জানেন কি স্পীড বুস্টার অ্যাপস, র‍্যাম বুস্টার অ্যাপস, মেমোরি ক্লিনার, সি-ক্লিনার অ্যাপস আপনার ফোনকে ধ্বংস করে দিতে পারে?  FavoriteLoadingবুকমার্ক

বন্ধুরা জানেন কি প্লে স্টোরে যতো গুলো অ্যাপস আছে যারা এটা দাবি করে যে, আপনার ফোনের র‍্যাম বুস্ট করে দেবে, মেমোরি বুস্ট করে দেবে বা স্পীড বুস্ট করে দেবে সেগুলো আপনার কখনোও ব্যবহার করা উচিৎ নয়। কারন এই অ্যাপস গুলো উল্টা আপনার ফোন খারাপ করে ফেলতে পারে। আমি একদমই মজা করছি না। আপনি এই পোস্টটি পড়তে থাকুন আর আমি আপনাকে বলবো যে এরকমটা কেন হয়ে থাকে।

কীভাবে স্পীড বুস্ট অ্যাপস আপনার ফোনের জন্য ক্ষতিকর?

কীভাবে স্পীড বুস্ট অ্যাপস আপনার ফোনের জন্য ক্ষতিকর? জানেন কি স্পীড বুস্টার অ্যাপস, র‍্যাম বুস্টার অ্যাপস, মেমোরি ক্লিনার, সি-ক্লিনার অ্যাপস আপনার ফোনকে ধ্বংস করে দিতে পারে?

বন্ধুরা বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশের আগে বলতে চাই যে আপনাদের কাছ থেকে আমার কাছে অনেক মেইল আসে এবং ম্যাসেজ আসে এবং আপনারা জানতে চান যে আপনার ফোনের স্পীড বুস্ট করার জন্য বা র‍্যাম বুস্ট করার জন্য কোন অ্যাপস বেশি ভালো হবে। তো আমি সর্বদায় আপনাদের বলে থাকি যে ফোনের স্পীড বুস্ট করার জন্য কোন বিশেষ অ্যাপস ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার ফোন যেভাবে নরমালি ব্যবহার করেন সেভাবে ব্যবহার করুন। আপনার কাজের যেসব অ্যাপ্লিকেশান আছে সেগুলো ডাউনলোড করে ব্যবহার করুন। অকাজের অ্যাপস ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেই। ফোনের উপর কোন বার্তি লোড প্রদান একেবারেই করার প্রয়োজন নেই। আর বদলে আপনার ফোন ঠিকঠাক ভাবে চলতে থাকবে।

আপনি কি কখনো নোটিশ করেছেন যে বড় বড় যারা টেক রিভিউয়ারস রয়েছেন তারা কিন্তু কখনোই আপনাকে কোন স্পীড বুস্ট অ্যাপস ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন না। আমি নিজেও আমার ফোনে কখনোও একটিও র‍্যাম বুস্টিং বা মেমোরি ক্লিনিং বা স্পীড বুস্টিং অ্যাপ ব্যবহার করিনি। এবং আপনারও ইন্সটল করার একদমই প্রয়োজন নেই, এবং আমি আপনাকে বলবো এর কারন কি।

চলুন একটি বাস্তব উদাহরনের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। তো মনে করুন একটি দোকান রয়েছে। এবং সেই দোকানের এমন সিস্টেম যে আপনি যদি কিছু সেখান থেকে কিনতে চান তবে আপনাকে কাউন্টারে যেতে হবে এবং দোকানের মালিক নিজে তার সিট থেকে উঠে আপনাকে জিনিষ এনে দেবে। তো এই অবস্থায় যখন কোন কাস্টমার দোকানে আসে এবং জিনিসের জন্য চাহিদা করে তখন দোকানদার উঠে সেই জিনিসটি র‍্যাক থেকে নামিয়ে তাকে দিয়ে দেয়। আবার এভাবে যখন আরেকজন কাস্টমার এসে অন্য কোন জিনিসের চাহিদা প্রকাশ করে তখন সে আবার উঠে তাকে সেই জিনিসটি দিয়ে দেয়। কিন্তু সন্ধ্যা হতে হতে দোকানীর কাছে এমনটা মনে হয় যে, ১ টি অথবা ২ টি জিনিসের অনেক বেশি চাহিদা রয়েছে এবং কমনলি সেটার চাহিদা অনেকেই প্রকাশ করছে। তো পরবর্তী দিন দোকানী তার নিজের কাছে একটি ছোট র‍্যাক স্থাপন করলেন এবং ঐ যে ২ অথবা ৩ আইটেম যেটার বেশি চাহিদা চলছিলো তা সম্পূর্ণ এই র‍্যাকে এনে রেখে দিলেন। যাতে তাকে ঐ জিনিষ গুলোর জন্য বারবার উঠে যেতে না হয় এবং তার কাজ জেনো অনেক সহজ হয়ে যায়। এর মধ্যে কোন কাস্টমারের যদি আলাদা কোন আইটেমের প্রয়োজন পরতো তবে দোকানী মাঝেমাঝে উঠে জেতেন। কিন্তু আগে যে বারবার তার উঠতে হতো তার আর প্রয়োজন পড়ছে না।

এখন বন্ধু মনে করুন গল্পের দোকানটি হলো আপনার ফোনের স্টোরেজ, ছোট র‍্যাকটি হলো আপনার ফোনের র‍্যাম এবং দোকানী হচ্ছেন আপনার ফোনের প্রসেসর। তো গল্প অনুসারে আপনার ফোনের প্রসেসরকে অনেক কম কাজ করতে হয় যখন আপনার বারবার ব্যবহার করা অ্যাপস গুলো র‍্যামে সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু যদি বারবার আপনার র‍্যাম পরিষ্কার হতে থাকে তবে প্রসেসরকে বারবার চাহিদার সময় যেতে হবে স্টোরেজের কাছে।

এবার গল্পে একটু টুইস্ট আনা যাক। মনে করুন ঐ দোকানীর কাছে একটি বালক আসে এবং বলে, “স্যার আমি আপনার সাথে কাজ করতে চাই ফ্রীতে এবং বদলে কাজ শিখতে চাই এবং আমি আপনার দোকান পরিষ্কার করিয়ে দেবো”। তো এই অবস্থায় দোকানী ভাবে, “ওহ আচ্ছা ফ্রী কাজ করবে তো চিন্তা কীসের? বদলে দোকান পরিষ্কার করেও দেবে তো ঠিক আছে কাজে লাগিয়ে দেওয়া যাক”। কাজে যখন রাখা হলো তো পরের দিনে বালক কাজ করতে হাজির হয়ে গেলো। এবং দোকানী যখনই তার কাজ সহজের জন্য কোন আইটেম তার পাশের র‍্যাকে এনে রাখছিলেন ঐ বালক সেটা আবার ঘুরে আসল র‍্যাকে নিয়ে রেখে আসছিলো। আবার দোকানী কোন আইটেম যখনই নিয়ে আসে ঐ বালক আবার ফেরত রেখে আসে।

তো এই গল্পে যে কাজের বালকটি রয়েছে ওইটা হলো আপনার ফোনের স্পীড বুস্ট অ্যাপস বা র‍্যাম ক্লিনার অ্যাপস। স্পীড বুস্ট অ্যাপস আপনার ফোনের র‍্যাম তো পরিষ্কার করবেই কিন্তু বাস্তবিক ভাবে আপনার ফোনের কাজ আরো মুশকিল করে দিচ্ছে। যেমনটা বালকটি দোকানীর কাজ মুশকিল করছিলো। আপনার ফোন যতোবার নতুন করে কোন কাজ করবে আপনার ফোনের ব্যাটারি তোতোই বেশি ক্ষয় হবে। এবং বারবার স্টোরেজ থেকে ফাইল অ্যাক্সেস করতে গিয়ে আপনার ফোনের অ্যাপসও অনেক সময় ধরে লোড নেবে ওপেন হওয়ার জন্য। যদি সেই অ্যাপ ডাটা গুলো আগে থেকেই আপনার র‍্যামে থাকতো তবে সেটা অনেক দ্রুত লোড হতো এবং প্রসেসরের বেশি এনার্জি ক্ষয় করার কোন প্রয়োজন পড়তো না।

বন্ধু আপনি এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন যে আপনার ফোনের অ্যাপ্লিকেশান কীভাবে কাজ করে, ফোনের র‍্যাম কীভাবে কাজ করে। এবং আপনি এটাও নিশ্চয় বুঝে গেছেন যে আপনার দোকানে কেন ঐ বালকের দরকার নেই যে ফ্রীতে আপনার দোকান পরিষ্কার করে দেবে। যাই হোক বন্ধুরা আপনাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা ফোনের মধ্যে কোন ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস চলতে থাকাকে একদম পছন্দ করেন না। তো তারা বারবার প্রবেশ করে রিসেন্ট অ্যাপে এবং সয়াইপ করে পরিষ্কার করতে করতে দিনের ২-১ ঘণ্টা নষ্ট করে ফেলেন। এটি করার ফলে আপনার ফোনের দক্ষতা এবং ব্যাটারি লাইফ দুইটিই কমে যাবে, বিশ্বাস করুন আমাকে। আপনার ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে যদি কোন অ্যাপ পড়ে থাকে তবে তা আপনার ফোনের জন্য কোন ক্ষতিকর বিষয় নয়। কারন আপনি যখন আবার সেটি ব্যবহার করবেন তখন সেটা আপনার সামনে প্রদর্শন করতে প্রসেসরকে অনেক কম কাজ করতে হবে। এবং আপনি অনেক দ্রুত ওপেন হওয়া লখ্য করতে পারবেন। কিন্তু ঐ অ্যাপস যদি আবার একদম গোঁড়া থেকে ওপেন হতে শুরু করে, আবার র‍্যামে ডাটা লোড হয়, আবার প্রসেসর নতুন করে প্রসেস শুরু করতে চায় তবে কি হতে পারে একটু আপনি নিজেই কল্পনা করুন।

তো এই জন্যই বন্ধুরা সারাদিন আপনি যে ফোনের অ্যাপস ক্লিন করতে থাকেন সয়াইপ করতে করতে বা অমুক তমুক র‍্যাম ক্লিনার বা স্পীড বুস্ট অ্যাপস লাগিয়ে সেগুলো করা বন্ধ করুন। এতে আপনার ফোনের প্রতি একটি নেগেটিভ প্রভাব পড়বে। আপনি সাধারনভাবে আপনার ফোন ব্যবহার করতে থাকুন, আপনার কখনোই এই সকল অ্যাপস ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। দেখুন আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার বা অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম তো আপনার ফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিজে থেকেই র‍্যাম কীভাবে ম্যানেজ করতে হয় সেটা জানে। আপনার ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের যখন যেভাবে প্রয়োজন পড়ে সে অনুসারে র‍্যাম নিজে থেকেই ক্লিন করে নেয় এবং লোডও করে নেয়। তো এর মাঝে আপনাকে লাফিয়ে পড়ে এসকল কাজ করার কোন প্রয়োজন নেই।

তাহলে মিলিয়নস ইউজার স্পীড বুস্ট অ্যাপস কেন ব্যবহার করেন?

তাহলে মিলিয়নস ইউজার স্পীড বুস্ট অ্যাপস কেন ব্যবহার করেন? জানেন কি স্পীড বুস্টার অ্যাপস, র‍্যাম বুস্টার অ্যাপস, মেমোরি ক্লিনার, সি-ক্লিনার অ্যাপস আপনার ফোনকে ধ্বংস করে দিতে পারে?

এখন হয়ত আপনি বলবেন যে ভাই ঠিক আছে আপনার সকল ল্যজিক মেনে নিলাম কিন্তু প্লে স্টোরে যে স্পীড বুস্ট অ্যাপস গুলো কোটিকোটি ডাউনলোড থাকে তো তারা কেন ব্যবহার করে? তো চলুন এতো কিছু যখন বুঝালাম তো এই টুকুও বুঝাই। তো বন্ধুরা এসকল অ্যাপস গুলো এতো বেশি ডাউনলোড হওয়ার আসল কারন হলো মার্কেটিং। দেখুন আপনি যখন ফেসবুক খোলেন বা অন্য কোন ওয়েবসাইট খোলেন তখন আপনার কাছে অ্যাড আসে বা স্পন্সর পোস্ট আসে “আপনার ফোন কি ধিরে চলছে?” তো এই অবস্থায় সব ইউজার এইটাই বলবে যে,  “হাঁ ভাই আমার ফোন তো স্লো কাজ করে”। তো তারা ঐ সকল অ্যাডে ক্লিক করে আর অ্যাপ ডাউনলোড হয়ে যায়। তো এই অ্যাপস গুলো এভাবেই বিস্তার লাভ করে। ওরা আপনাকে প্রশ্ন করে যে, “আপনার ফোন চালাতে গিয়ে আপনি কি পেরেশান হয়ে পড়েছেন? আপান্র ফোন কি স্লো কাজ করছে? তো এটা ডাউনলোড করুন আপনার ফোন ফাস্ট হয়ে যাবে”। এদের কথা দেখে যেকেউই চাইবেন যে আসো ভাই আমার ফোন স্লো তুমি এসে ফোন ফাস্ট করে দিয়ে যাও। কিন্তু অ্যাপ গুলো ক্লিন করতে গিয়ে উল্টা আপনার ফোনের বারোটা বাজিয়ে দেয়।

আর আমি ব্যাক্তিগতভাবে দেখেছি কোন কোন ইউজার তো এটাকে একটি বদ অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে। দেখা যায় যে অনেকে লেটেস্ট ফোন ব্যবহার করছে। কিন্তু তারপরেও সারাদিন রকেটের মতো আইকনে ট্যাচ করতে থাকে আর একটি রকেট সা…… শব্দে উড়ে গিয়ে ফোন ক্লিন করে নিয়ে যায়। অনেকে আবার প্রতিবার ফোনের কাজ শেষে একবার রকেট চালু করে। আবার কেউ তো ফোনের লক স্ক্রিন সরিয়ে রকেট মারে 😀 😛

শেষ কথা

তো বন্ধুরা এটি আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ যে আপনার ফোনে যতো প্রকারের র‍্যাম ক্লিনার আছে, সি ক্লিনার আছে, স্পীড বুস্ট অ্যাপস আছে এগুলো কখনোই ব্যবহার করবেন না। আর ব্যবহার না করার কারন তো আপনাকে বুঝালামই। কারন এতে আপনার ফোনের উপর উল্টা প্রভাব পড়বে। আশা করছি আজকের পোস্টটি বেশ মজাদার ছিল, এবং আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানলেন। তারপরেও যদি আপনি স্পীড বুস্ট অ্যাপস ব্যবহার করতে চান তো কেন করতে চান তা আমাকে নিচে কমেন্ট করে জানান। এবং আপনার যেকোন প্রশ্ন আমাকে নিচে জিজ্ঞাস করতে পারেন।

পূর্বে প্রকাশিত- Techubs

এই জাতীয় আরো টিউন

আপনিও লিখুন মতামতের উত্তর

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × two =