ডিলিট করে দেওয়া ফাইল সত্যিই কি পুরো ডিলিট হয়?

1
283

নিজের ল্যাপটপটায় অফিসের খুব দরকারী একটা কাজে আপনি ব্যস্ত। কাজের তাড়াহুড়োয় অসাবধানবশত আপনার হাত পড়ে গেল ‘ডিলিট’ বাটনে। সঙ্গে সঙ্গে হাওয়া ‘কনফিডেনশিয়াল’ কিছু ডেটা। রিসাইকেল বিন হাতড়ে দেখলেন সেটাও করে ফেলেছেন Empty। সুতরাং আর পাওয়া যাবে না ওই ডেটা। এবার প্রশ্ন, কোথায় যায় এই মুছে যাওয়া ফাইলগুলো? আদৌ কি কখনও মুছে যায় ফাইল?

index ডিলিট করে দেওয়া ফাইল সত্যিই কি পুরো ডিলিট হয়?

Advertisement

১৯৭৯ সাল। প্রথম ব্যবহৃত হয় ‘ডিলিট’ শব্দটা। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যায় Erase, থাকে শুধু Delete। Earse হারিয়ে গেলেও ‘ডিলিট’ কী হারিয়ে যায়? ‘ডিলিট’ বাটন টিপে কোনও ফাইল মুছে ফেললে তা লোকেশন থেকে সরে যায় কিন্তু জমা হয়ে থাকে রিসাইকেল বিন বা থ্র্যাশে। সেখান থেকে Restore বাটন দিয়ে পুনরুদ্ধার করা যায় হারিয়ে যাওয়া ফাইল। কিন্তু Empty Recyclebin বা Shft+Del বাটন টিপলে মুছে যাওয়া ফাইল আর Restore করা যায় না। তবে কি এখানেই শেষ হয়ে যায় Deleted ফাইলের অস্তিত্ব? না, Physical Space শুধু মার্ক হয় Empty, কিন্তু সেখানে জায়গাটা ভরাট থেকেই যায়। কারণ ফাইল মুছে ফেললেও আসলে ফাইলটা মুছে যায় না, মুছে যায় শুধু পয়েন্টারগুলো। পয়েন্টার হল এমন এক ধরনের ডেটা যা Memory-র মধ্যে জায়গাগুলো পয়েন্ট করে।

যা দিয়ে বোঝা যায় ফাইলগুলোর আসল পথ। কিন্তু যখন পয়েন্টার ডিলিট হয়ে যায় তখন শুধু ডেটাগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কিছু বিশেষ সফটওয়্যার আছে যেগুলো এই মুছে যাওয়া ফাইলগুলোর পথ খুঁজে বার করতে পারে এবং ভাগ্য ভাল থাকলে সেই ফাইল আবার ফেরতও পাওয়া যেতে পারে।

 

মুছে যাওয়া ফাইল বা ডেটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে যদি ওই Available Space এ ওভাররাইট করা হয়। সেক্ষেত্রে আসল ডেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সফটওয়্যার তা আর উদ্ধার নাও করতে পারে। তবে পুরোপুরি নষ্ট হয় না। আংশিকভাবে নষ্ট হয়। এই ডেটাকে পুরোপুরি নষ্ট করতে হলে বারবার ওভাররাইট করতে হবে। অনেক সময় তাতেও নষ্ট হয় না ডেটা। ডেটাকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করতে হলে নষ্ট করে ফেলতে হবে গোটা ড্রাইভটাই। এখানেই কি শেষ? আর কি তবে কোনোভাবে ফেরত আনা যাবে না ডেটা। এখান থেকেও ফেরত আনা যাবে ডেটা। তবে ‘কনফিডেনশিয়াল’ ডেটা লিখুন কাগজে, তারপর ছিঁড়ে ফেলুন। কিন্তু টেকনোলজি এখান থেকেও উদ্ধার করে আনতে পারে ‘ডিলিটেড’ ফাইল। ছেঁড়া টুকরো স্ক্যান করে তা সফটওয়্যারে ফেললে, সফটওয়্যার সাজিয়ে বলে দেবে কি ছিল আসল ডেটা। সত্যিই যদি কিছু ‘ডিলিট’ করতে হয় তবে তাঁর একমাত্র পথ হল সূর্য। আগামি ১০০ বছরে সূর্যের উত্তাপ এত বেড়ে যাবে যে পৃথিবীতে এনার্জি বলে আর কিছু থাকবে না। সৃষ্টি শব্দটা থাকবে না। তখন শুধুই হবে ‘ডিলিট’।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here