ফেসবুক শপ বনাম ইকমার্স শপ – কোনটি ভালো? তৃতীয় কোন বিকল্প আছে কি?

0
49
ফেসবুক শপ বনাম ইকমার্স শপ - কোনটি ভালো? তৃতীয় কোন বিকল্প আছে কি?

kizir007

নাম মীর আযহার আলি। পেশায় একজন ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট। পাশাপাশি অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও অন্যান্য বিষয়ে ব্লগে লেখালেখি করছেন। সাম্প্রতিক বিশ্বে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটি বিষয়ে তিনি আপডেট থাকতে পছন্দ করেন। তার বিভিন্ন লেখাগুলো পড়ার জন্য ঘুরে আসতে পারেনঃ http://www.forexing24.com/ ব্লগ থেকে।
ফেসবুক শপ বনাম ইকমার্স শপ - কোনটি ভালো? তৃতীয় কোন বিকল্প আছে কি?

ফেসবুক শপ বনাম ইকমার্স শপ - কোনটি ভালো? তৃতীয় কোন বিকল্প আছে কি?

ইদানিং অনলাইন ব্যবসায়িরা ফেসবুক শপ কিংবা অনলাইন ইকমার্স সাইট – এই দুটির যেকোনো একটি বেছে নিচ্ছেন। অনেকেই আবার উভয় প্ল্যাটফর্মে বিজনেস করছেন। কিন্তু কোনটা আসলে ভালো? এটা নিয়ে অনেকেই আমরা কনফিউশনে ভুগি। তাই সকলের কনফিউশন দূর করতে আমার আজকের এই পোষ্ট। 

ফেসবুক শপ বনাম ইকমার্স ওয়েবসাইট

আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে অনলাইনে যে কোন ব্যবসা বা পণ্যের প্রমোশনের জন্য ফেসবুক খুবই কার্যকরী একটি মাধ্যম। যে কোন ব্যবসার ফেসবুক পেইজ মূলত একটি প্রমোশনাল  টুল হলেও স্বল্প পূঁজির ক্ষুদ্র এবং মাঝারী ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রয়ের প্রথম এবং প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক পেইজই ব্যবহার করে থাকেন।

কিন্তু অনলাইনে পণ্য বিক্রয়ের প্রধান মাধ্যম হলো নিজের ব্র্যান্ডের একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট। ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধির সাথে সাথে তাকে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার স্বার্থে নিজের ওয়েবসাইটের কথা চিন্তা করতে হবে। আর ফেসবুক পেইজে ব্যবসা করার থেকে নিজের ওয়েবসাইটে ব্যবসা করার মধ্যে কিছু সুবিধাও আছে বৈকি। চলুন দেখে নেই কেন ইকমার্স শপ অধিক সুবিধাজনক।

কেন ইকমার্স সাইট বেশি সুবিধাজনক?

১. ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ

হাজার হাজার ফেসবুক পেইজের ভীড়ে নিজের আরেকটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় না। আপনার ব্যবসার জন্য ফেসবুক নিজেই একটি থার্ড পার্টি অ্যাপলিকেশন যেখানে আপনার ব্যবসার ঠিকানায় ফেসবুকও যুক্ত থাকে। আর নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই ইন্টারনেট জগতে আপনার ঠিকানা হবে একটিই, যেটি আপনার ডোমেইন নাম। বিশ্বের নামীদামী কোন ব্র্যান্ডই ফেসবুকের মাধ্যমে কেনাবেচা করে না, কারণ ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে নিজস্ব ওয়েবসাইটের কোন বিকল্প নেই।

২. ক্রেতা সাধারণের আস্থার অর্জন

একই পণ্যের বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ ভিজিট করে ক্রেতা সাধারণ খুব সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। আর ফেসবুক পেইজ তৈরি করে ব্যবসা শুরু করে দেয়া এতই মামুলি কাজ যে ক্রেতারা সবসময় সেই ফেসবুক পেইজের উপর আস্থা রাখতে পারেন না। উলটো দিকে বিক্রেতার নিজের একটি ওয়েবসাইট ক্রেতাকেও সেই বিক্রেতা সম্পর্কে পজিটিভ ভাইব দেয়, ওয়েবসাইট যেহেতু বিক্রেতার জন্য একটি বিনিয়োগ খাত, সেক্ষেত্রে বিক্রেতার সিরিয়াসনেস এবং জেনুইনটি ক্রেতার কাছে প্রকাশ পায়।

৩. পণ্য প্রদর্শনের সুন্দর ব্যবস্থা

ফেসবুক পেইজে হরেক রকম পণ্য প্রদর্শনের যথাযথ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। যদিও এখন ফেসবুকের শপ ট্যাব আছে তবে তা একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া ফেসবুকে অনেক আগের পণ্য খুঁজে পাওয়াও মুশকিল, ফেসবুক পেইজে সবসময় নিউজফিডের শুরুর দুইএকটি পোস্ট বা পণ্য হাইলাইটেড থাকে। সকল ব্যবসার ফেসবুক পেইজই একই রকম দেখতে হয়। অন্য দিকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ক্যাটাগরি এবং সাব-ক্যাটাগরি করে পণ্য তুলে ধরা যায়। বিভিন্ন পণ্য এবং কালেকশন ক্রেতার কাছে হাইলাইট করতে প্রচুর অ্যাড অপশন থাকে যা ক্রেতার জন্য পণ্য ব্রাউজিংয়ে খুবই সহায়ক। এছাড়া নিত্যনতুন ওয়েবসাইট থিমের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে পণ্য আরো আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা যায়।

৪. অনলাইনে সরাসরি পেমেন্টের ব্যবস্থা

ফেসবুক পেইজে বিক্রি করলে আপনার কাস্টমার থেকে অনলাইন পেমেন্ট গ্রহণ করা অসম্ভব। আর অনলাইন পেমেন্টের অপশন না থাকলে অনেক সচেতন ক্রেতাই আপনার পণ্য ক্রয়ে হতাশ হতে পারেন। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই ক্রেতার কাছ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। আর যে কোন অনলাইন পেমেন্ট ট্রান্সেকশন খুব সুন্দর ভাবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ট্র্যাকিং করা যায়।

৫. ক্রেতার প্রোফাইল রাখা এবং ট্র্যাক করা

ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে যখন আপনি ব্যবসা করেন তখন প্রতিটি ক্রেতার প্রোফাইলিং করা আপনার পক্ষে সম্ভব হয় না। ক্রেতাও পেইজ থেকে কিছু কিনলে তার কোন রেকর্ড থাকেনা। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে আপনি কাস্টমার ডেটাবেইজ তৈরি করতে পারেন। আবার কাস্টমারও রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নিজেদের ড্যাশবোর্ড পান যেখান থেকে তিনি সকল কেনাবেচার তথ্য দেখতে পারেন, বিক্রেতা থেকে নিয়মিত পণ্যের আপডেট পেতে পারেন।

৬. অটোমেটেড বিজনেস, ম্যানুয়াল কোন কাজের প্রয়োজন নেই

ফেসবুক পেইজে ব্যবসা করা মানেই একটি সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল প্রসেস। পণ্যের ইনভেন্টরি থেকে শুরু করে কেনাবেচার হিসাব, পেমেন্ট, অ্যাকাউন্টস, কাস্টমার ডেটাবেইজ, অর্ডার প্রসেস, সিআরএম ইত্যাদি সবই কষ্ট করে সময় নিয়ে হাতে কলমে বা তৃতীয় কোন সফটওয়্যারের মাধ্যমে করতে হয়। কিন্তু ওয়েবসাইটের ব্যাকএন্ডে এই ধরণের প্রসেসগুলো অটোমেটেড উপায়ে ম্যানেজ করা যায় খুব সহজেই। ব্যবসার সার্বিক অবস্থা অটোমেটেড রিপোর্টিং এর মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব ওয়েবসাইট থাকলে, এর ফলে ব্যবসার সঠিক ট্রাকিং হয়, সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়। সময় এবং কষ্ট দুটোই কম লাগে।

ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা

কিন্তু একটা ভালো মানের ইকমার্স সাইট তৈরি এবং রক্ষনাবেক্ষন করা চাট্টি খানি কথা নয়। আপনি নিজে যদি ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ জানেন, তাহলে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে একটা ডোমেইন-হোস্টিং সার্ভিস নিয়ে বিজনেস স্টার্ট করে দিতে পারেন। তবে যদি নিজে কাজ না জানেন, সেক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হবে ভালো কোন এজেন্সি থেকে টোটাল ওয়েবসাইট তৈরির কাজ করাতে গেলে। এত টাকা শুরুতেই ইনভেস্ট করা মুশকিল। তবে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই, এই সমস্যারও সমাধান রয়েছে। আসুন দেখি কি সেই সমাধান।

তৃতীয় বিকল্প – ইকমার্স ভেন্ডর প্রোগ্রাম

যারা এই মুহূর্তে অনেকগুলা টাকা খরচ করে ইকমার্স সাইট চালু করতে পারছেন না, তারা বিভিন্ন মাল্টি ভেন্ডর ইকমার্স সাইট এর আন্ডারে একটা মার্চেন্ট একাউন্ট করে ইজিলি বিজনেস করতে পারছেন। বিষয়টা আর একটু বুঝিয়ে বলছি – ধরুন, আমার একটা ইকমার্স সাইট আছে। আমি এই সাইটে নিজে কোন পন্য বিক্রি করি না। আমার সাইটে আমি মার্চেন্ট একাউন্ট করার অপশন রেখেছি। ফলে যে কেউ এসে একটা মার্চেন্ট একাউন্ট ওপেন করতে পারছে। তারা একাউন্ট করার পর তাদের আমি একটা নির্দিষ্ট স্থান দিচ্ছি আমার সাইটের আন্ডারে বিজনেস করার। এখানে তারা নিজেদের পন্য ডেসক্রিপশন, বিলিং, শিপিং ইনফো- সব দিতে পারবেন। ধরে নিলাম আমার সাইটের নাম ছিলো- bestonlineshop.com, এখানে এক মার্চেন্ট একাউন্ট করেছেন যার শপের নাম হচ্ছে – বিগবাজার। তাহলে তার শপের নাম হবে- bestonlineshop.com/bigbazar. এই এড্রেসে গেলে যে কেউ ঐ মার্চেন্ট এর সাজানো পন্য গুলো দেখতে পাবে। ফলে এই এড্রেসটি ঐ মার্চেন্ট এর জন্য ওয়েবসাইটের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। নিশ্চয়ই প্রস্ন জাগছে – এতে করে ঐ প্ল্যাটফর্ম প্রভাইডার এর লাভ কি? লাভ হচ্ছে – কমিশন। প্রত্যেক সেল থেকে ওরা একটা নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন নেবে। তবে আঁতকে ওঠার কোন কারণ নেই, এই কমিশনের পরিমান একেবারেই নগণ্য।

কোথায় ভেন্ডর একাউন্ট করবেন?

বাংলাদেশে বেশ কিছু সাইট রয়েছে যেগুলো ভেন্ডর প্রোগ্রাম দিচ্ছে। এই প্রোগ্রামের আওতায় আপনি নিজে তাদের প্ল্যাটফর্মে একটা সাইট ক্রিয়েট করে বিজনেস শুরু করে দিতে পারবেন। এসব সার্ভিসের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অফার দিচ্ছে টপঅলব্র্যান্ড। তাদের আছে ফ্রি অনলাইন শপ প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের আওতায় তাদের ইকমার্স প্লাটফর্ম ব্যবহার করে যে কোন অনলাইন উদ্যোক্তা কোন ধরণের কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই নিজেই নিজের একটি ভেন্ডর সাইট তৈরি করতে পারবেন সবচেয়ে সহজে, সবচেয়ে কম সময়ে এবং সবচেয়ে সাশ্রয়ী খরচে। বিস্তারিত জানুনঃ ফ্রি অনলাইন শপ প্রোগ্রাম। এছাড়াও বাংলাদেশে আরও বেশ কিছু মাল্টি ভেন্ডের ইকমার্স প্ল্যাটফর্ম কাজ করে চলেছে। এই গুলো হোল – আজকের ডিল, দারাজ, স্টোরিয়া ইত্যাদি। আপনি চাইলে ইন্টারন্যাশনাল কিছু প্ল্যাটফর্মে একদম ফ্রি তে সাইট বানিয়ে দেশের বাইরে আপনার পন্য রপ্তানি করতে পারবেন।  এই রকম কিছু সাইট হোল – শপিফাই, বিগকমার্স ইত্যাদি। 

ধন্যবাদ পোষ্টটি পড়ার জন্য। ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করবেন। 

একটি উত্তর ত্যাগ