সফল ব্যবসায়িক ব্যক্তি হওয়ার কিছু পরামর্শ  FavoriteLoadingবুকমার্ক

সফল হওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে নিজের উদ্দেশ্যে স্থির এবং নিখুঁত থাকাঃ

যান্ত্রিক এই শহরে সবাই ব্যাস্ত , সবারই নিজের কাজ আছে এবং কখনই আমাদের হাতে নিজেকে দেয়ার মত যথেষ্ট সময় থাকে না । এটাই যান্ত্রিক জীবনের বৈশিষ্ট্য কিন্তু তাই বলে একান্ত নিজের সময়টুকু ও  ব্যাস্ততার হাতে তুলে দিতে নেই । একটু থামুন । একটু পেছনে ফিরে তাকান, দেখুন চারপাশে  দিনের পর দিন কি হচ্ছে । কখনই নিজেকে শুধু কাজের মধ্যে বন্দী করে ফেলবেন না ।  একজন ব্যাক্তি হিসেবে আপনি কেমন যাচাই করুন ।

একজন সফল  ব্যাবসায়িক ব্যক্তিত্ব হওয়া মানে শুধু নিজের অফিসিয়াল কার্য অভ্যাসের দিকে নজর রাখা নয় । দৈনন্দিন  কিছু সাধারণ কাজ যা আপনি করেন যেগুলো হয়তো আপনার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে সেগুলোর ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও আপনাকে কাজে  সফল হতে সাহায্য করতে পারে ।

এখানে কিছু উপায়ের কথা বলা হল যেটা আমাদেরকে একই সাথে একজন কার্যক্ষম ব্যাবসায়িক ব্যক্তি হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু, সুখ এবং স্বাস্থ্যের জন্য সময় দিতে সাহায্য করবে

index সফল ব্যবসায়িক ব্যক্তি হওয়ার কিছু পরামর্শ

১. সময়ের নিখুঁত ব্যবহার করুন

কীভাবে আপনি আপনার দিনটি অতিবাহিত করেন ? এমন কোন উপায় কি আছে যেটা আপনার সময়ের নিখুঁত ব্যবহার করে আপনার কার্যক্ষমতা উন্নত করতে পারে ? নিচের প্রশ্নগুলো নিজেকে জিজ্ঞেস করুন

(আমিও নিজেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং কয়েকটা বাস্তবায়ন করেছিলাম ) যদিও এর সম্ভাব্য সমাধান আপনার বর্তমান অবস্থার ওপর নির্ভর করে-

প্রশ্নঃ আপনি কীভাবে (যাতায়াত মাধ্যম )অফিসে যান ?

= নিজের গাড়ী ব্যবহারের পরিবর্তে বাস কিংবা ট্রেনে যাতায়াত করুন । যাতায়াত মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে এটা আপনাকে কিছু বাড়তি সময় দেবে  যে সময়টাতে আপনি সাধারন ইমেইল চেক করতে পারেন বিশ্বের সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন তথা সাম্প্রতিক খেলাধূলার সাথে নিজের মস্তিষ্ক কে সচল রাখতে পারেন ।

= যদি আপনার শারীরিক ব্যায়ামের প্রয়োজন থাকে তাহলে অফিসে যাওয়ার সময় আপনি সাইকেল ব্যাবহার করতে পারেন সাথে একটি ভারী কাঁধ ব্যাগ । যদি আপনি হেঁটে (আমরা আপনাকে হেঁটে যেতে বলছি না যদি আপনার সাইকেল থাকে) যান তাহলে হেডফোনে নিজের প্রিয় গান শুনতে শুনতে যেতে পারেন ।

প্রশ্নঃ অবসর কীভাবে কাটাতে পছন্দ করেন?

= আমরা সবাই টিভি দেখতে পছন্দ করি কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু প্রোগ্রাম দেখে প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে যাই যেখানে বিনোদনের ছিটেফোঁটা ও থাকে না সেক্ষেত্রে এমন কিছু দেখতে পারেন যেটা আপনার পছন্দ এবং যা আপনাকে পরিপূর্ণ আনন্দ দেবে।

=বই পড়ুন , তবে যেকোনো বই নয়, এমন কোন বই যেটা পড়ে আপনি নতুন কিছু উপলব্ধি করতে পারবেন এবং যেটা কর্মজীবনে বাস্তবায়ন করতে পারবেন ।  যে বই আপনার পরিস্থিতিতে আপনার চিন্তাপ্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য ধারনাকে কাজে লাগাতে সাহায্য করবে ।

প্রশ্নঃ আপনার বন্ধু এবং পরিবারকে সময় দেয়ার ব্যাপারে আপনি কতটা সক্রিয় ?

= যদি আপনার পরিবার এবং বন্ধুদেরকে  যথেষ্ট সময় দেয়ার ইচ্ছা থাকে, তবে তাদের সাথে ব্যায়াম অনুশীলন করতে পারেন। যেমন রাতের বেলা হাঁটতে বের হলেন নয়তো খেলাধুলা করলেন । আমার ক্ষেত্রে আমি আমার ছোট ছেলে এবং আমার স্ত্রীর সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করি । একা বাইক ভ্রমনের পরিবর্তে আমি আমার স্ত্রী এবং ছেলেকে নিয়ে ভ্রমনে যেতে পছন্দ করি ।

= দুপুর দিয়ে দিনটিকে ভাগ করে ফেলুন যাতে করে সপ্তাহের কার্যদিবসের সকাল সন্ধ্যা গুলোতে পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে একটু বেশি সময় কাটাতে পারেন।

২. দৃশ্যমানতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ব্যবসাক্ষেত্রে সঠিক জায়গায় আপনার সঠিক উপস্থিতি নিশ্চিত করুন। এটা আপনাকে লক্ষ্য স্থির করতে এবং সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। এখানে কিছু উপায়ের কথা বলা হয়েছে যেগুলো আমাদেরকে দৃশ্যমানতা বজায় রাখতে সাহায্য করে-

*যন্ত্র নির্ভর এই যুগে আমরা সরাসরি যোগাযোগ না করে বিভিন্ন মোবাইল এপ , ডেক্সটপ সফটওয়্যার ব্যবহার করছি যেটা একেবারেই উচিত নয়।  যদি এটা পুরোপুরি বন্ধ করা যায় তাহলে নিঃসন্দেহে ভাল কিছুই হবে , নয় কি ? এগুলো ব্যবহারে আমরা অলস হয়ে যাচ্ছি দিনের পর দিন । কিন্তু এসব মোবাইল এপ্স বাদ দিয়ে যদি আমরা নিজেরাই নিজেদের যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারি তাহলে কেমন হয় ?

*  বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন কনসার্ট , খেলাধুলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ছুটির দিন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবকিছুই আপনার ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। এইদিনগুলোতে ঘরে বসে থাকার চাইতে PredictHQ এর সাহায্য নিন যেটা আপনাকে ব্যবসায় সাহায্য করতে পারে যেহেতু তাঁরা বোঝে কি করলে প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য ভাল পরিকল্পনা ও করতে পারে।

* যদি আপনি প্রজেক্ট দৃশ্যতা খুঁজে থাকেন আপনার টিম গঠনের জন্য , তাহলে Trello মোবাইল এপ্সটি আপনার জন্য । যখন মানুষ জানে তাঁর কি করা উচিত এবং সে কি আশা করে , তখন লক্ষ্যে পৌঁছানো ব্যাপারটা সহজ হয়ে যায়।

৩. সক্রিয় থাকুন

যদি আপনার শরীর এবং মন ভাল মত কাজ না করে তাহলে এটা আপনার কার্যক্ষমতা কমিয়ে আপনাকে নিচে নামিয়ে দেবে। যার ফলে আপনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ হবেন।নিজেকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে সময়ের সঠিক ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আপনাকে ভোর ৫ টায় উঠেই কাজে যেতে বলছি না (তবে আপনি যদি সেটা করতে পারেন সেটা আপনার বিশেষ দক্ষতা)এটা শুধুমাত্র আপনার সারাদিনের ব্যস্ততা থেকে একটা মানসিক বিরতি নেয়ার উপায় মাত্র যেটা আপনার হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করবে ।

একটি কঠোর অনুশীলনের রুটিন শুরু করার বাইরে আপনি নিম্নলিখিত রুটিনটি বিবেচনা করতে পারেন , অথবা পুরো সপ্তাহের কার্যদিবসে এই টির এক সংমিশ্রন বানিয়ে নিতে পারেনঃ

সকাল- সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এক কাপ কফির আগে ৫ মিনিট কিছু সাধারন ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন , যেটা আপনার মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করবে। তারপর সারাদিনের কাজের লিস্ট বানিয়ে নিন অবশ্যই কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী।

দুপুর- অফিসের পর আপনি স্বভাবতই ক্লান্ত থাকবেন , অতএব বিকালে ব্যায়ামের চিন্তা না করে ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন, এটা আপনাকে ছোট একটা বিরতি দেবে, পূর্ণ উদ্যমে কাজে মনোযোগ দেয়ার শক্তি মানসিকতা দুটোই দেবে।এরপর যাবতীয় সমস্যা যেগুলোর সমাধান করতে পারছিলেন না সেগুলোর সহজ সমাধান করতে পারবেন আশা করা যায় সাথে নতুন সৃজনশীল ভাবনা তো আছেই।পছন্দের গান ও শুনতে পারেন এটি নিজেকে সচল রাখার একটি চমৎকার উপায়।

সন্ধ্যা- অফিসের পর জিমে যাওয়া একটা ভাল আইডিয়া কিন্তু এটা একটু বেশিই সময় নেবে , তাঁর পরিবর্তে ঘরের কাজগুলো করে ফেলতে পারেন। বাড়ীর জিম সত্যিই কাজের এবং এটা আপনার জিমে যাওয়া আসার সময়টুকু বাঁচাবে।

৪.আলস্যকে ছুটি দিন

আমরা আলসেমি ভালবাসি। সত্যিকথা বলতে আমরা তার পরম ভক্ত। এবং এটা সুদুর ভবিষ্যতেও এমনি চলতে থাকবে।ধরুন আপনি যে অফিসে কাজ করেন সেই অফিসেরই কারো সাথে যোগাযোগ করতে চান , সেক্ষেত্রে ফোনে কথা না বলে হেঁটে তার রুমে গিয়ে তার সাথে সরাসরি কথা বলুন। এতে করে সেই মানুষ টির সাথে আপনার ভাল সম্পর্ক ও হয়ে যাবে ।যদিও এটা পুরনো পদ্ধতি কিন্তু মাঝে মাঝে সমস্যাগুলো পুরনো পদ্ধতিতেই তাড়াতাড়ি সমাধা করা যায়।

৫. উদ্দেশ্য প্রণোদিত সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করুন

আমরা এমন এক যুগে বাস করি যেখানে চাইলেই সব হাতের মুঠোয় পাওয়া যায় । কিন্তু বাস্তবতা  হল এখনো এমন কিছু মানুষ আছে যারা মিটিং বা ইমেইলে তাদের বিষয়ী মতামত ব্যবহার করে তাদের উদ্দেশ্য প্রমান করার চেষ্টা করে।

যেমন তাঁরা বলে, গবেষণায় দেখা গেছে, অথবা একজন বিশেষজ্ঞ তার জরিপে বলেছেন… কিন্তু আমি মনে করি না এর কোন প্রয়োজন আছে। এটা বেশিরভাগ সময়েই, অনুমান  , সময় নষ্টকারী, দুর্বল সিদ্ধান্তের জন্ম দেয়।

আপনার অহমিকা দূরে সরিয়ে রাখুন এবং যুক্তি দিয়ে উদ্দেশ্য জয়লাভ করুন।

তার মানে এই না যে আপনি নিজের সত্ত্বাকে বিশ্বাস করবেন না, আসলে এটা সাধারণত একটু বিপরীত চিন্তা । আপনার পরবর্তী ধাপে কাজে লাগানোর জন্য নিজস্ব সত্ত্বা কিছু উদ্ভাবনী আইডিয়ার জন্ম দিতে পারে । যাই হোক উদ্দেশ্যে অটল থাকলে(এ ব্যাপারে উপজীব্য তথ্য এবং টেকনোলজি আপনাকে সাহায্য করতে পারে)আপনি সফল হবেনই। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহন অবশ্যই নিখুঁত হতে হবে , প্রজেক্টের লক্ষ্য নির্দিষ্ট করতে হবে যেটা আপনার ব্যবসায় ফলপ্রসূ হবে।

ব্যর্থতার আলিঙ্গনে ভয় পাওয়া যাবে না মনে রাখতে হবে ব্যর্থতা আপনাকে ভবিষ্যতে আরও ভাল কিছু তৈরি করতে সাহায্য  করবে। ব্যর্থতা যদিও একটি অবমাননাকর অনুভুতি কিন্তু যদি আপনি এখান থেকে শিক্ষা নিতে না পারেন তাহলে আপনি সামনে আগাতে পারবেন না।

যেটা আপনার ভাল ব্যবসায়িক ব্যক্তি হওয়ার পেছনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

**

প্রতিদিন নতুন কিছু করুন

মানুষ তার নিজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে । একটা ছোট্ট উপদেশ যেটা আমি সবসময় ধারন এবং পালন করার চেষ্টা করি যদিও একটু ভিন্ন ভাবে, টিম ফেরিস নামে একজন বলেছেন , “প্রতিদিন এমন কিছু করো যেটা তুমি করতে ভয় পাও” ভয় পেয়ে চুপসে যাওয়ার চেয়ে আমার মতামত হল , প্রতিদিন নতুন কিছু করার । সাধারন নিয়ম ভেঙ্গে মস্তিষ্ক সচল রাখার জন্য এটি অন্যতম ভাল উপায় । উদ্দীপনার এই প্রাকৃতিক ধরন আপনার ফোকাস কে উন্নত করতে সাহায্য করবে এবং ভবিষ্যতে সফল ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার পেছনে সফলতার কারন হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

এই জাতীয় আরো টিউন

আপনিও লিখুন মতামতের উত্তর

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × five =