অনলাইনে দ্রুত কাজ করার কিছু টিপস  FavoriteLoadingবুকমার্ক

অনলাইনে কাজ করার ক্ষেত্রে সময় অনেক বেশি গুরুত্বপুর্ন। শুধু অনলাইনে নয় মানুষের জীবনে সব ক্ষেত্রেই সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সময় অপচয় তো দূরের কথা এইযুগে আপনি যদি সবার সমান গতিতে চলেন তাহলেও আপনার সফলতা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারন যেখানে ক্লায়েন্টের একটা নির্দিষ্ট ১০ ঘণ্টার কাজ ২ ঘণ্টায় করে দেওয়ার মত অনেক লোক আছে সেখানে আপনার যদি ১০ ঘণ্টাই লাগে সে আপনাকে কেন কাজ দেবে। অন্যদিকে, কেউ যখন ঐ কাজটা ২ ঘণ্টায় করে তখন নিশ্চয়ই এই কাজটা ২ ঘণ্টায় করার কোন উপায় আছে।

মনে করার কোন অবকাশ নেই যে কেউ হয়তো ঐ কাজে অনেক পটু তাই খুব দ্রুত কাজ করতে পারে। কারন, তাহলে সে হয়তো ১০ ঘণ্টার জায়গায় ৮ ঘণ্টায় পারতো। কখনোই ২ ঘণ্টায় নয়। তাহলে আসল ব্যপারটা কি? চলুন জেনে নেই এমন কিছু বিষয় –

index অনলাইনে দ্রুত কাজ করার কিছু টিপস অনলাইনে দ্রুত কাজ করার কিছু টিপস

কুইক স্টার্ট তৈরি করে রাখুন এবং ব্যবহার করুনঃ

মনে করুন আপনি একজন ওয়েব ডিজাইনার। তাহলে আপনি জানেন যে প্রতিটি এইচটিএমএল প্রজেক্টে কিছু ফাইল এবং কিছু ডাটা থাকে কমন। যেমনঃ প্রতিটি এইচটিএমএল কাজেই index.html এবং style.css থাকে, কয়েকটা ফোল্ডার থাকে ইমেজ, ফন্ট, জাভা স্ক্রিপ্ট ফাইল গুছিয়ে রাখার জন্য। এখন এগুলো দিয়ে আগে থেকেই একটা প্রজেক্ট অরগানাইজ করে রাখুন। নতুন প্রজেক্ট শুরু করার সময় শুধু এটা কপি করেই কাজ শুরু করে দিতে পারবেন। তাতে অনেকটা সময় বেছে যাবে।

যেই কাজই করেন না কেন ঠিক এমন করে আপনার কাজের ফাইল তৈরি করে রাখুন যেন কোন কিছু না গুছিয়েই কাজ শুরু করে দিতে পারেন।

বহুল ব্যবহৃত লেখা সাজিয়ে রাখুনঃ

আপনি যেহেতু একটা নির্দিষ্ট কাজ করেন বা নির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে কাজ করেন তার মানে এমন অনেক লেখা আছে যা আপনার বার বার লিখতে হয়। অথবা একই জাতীয় অনেক লেখা লিখতে হয় যার একেকটার সাথে একেকটার অনেক মিল, শুধু হালকা কিছু পরিবর্তন করে আপনি আগের লেখা ব্যবহার করতে পারেন এবং অনেক বেশি ব্যবহার করা লেখা আপনার পিসি তে একটা লোকাল সাইট করে সেকশন বাই সেকশন নোট করে রাখতে পারেন বা একটা ওয়ার্ড ফাইলেই লিখে রাখতে পারেন।

যেমন ধরেন আপনি যদি একজন ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার হন তাহলে পোস্ট লুপ, মেনু রেজিস্টার, সাইডবার রেজিস্টার, একশন, হুক এই কোডগুলো আপনাকে সব সময় ব্যবহার করতে হয়। আপনি এইগুলো পারসোনাল ব্লগে লিখে রাখতে করেন বা পিসি তে ফাইল ফোল্ডারাইজ করে রাখতে পারেন।

গ্রুপে কাজ করার সময় ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করুনঃ

ধরুন আপনি একটা কাজ করছেন টিমে। টীমের কাজটা হচ্ছে ওয়েব রিসার্স। একেকজন একেক জায়গায় আছেন। আপনার কাজ হচ্ছে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির নাম সগ্রহ করা এবং অন্য আরও ৩  জনের কাজ হচ্ছে যথাক্রমে ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ তথ্য সগ্রহ, তাদের ফোন করে ফোন নাম্বার ও ইমেইল এড্রেস নিশ্চিতকরন এবং ইমেইলের মাধ্যমে কোন অফার প্রদান।

এখন যদি সাধারনভাবে কাজ করেন তবে আপনি ইউনিভার্সিটি লিস্ট সগ্রহ করে ২য় জনের কাছে পাঠানোর আগ পর্যন্ত সে বসে থাকতে হবে। আবার ২য় জন তথ্য সগ্রহ করে শেষ করার আগ পর্যন্ত ৩য় জন এবং ৩য় জন ফোন নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেস কনফার্ম করার আগ পর্যন্ত ৪র্থ জন বসে থাকতে হবে।

তাই এই ক্ষেত্রে কাজ করুন ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করে। যেন আপনি একটা কাজ সম্পন্ন করে এন্ট্রি করার সাথে সাথে সবাই তা দেখতে পায় এবং ব্যবহার করে নিজের কাজ করে জেতে পারে। এইখেত্রে গুগল ড্রাইভ সবথেকে বেশি কার্জকরি ভুমিকা পালন করে। টিম মেম্বারদের সাথে শেয়ার করা গুগল ড্রাইভ ফাইল দিয়ে আপনি সহজেই এইভাবে কাজ করতে পারবেন।

ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্টে emmet ব্যবহার করুনঃ

ওয়েব কোডার বা কাজের প্রয়োজনে মাঝে মাঝেই যাদের কোড করার প্রয়োজন হয় তারা কোড এডিটরের সাথে emmet প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার কোড করার গতি বহুগুন বাড়িয়ে দেবে। এটা ব্যবহার করে আপনি নির্দিষ্ট কোডের জন্য সংক্ষিপ্ত সংকেত লিখে কীবোর্ড শর্টকাট চেপে এটাকে পূর্ণ কোডে রুপান্তর করতে পারবেন। যেমন আপনি যদি এইচটিএমএল এ নিচের কোড লিখতে চান –

<div class=“header-top” id=“header-top”>
    <div class=“container”>
        <div class=“row”>
            <div class=“col-md-6”></div>
            <div class=“col-md-6”></div>
        </div>
    </div>
</div>

তাহলে আপনি লিখবেন – div.header-top#header-top>div.container>div.row>div.col-md-6*2 আর তারপর নির্দিষ্ট কীবোর্ড কি চাপলেই আপনার কাঙ্খিত কোড পেয়ে যাবেন।

টেক্সট এক্সপেনশন অ্যাপ ব্যবহার করুনঃ

emmet তো আপনি ব্যাবহার করবেন যখন কোড করবেন তখন। কিন্তু যখন আপনি অন্য অন্য কোথাও লিখবেন তখন? অন্য কাজের জন্যও ব্যবস্থা আছে। কিছু টুলস আছে যেইগুলোকে বলা হয় টেক্সট এক্সপেনশন টুলস। এইগুলোর প্রধান কাজ হচ্ছে আপনি কি লিখতে চান তা বুজে নিয়ে আপনাকে সাজেশন প্রদান বা আপনার লেখাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই ধরনের টুলস আরও কিছু কাজ করে থাকে। যেমনঃ

  • একটা শর্ট এক্সপ্রেশন এক্সপেন্ড করা। যেমনঃ date লিখলে তাকে আজকের আজকের তারিখে রুপান্তর।
  • স্পেলিং কারেকশন।
  • বেশি ব্যবহার করা শব্দ সেভ করে রাখা  এবং লেখার সময় সাজেশন প্রদান।
  • মাল্টি-কপিপেস্ট সুবিধা প্রদান। অর্থাৎ আপনি একটা পেজ থেকে ৪ টা ডাটা একসাথে কপি করে আনতে পারবেন এবং এগুলো আবার আলাদা আলাদাভাবে পেস্ট করতে পারবেন।
  • ক্লিপবোর্ড ম্যানেজার যা আপনার পূর্ববর্তী কপি করা ডাটা হিস্ট্রিতে রাখবে।
  • এছাড়াও আরও অনেক সুবিধা।

উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য এই ধরনের সফটওয়্যার এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে PhraseExpress

তো এই ছিল আজকের আলোচনা। আশা করি পোস্টটি আপনার কাজের গতিকে কিছুটা হলেও ত্বরান্বিত করবে।

এই জাতীয় আরো টিউন

আপনিও লিখুন মতামতের উত্তর

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × three =