ইউআরএল এর প্রাথমিক পোষ্টমর্টেম |

12
366
ইউআরএল এর প্রাথমিক পোষ্টমর্টেম |

রুপালি গিটার

জনারণ্যের বিশাল এই পৃথিবীতে ভীষণ নির্জন আর একাকী একজন পথিক। প্রতিনিয়ত পথ হাঁটছি জীবনের প্রয়োজনে। অভিনয় করে যাচ্ছি ভালো থাকার। প্রতিনিয়ত শিখছি একটু একটু করে। ভীষণ ছোট্ট একটা জগত আমার। প্রযুক্তির অসাধারণ অগ্রযাত্রা আর বিশ্বায়নের এই যুগে নিজের চরিত্রটাকে বড্ড বেমানান লাগে। তবুও, পথ চলি অবিরাম। নতুন কোন সুন্দর আলো ঝলমলে সোনালী প্রভাতের প্রতিক্ষায়।
ইউআরএল এর প্রাথমিক পোষ্টমর্টেম |

ইন্টারনেট এক সীমাহীন তথ্য প্রবাহের নাম। বিশাল এই দ্রুত পরিবর্তিত জগতে প্রত্যেক নেট এক্সেসকারীর নির্দিষ্ট ঠিকানার প্রয়োজন পড়ে। আজকে আমি বলবো সেই ইন্টারনেট ঠিকানার অতি পরিচিত একটি অংশের আদ্যোপান্ত। ইউআরএল বা ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর মোট চারটি ভাগে বিভক্ত।

১- – প্রটোকল
২- – হোস্টনেম
৩- – ফোল্ডারনেম
৪- – ফাইলনেম

*** ১== প্রটোকল হলো একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য যোগাযোগের জন্য প্রণীত আচরণবিধি। ওয়েব পেইজ তৈরী করার পর তাকে কোথাও সংরক্ষন করতে হয়। হতে পারে সেটা আমাদের নিজস্ব কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে। কিংবা কোন সার্ভারে। প্রটোকলের মাধ্যমে সেই সংরক্ষিত স্থান নির্দেশ করা হয়। বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিভিন্ন রকমের প্রটোকল অনুসরণ করা হয়ে থাকে। এবার আমি কয়েক প্রকার প্রটোকলের কথা সবাইকে বলব।

# গোফার://
এই প্রটোকল গোফার সার্ভারকে অনুসরণ করে। তাই এই প্রটোকলের নামও সেই অনুযায়ী রাখা হয়েছে। গোফার সার্ভার সমূহ টেলনেট বা গোফার ক্লায়েন্ট বরাবর প্রবেশ করতে পারে। ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে গোফার সমর্থন করে এ’জাতীয় সফটওয়্যার থাকলে তবেই এর সুবিধা পাওয়া সম্ভব। সাধারণভাবে কোন সংগঠন কিংবা গোষ্ঠী তাদের কাজের সুবিধার্থে এই পদ্ধতি বেছে নেয়। সাধারণত ডেটাবেজ পরিচালনা, ক্যাটালগ ম্যানেজমেন্ট, নিউজ এজেন্সিগুলোর তথ্যাদি বিনিময় ইত্যাদি কাজে এই প্রটোকল ব্যবহার করা হয়। একটি সিঙ্গেল মেনু সিস্টেম ট্রেস করে একটি গোফার ক্লায়েন্ট থেকে যেকোন গোফার সার্ভারে প্রবেশ করা যায়।

#ফাইল:///
এই প্রটোকলটি লোকাল হার্ডডিস্ক ড্রাইভকে নির্দেশিত করে। এর মধ্যে তিনটি স্ল্যাশ চিহ্ন বসে। তৃতীয় স্ল্যাশের পরে শুধুমাত্র ওয়েব ডকুমেন্টের নাম বসিয়ে দিলেই হয়। কারণ হয়তো এটাই যে, তৃতীয় স্ল্যাশ চিহ্নটি হোস্টনেমকে প্রতিস্থাপিত করে।

# এফটিপি://

এর পুরো নাম হলো ফাইল ট্রান্সফার প্রটোকল। এই প্রটোকল সার্ভারকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। এই প্রটোকলটি টিসিপি/আইপি এর অংশ। এর মাধ্যমে সার্ভার থেকে বিভিন্ন ওয়ার্কষ্টেশনে তথ্যাবলী ত্রুটিমুক্তভাবে প্যাকেট অবস্থায় সঞ্চালিত করা যায়।

# এইচটিটিপি://
আমাদের সবার অতি পরিচিত একটি প্রটোকল এটি। এর পুরো নাম হলো হাইপার টেক্সট ট্রান্সফার প্রটোকল। এই প্রটোকলে ডটের পর দু’টি স্ল্যাশ চিহ্ন বসে। এরপর বসে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, তারপর বসে ডট। ইন্টারনেটে টিসিপি/আইপি প্রটোকলের মাধ্যমে ওয়েব সার্ভার এবং ওয়েব ক্লায়েন্টের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে এই প্রটোকল ব্যবহার হয়ে থাকে। হাইপার টেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুইজ এর মাধ্যমে তৈরী ডকুমেন্টকে ব্রাউজারের মাধ্যমে কল করার/উপস্থাপন করার পরিবেশ প্রদানে সহায়তা করে। আরএফসি-১৯৪৫ এর মতে এইচটিটিপি হলো তথ্য বিতরণযোগ্যতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতামূলক হাইপার তথ্য পদ্ধতি সংবলিত একটি এ্যাপ্লিক্যাশান পর্যায়ের প্রটোকল। ওয়েব পেইজের বিভিন্ন লেয়ারে ইজি এক্সেস এবং চমৎকার গতিময়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারনেটভিত্তিক সমর্থন রয়েছে এই জাতীয় প্রটোকলে। এই প্রটোকল তথ্য পরিবেশন করে থাকে চোখ ধাঁধানো এবং মুগ্ধ করার মতো বিবিধ উপাদানে সাজিয়ে, ব্যবহারকারীর অভিরুচি অনুযায়ী। এমআইএমই এর অন্যতম সহায়ক বলা হয় এই প্রটোকলকে।

এইচটিটিপি ০৯ ও ১.০ এই সংস্করণটির মাধ্যমে ১৯৯০ সাল থেকে ওয়েব জগতে অভিষেক ঘটে এই প্রটোকলের। ১৯৯৫ সাল নাগাদ অধিকাংশ ওয়েব ব্রাউজার এর সাপোর্ট প্রদান করতে শুরু করে। তৎসময়ই আরএফসি-১৯৪৫ এর মাধ্যমে প্রটোকলটির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নিরূপিত হয়। এবং এমআইএমই সুবিধা প্রদান করা হয়।

এইচটিটিপি ১.১ ও এস-এইচটিটিপি। এই সংস্করণে ব্রাউজার এবং সার্ভারের মধ্যে যোগাযোগের জন্য আরো অধিকতর সুবিধা দেয়া হয়। একক টিসিপি/আইপি সংযোগের মাধ্যমে নানা ধরণের অবজেক্ট সঞ্চালন, ব্রাউজারের ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সুবিধা প্রদান এবং ডাউনলোডের ক্ষেত্রে অধিকতর দ্রুত গতি আনয়নের ব্যাপারগুলো ছিলো এই সংস্করণের উল্লেখযোগ্য দিক। আরএফসি -২০৬৮ এর দ্বারা এই সংস্করণের যাবতীয় ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। এস-এইচটিটিপি হলো এইচটিটিপি এর সংরক্ষিত এবং নিরাপদ সংস্করণ। অসাধারন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে বলেই হয়তো এর কিছু ভয়াবহ ধরণের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আর তাই, অবাধ প্রবেশযোগ্যতা প্রদান করার কারণেই হয়তো আমাদের কাছে এইচটিটিপিই অধিক জনপ্রিয়।

# মেইলটো:
একটি উইন্ডোধর্মী প্রটোকল। এতে ( //)বসে না। বর্তমানে প্রচলিত অধিকাংশ ব্রাউজার এই প্রটোকল অনুসরণ করতে পারে। তা স^ত্ত্বেও এই প্রটোকলটি আদর্শ কিংবা অফিসিয়াল প্রটোকল নয়। এই পদ্ধতিতে একটি সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় ই-মেইল পাঠানো যায়।

# নিউজ:
কোন সংবাদ সংস্থা বা কোন নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রাহক দলের সাথে সংযোগ রক্ষায় এই প্রটোকল ব্যবহার করা হয়। এতে ( // )ব্যবহার হয় না।

# টেলনেট://
এ’টি একটি পাবলিক-সুইচড নেটওয়ার্ক সিস্টেম। এই পদ্ধতিতে একটি সুনির্দিষ্ট হোষ্টের সাথে যোগাযোগ করা হয়ে থাকে।

# ওয়াইস://
ওয়াইসের সম্পূর্ণ নাম হচ্ছে ওয়ার্ল্ড এরিয়া ইনফরমেশন সার্ভার । ওয়াইস ডেটাবেজের সাথে সংযোগের ক্ষেত্রে এই প্রটোকল ব্যবহার করা হয়। এই প্রটোকল এক্সেসের জন্য ব্যবহারকারীর ওয়াইস ক্লায়েন্ট ইনস্টল করে নিতে হয়।

***২== হোস্টনেম: হোস্টনেম হলো যে নামে সার্ভারে কোন ডকুমেন্ট এবং এর সাথে সম্পর্কিত ফাইল সমূহ সংরক্ষিত থাকে।

***৩== ফোল্ডারনেম : একটি ওয়েব পেইজের যাবতীয় টেক্সট, ছবি,শব্দ ইত্যাদি সবকিছু সুন্দরভাবে গুছিয়ে, একটি নির্দিষ্ট ডিরেক্টরী কিংবা ফোল্ডারে রাখা হয়। এই ফোল্ডারের নামকরণ করা হয় কিছু নিয়মের ভিত্তিতে। যেমন-

১- বর্ণ আপারকেস-লোয়ারকেস যুক্ত হতে পারে। দু’টি শব্দের মাঝ কোন গ্যাপ না রাখা বাঞ্ছনীয়।
২- সংখ্যাবাচক প্রতীক।
৩- বিভিন্ন সাংকেতিক সাইন।

***৪== ফাইলনেম হচ্ছে নির্দিষ্ট কোনো ওয়েব পেইজের নাম। ওয়েব পেইজ সমূহের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ফাইলনেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোন ওয়েব পেইজ তৈরীর ক্ষেত্রে প্রতিটি ফাইলের এক্সটেশান জরুরী একটি বিষয়। ওয়েব পেইজের ক্ষেত্রে প্রদর্শনযোগ্য ফাইলনেম এক্সটেশান হতে হবে এইচটিএমএল অথবা এইচটিএম।

ইউআরএল দুই প্রকারঃ

১- এবসলিউট ইউআরএল বা পরমমাত্রাযুক্ত ইউআরএল
২- রিলেটিভ ইউআরএল পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত ইউআরএল

**এবসলিউট ইউআরএল এর মধ্যে উক্ত ইউআরএল এর প্রটোকল, নির্দেশনা, হোস্টনেম, ফোল্ডারনেম, ইত্যাদি সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত থাকে। এই ধরনের ঠিকানা অনেকটা পোষ্টাল সার্ভিসের মতো। কোন বিশেষ ঠিকানায় চিঠি পাঠাতে হলে প্রাপকের নাম, বাড়ী ও সড়ক নাম্বার, শহরের নাম ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। এর কোন একটি না থাকলে ডাকবিভাগ উক্ত চিঠি যথাস্থানে পাঠাতে ব্যর্থ হবে। ঠিক তেমনিভাবে এবসলিউট ইউআরএল অসম্পূর্ণ হলে কোন নির্দিষ্ট ওয়েব পেইজে প্রবেশ অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই এ্যাড্রেসে প্রটোকল, নির্দেশনা, হোস্টনেম, ফোল্ডারনেম, ইত্যাদি মিলে একটি বাস্তব এবং সুনির্দিষ্ট পাথ তৈরী করে।

**রিলেটিভ ইউআরএল সম্পর্কযুক্ত ইউআরএল হলো কোন একটি পেইজের সেটের মধ্যে আন্তঃসংযোগ গড়ে তোলার বিশেষ পদ্ধতি। এই জাতীয় ইউআরএল এর জন্য ফোল্ডারনেম, ফাইলনেম, অথবা ফাইলের আওতাধীন কোন অবস্থানের নাম ব্যবহার করলেই যথেষ্ঠ হয়।

তথ্য সহযোগীতাঃ-

*html 4.0 by kamrul hayder

*imternet

12 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ