একজন কার্যক্ষম ব্যবসায়ী হবার ৫টি শীর্ষ উপায়  FavoriteLoadingবুকমার্ক

একজন কার্যক্ষম ব্যবসায়ী হবার শীর্ষ ৫টি টিপস :

আজকাল সবাই ব্যস্ত, সবারই কিছু না কিছু করার থাকে সারাদিন। এমনকি মাঝে মাঝে সব কাজ শেষ করতে ২৪ ঘন্টাও কম মনে হয়। এটাই ব্যবসায় জীবনের আসল ঘটনা। কিন্তু এটি কে আপনার কার্যদিবস কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের উপর চাপিয়ে নিবেন না। একটু থামুন, কয়েক ধাপ পিছনে আসুন এবং প্রতিদিন আশেপাশে কি হচ্ছে লক্ষ্য করুন। নিজেকে শুধু কাজের মধ্যেই আটকে রাখবেন না, গভীরভাবে দেখুন আপনি একজন মানুষ হিসেবে কিভাবে নিজেকে চালনা করছেন।

 

একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়া মানে এই নয় যে আপনি কতটুকু কাজ করছেন বরং আপনার কাজগুলোকে সংশোধন করে কিভাবে নিজেকে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবেন এটাই আপনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 

নিচের ৫টি টিপস আপনাকে আপনার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, স্বাস্থ্য ও সুখ, এই সকল দিকে সময় দিয়েও সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা অর্জন করতে সাহায্য করবে।

index একজন কার্যক্ষম ব্যবসায়ী হবার ৫টি শীর্ষ উপায়

টিপস ১. একই সময়ে একাধিক কাজ করতে চেষ্টা করুন।

 

এক ঢিলে দুই পাখি মারা – এই প্রবাদটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। এই একটি বাক্যই আপনার সময় পরিচালনার ভঙ্গী বদলে দিবে। প্রতিদিন নিজেকে কিছু প্রশ্ন করবেন এবং নিজের অবস্থানুযায়ী সেটার সমাধানের চেষ্টা করবেন।

 

প্রশ্ন ১ – আপনি আপনার কর্মস্থলে কিভাবে যাতায়াত করছেন?

 

সম্ভাব্য সমাধান ১ –

আপনি যদি সচরাচর গাড়িতে করে কাজে যেয়ে থাকেন তাহলে গাড়ির পরিবর্তে বাসে অথবা অন্য কোন গণপরিবহনে যাতায়াত করুন। এতে সময় বেশি লাগলেও সেই সময়টিতে আপনি কিছু কাজ সেরে ফেলতে পারেন। খবরের কাগজ পড়ে আপনার আশেপাশের সমস্ত ঘটনা সম্পর্কে আপনি জেনে নিতে পারছেন। অথবা মোবাইলে নতুন ইন্সটল করা গেইমটি খেলে একটু মাথাটা ঝালাই করে নিতে পারেন।

 

সম্ভাব্য সমাধান ২ –

আপনি যদি এভাবে বসে সময় না কাটিয়ে আরও স্বাস্থকর উপায় চান তাহলে গণপরিবহনের সাথে শারীরিক শ্রমও যোগ করতে পারেন। সাইকেলে চড়ে কর্মস্থলে যেতে পারেন। কানে মৃদুস্বরে বাজবে পছন্দের গান। এভাবে নিজের স্বাস্থের দিকে ভালো নজরদারি করতে পারবেন।

 

প্রশ্ন ২ – আপনি অবসরে কি করেন?

 

সম্ভাব্য সমাধান ১ –

আমরা সবাই কম বেশি দিনের শেষে টিভির সামনে বসে নিজেদের পছন্দের অনুষ্ঠান অথবা খবর দেখতে পছন্দ করি। তবে অনেকসময় দেখা যায় যে অনুষ্ঠানের চেয়ে বিজ্ঞাপণই বেশি হয়। এতে করে যতটুকু সময় টিভির সামনে কাটানোর কথা এর চেয়ে দ্বিগুণ সময় আমরা কাটাচ্ছি। এভাবে অপেক্ষা না করে আপনি চাইলেই পছন্দের একটি সিনেমা দেখতে পারেন ডিভিডি প্লেয়ারে অথবা ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন আপনার পছন্দের সব নাটক, গান এমনকি আপনার প্রিয় কোন ব্যক্তিত্বের সাক্ষাতকার যা আপনার দৈনন্দিন জীবনকে আরও প্রভাবিত করবে।

 

সম্ভাব্য সমাধান ২ –

অবসরে বই পড়ুন। তবে যেকোন বই নয়। এমন কোন বই পড়ুন যা আপনার মনে নতুন ধারণার উৎপত্তি ঘটাবে যা আপনি আপনার ব্যক্তিগত জীবন আর আপনার কর্মজীবনেও প্রয়োগ করতে পারবেন।নিজের ভাবনাকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে এমন সব বই আপনার মস্তিষ্ককেও উজ্জীবিত রাখবে।

 

প্রশ্ন ৩ – আপনার কর্মজীবনের সাথে আপনি আপনার পরিবার ও বন্ধুদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন কি?

 

সম্ভাব্য সমাধান ১ –

আপনি যদি আপনার কর্মজীবন এবং পরিবার জীবন একত্রে সমলাতে হিমশিম খেয়ে থাকেন তাহলে আবারও এক ঢিলে দুই পাখি মারার সময় এসে গেছে। আপনি চাইলে আপনার পরিবারের সাথে ব্যায়াম করতে পারেন। এতে করে আপনার এবং আপনার পরিবারের স্বাস্থ্যও ঠিক থাকবে আর আপনার পরিবারকে আপনি সময়ও দিতে পারবেন।

 

সম্ভাব্য সমাধান ২ –

আপনি আপনার  বিনোদনের জন্য যে সময়টুকু আলাদা করে করে রেখেছেন সে সময়টুকুতেও আপনি আপনার পরিবার অথবা বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে পারেন। একসাথে কোনো সিনেমা দেখতে পারেন অথবা বেড়ানোর শৌখিন হয়ে থাকলে দূরে কথাও ঘুরে আসতে পারেন। এভাবে আপনার মন যেমন ফুরফুরে হয়ে  উঠবে ঠিক তেমনি পরিবার ও বন্ধুদেরে সাথে আলাদা সময়ও কাটাতে পারছেন।

 

টিপস ২ : নিজের ব্যবসা হালনাগাদ রাখুন

 

একটি ব্যবসার ভিন্ন ভিন্ন অংশ থাকে। প্রতিটি অংশের সাথে পরিচিত হন। প্রতিটি অংশে সমান মনোযোগ দিন। এমনকি ভবিষ্যতের কোন কোন ঘটনাগুলো আপনার ব্যবসার ওপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে তার সম্বন্ধে আগে থেকেই ধারণা রাখুন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন। দেশ বিদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান রাখুন। এতে আপনারই সুবিধা হবে এবং বাজারের অবস্থা আগে থেকেই ভবিষ্যতবানী করতে পারবেন।

 

টিপস ৩ : শরীরকে ক্রিয়াশীল রাখুন

 

আপনার মন এবং শরীর একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। দুটোর মধ্যে সমান তাল বজায় না থাকলে আপনি দিন দিন ধীরগতির হয়ে যেতে পারেন। যার কারণে আপনি আপনার ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত এবং সঠিকরূপে নিতে পারবেন না। প্রতিদিন ব্যায়ামের জন্য আলাদা সময় রাখা খুবই জরুরি। এমনটা নয় যে আপনাকে ভোরে উঠেই খুব হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হবে। বরং এমনভাবে নিজের সময়কে গুছিয়ে নিন যেন আপনার কাজ এবং বিশ্রামের মাঝে কিছু সময় শারীরিক কসরতের জন্য থাকে। ব্যায়ামের জন্যে খুব কঠিন রুটিন মেনে চলতে হবে এমন কিন্তু নয়। নিচের যেকোনো একটি নিয়ম অথবা সবকয়টি একত্রে আপনার দৈনন্দিন কাজের মাঝে যুক্ত করতে পারেন।

 

সকাল –

সকালে চা পান করতে আমরা কম বেশি সবাই পছন্দ করি। চা খেলেই যেন শরীর আর মন চাঙ্গা হয়ে উঠে। বরং চা না খেয়ে এই সময়টাতে যদি আপনি ৫ মিনিট ব্যায়াম করেন তাহলে আপনার মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়বে, নিজেকে আরোও কর্মক্ষম মনে হবে এবং এই সময়টাতে আপনি আপনার সারাদিনের কর্মপরিকল্পনাও করে ফেলতে পারেন।

 

দুপুর –

সকালে অথবা সন্ধ্যায় আমরা স্বাভাবিকভাবেই অনেকে আলসেমির কারণে ব্যায়াম করতে চাই না। আপনার যদি ঠিক তেমনটি মনে হয় তাহলে দুপুরে খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ হেঁটে আসুন। সারাদিনের কি কি কাজ হলো এবং কি কি কাজ বাকি সেগুলা মাথার ভিতর ঝালিয়ে নিতে পারেন এই সময়টাতে। বিভিন্ন ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবতে পারেন। আপনার কর্মক্ষেত্রে কাজে আসবে এমন সৃজনশীল চিন্তাও করতে পারেন। চাইলে হাঁটতে হাঁটতে শুনে নিতে পারেন প্রিয় কিছু গান।

 

সন্ধ্যা –

অনেকে আবার ব্যায়ামের জন্যে সন্ধ্যায় জিম করতে পছন্দ করেন। কিন্তু জিম করাটা বেশ সময়সাপেক্ষ। জিমে আসা-যাওয়া সব মিলিয়েই অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। বরং আপনি বাসায় জিমের মত পরিবেশ তৈরী করুন। এতে আপনার সময়ের সাশ্রয় হবে এবং শরীরও থাকবে সুস্থ।

 

টিপস ৪ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ছুটি নিন।

 

ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর প্রতি আমরা এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছি যে পরিচিত মানুষদের সাথে দেখা করতে যাওয়াটা এখন আর বিশেষ প্রয়োজন মনে হয় না। এতে সম্পর্কগুলো যেমন ক্ষণস্থায়ী হয়ে পড়ছে তেমনি কাছের মানুষ থেকে দূরেও সরে যাচ্ছি আমরা। তাই অফিসের সহকর্মীকে ইমেইল বা ফেসবুক মেসেজ না পাঠিয়ে মাঝে মধ্যে তার কাছে গিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করুন। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যান দূরে কোথাও। এতে সম্পর্কগুলো মজবুত হবে যেমন, ঠিক তেমনই আপনার সামাজিকতা রক্ষার জন্যে সবসময় নেটওয়ার্কিং সাইটের ওপরেও নির্ভর করা লাগছে না।

 

টিপস ৫ : সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় অন্য কিছু দ্বারা নিজেকে প্রভাবিত হতে দিবেন না।

 

তথ্য ও যোগাযোগ মাধ্যমের এত উন্নতির ফলে এখন যেকোন তথ্য আমাদের হাতের মুঠোয়। যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমরা সেটার ভালো কিংবা খারাপ উভয় দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। ইন্টারনেটে করছি গবেষণা। সিদ্ধান্তের ফলাফল নিয়ে হিসাব-নিকাশ কম হচ্ছে না।এইসব ব্যক্তিগত গবেষণা আপনাকে সঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করবে। ব্যবসায়িক আলোচনার সময়ে অনেকের মতামত আপনাকে আপনার মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে নিবে। তাই আবেগী না হয়ে যেই সিদ্ধান্তটা সঠিক এবং যৌক্তিক সেই সিদ্ধান্তটিই নিন। সময় নষ্ট না করে চেষ্টা করবেন সংক্ষেপে কিভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। এতে করে আপনার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আরও বাড়বে। কঠিন চাপের মুখেও আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নানা মুণি, নানা মত। তাই সকল মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে যৌক্তিক মতামতকে বেছে নিন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের বুদ্ধি ব্যবহার করে সকল তথ্য এবং উপাত্ত একত্রিত করে নিজের সিদ্ধান্ত নিন।

তবে বিফল হলে নিরাশ হবেন না। বরং বিফল হলেই আপনি বুঝবেন আপনার ব্যবসায় কোন সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে পরিহার করতে হবে। বিফল হলেই সফলতার দিকে আরও দরজা খুলবে। তাই নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। কারণ আপনি চাইলেই পারবেন।

 

*বোনাস টিপস – প্রতিদিন নতুন কিছু করতে চেষ্টা করুন।

 

নতুনের সাথে মানিয়ে নেয়া সোজা নয়। বরং নতুন যেকোন কিছুর প্রতি ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। এই ভয় কে যদি আপনি জয় করতে পারেন তাহলে এর সুফল আপনি বহুদিন পর্যন্ত পাবেন। প্রতিদিনই ভিন্ন কিছু করতে চেষ্টা করুন। এতে আপনার মস্তিষ্ক উদ্দীপনা পাবে এবং আপনি মনে মনে নিজেকে নতুন কিছুর সাথে পরিচিত হওয়ার জন্যে আগ্রহবোধ করবেন।

এই জাতীয় আরো টিউন

আপনিও লিখুন মতামতের উত্তর

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − 13 =