পরিবেশবান্ধব ‘বন্ধু’ চুলার ব্যবহার

0
48

 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আদমপুর গ্রামের নিলুফা বেগম দীর্ঘ দিন ধরে ভুগছিলেন হাঁপানিতে। ২০১৩ সালের মাঝামাঝিতে তার কাছে হঠাৎ করেই বন্ধু হয়ে এলো ‘বন্ধু’ চুলা। শুরু হয় রান্নাঘরে নিলুফার ধোঁয়া ও দূষণমুক্ত জীবন। চুলা ব্যবহারের কয়েক মাসের মধ্যে তার হাঁপানি প্রশমন হতে থাকে। এখন পুরোপুরি সুস্থ তিনি
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ হাঁপানি রোগে ভুুগছেন। এর মধ্যে
এক-তৃতীয়াংশ মানুষ রান্নাঘরের ধোঁয়াজনিত কারণে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর দেশে ধোঁয়াজনিত বিভিন্ন রোগে ৫০ হাজার নারী ও শিশু মৃত্যুবরণ করছে। আশঙ্কাজনকভাবে এর মাত্রা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
বন্ধু চুলার উদ্যোক্তরা জানান, ধোঁয়াজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পেতে ২০০৭ সাল থেকে চালু হয়েছে পরিবেশবান্ধব বন্ধু চুলা। বর্তমানে সারা দেশে ১৫ লাখ পরিবার এ চুলা ব্যবহার করছে। জ্বালানি সাশ্রয়ী এ চুলার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
বগুড়া ও গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিন ঘুরে বন্ধু চুলার ব্যবহারে বিপ্লব লক্ষ করা গেছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কাঁটাখালী ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের ১৮৮টি পরিবার পরিবেশবান্ধব বন্ধু চুলা ব্যবহার করছে ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর থেকে। গৃহিণী এমিলি, সাবিনা ইয়াসমীন, রেনু বেগম জানালেন, বন্ধু চুলার উপকারিতার কথা। তারা বলেন, কালি, ধোঁয়ামুক্ত রান্নাঘর তাদের মুক্তি দিয়েছে নিত্যদিনের যন্ত্রণা থেকে। রান্না হচ্ছে দ্রুত, সাশ্রয় হচ্ছে জ্বালানি।
উদ্যোক্তারা জানান, বন্ধু চুলা একটি উন্নত চুলা। এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনে এবং সহজলভ্য উপকরণে তৈরী। ছাঁকনি, চিমনি এবং টুপি এই চুলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছাঁকনির ওপর জ্বালানি পোড়ানো হয়। ধোঁয়া চিমনি দিয়ে ঘরের বাইরে চলে যায়। বন্ধু চুলার আগুনের তাপ বেশি কাজে লাগে। ফলে কম জ্বালানিতে তাড়াতাড়ি রান্না হয়। বন্ধু চুলা একমুখী কিংবা দুইমুখী হয়ে থাকে। প্রয়োজনে বন্ধু চুলা সম্পূর্ণ বা অর্ধেক মাটির ওপরে বানানো যেতে পারে। বর্তমানে বন্ধু চুলা কংক্রিট এবং পোড়ামাটির সংস্করণেও পাওয়া যাচ্ছে।
বন্ধু চুলার বৈশিষ্ট্যÑ প্রচলিত চুলার চেয়ে অর্ধেক জ্বালানি ব্যবহার হয়। ।