈরি করা হয়েছে ।
শুধু একবার ভাবুন , বসে আছেন একাকী , হাতে কোন কাজ নেই । তখন যদি আপনি বিনা খরচে বসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জাতির ও ভাষার মানুষের সাথে কথা বলতে পারছেন , তখন ব্যাপারটা কেমন হবে ??? অথবা যখন কোন স্পেস স্টেশন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় স্পেস স্টেশনে অবস্থানকারী নভোচারী হ্যাম বাংলাদেশী হ্যামদের ডাকে , তখন যদি আপনি তার ডাকে সাড়া দেন , কেমন মজা হবে ??? সুতরাং আর দেরী না করে এখনই বিটিআরসি-র ওয়েবে http://www.btrc.gov.bd দেয়া নির্দেশাবলী অনুযায়ী আবেদন করে লাইসেন্স নিয়ে হয়ে যান বাংলাদেশের একজন গর্বিত অ্যামেচার রেডিও ব্যবহারকারী !!!
যেহেতু  বাংলাদেশ বি,টি,আর,সি নতুন করে লাইসেন্স দিচ্ছেনা আগ্রহীরা আওয়াজ দিতে পারেন s21hq@barl.org এই ঠিকানায় ।
আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন বাংলাদেশ আমেচার রেডিও লীগ এর ওয়েবসাইট http://www.barl.org অথবা ফেসবুক গ্রুপ জয়েন করতে পারেন Bangladesh Amateur Radio League (BARL) ।

6 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ