নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫টি দারুন কৌশল  FavoriteLoadingবুকমার্ক

আপনি কি আপনার সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ফিরতি আয় নিয়ে চিন্তিত, তাহলে এখনই সময় বিনিয়োগের দুনিয়ায় নিজের সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেয়ার। এই বিশ্ববাজারের অর্থনীতিতে  বিনিয়োগ হচ্ছে স্বল্প সময়ে লাভবান হওয়ার একটি অন্যতম মাধ্যম। এখানে যেমন ঝুঁকি আছে তেমনি ঝুঁকি মোকাবেলার পুরস্কার ও রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগের পূর্বে আমাদের সবার কিছু কৌশল জেনে নেয়া উচিত যার মাধ্যমে আমরা স্বল্প পুঁজিতে, স্বল্প ঝুঁকিতে এবং স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারবো।

কৌশল-১#পরিকল্পনা

বিনিয়োগের পূর্বে যেসব বিষয় বিবেচনা করা দরকার সেগুলো হল-

 ক) অর্থনৈতিক লক্ষ্যঃ

সর্বপ্রথম একটি লক্ষ্য ঠিক করুন যে আপনি এই বিনিয়োগের মাধ্যমে  কি অর্জন করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনি একাধিক লক্ষ্য ঠিক করতে পারেন।

খ) সময় কাঠামো

একটি নির্দিষ্ট সময় কাঠামো ই ঠিক করতে পারে যে আপনাকে কত সময়ের মধ্যে আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। এমনকি সেই কাঠামো থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে মুনাফার হার দরকার,তা আপনি খুঁজে বের করতে পারবেন।

গ) ঝুঁকি গ্রহনের প্রবণতা

বিপদজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি সেটিকে সহ্য করার ক্ষমতা আপনার অর্থনৈতিক কৌশলের উপর বিরাট প্রভাব ফেলবে।বলে রাখা বাঞ্ছনীয় যে, ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনি স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারবেন।

ঘ) সামর্থ্য

বিনিয়োগের সময় নিজের সামর্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। অপরিহার্য খাত যেমনঋণ, বীমা প্রিমিয়াম এবং জীবনধারণের ব্যয়ের হিসাবের পর,আপনি কত টাকা বিনিয়োগে সমর্থ তা বুঝতে পারবেন।

index নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫টি দারুন কৌশল

কৌশল-২# শুরটা হোক মৌলিক বিষয় দিয়ে

প্রায় সময় নতুন বিনিয়োগকারীরা ভুলক্রমে মনে করে যে, একক স্টকে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে মার্কেটে লাভের পরিমান বৃদ্ধি করা সম্ভব। বাস্তবিকপক্ষে সেটা সবসময় সত্য নয়। এমন অনেক বিনিয়োগকারী আছেন যারা  ইউনিট ট্রাস্ট তহবিল (ইউটিএফ) এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড তহবিল (ইটিএফ) এর মাধ্যমে তাদের ভাগ্যকে উন্নতির সর্বোচ্চ জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছেন এবং নবীন বিনিয়োগকারীদের যাত্রা শুরু করার জন্য এর চেয়ে সহজ মাধ্যম আর হতে পারে না।

ইউটিএফ এবং ইটিএফ এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে, কোন শেয়ার কত শতাংশে আছে, এবং আপনি যতই লক্ষ্যের কাছাকাছি আসবেন ততই আপনার ঝুঁকির মাত্রার সাথে সমন্বয় করতে সক্ষম হবেন।

যদিও নতুন বিনিয়োগকারীদের একক স্টক এড়িয়ে যাওয়াটা একটি বুদ্ধিদীপ্ত কাজ হতে পারে,এক্ষেত্রে তাদের বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।

আপনি যদি মার্কেটের তুলনায় অনমনীয় স্টকে আগ্রহী হোন তাহলে এক্ষেত্রে আপনি চাইলে দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনাপূর্ণ বিশেষায়িত স্টকের প্রতি আগ্রহী হতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার আগ্রহের তালিকায় বড়, স্বনামধন্যএবং স্থির কোম্পানিগুলোর স্টক থাকতে পারে।

ব্লু চিপ হল জাতিয়ভাবে স্বীকৃত, সুপ্রতিষ্ঠিত এবং আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ কোম্পানি যারা সাধারনত উচ্চমানের,বাপকভাবে গৃহীত পণ্য এবং সেবা প্রদান করে। ব্লু চিপ কোম্পানি ডাউনটার্ন অবস্থায় এবং প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য বৃদ্ধির রেকর্ড ধরে রাখতে পারে। যদিও এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ব্যয়বহুল তথাপি সেখানে ঝুঁকিও তুলনামুলকভাবে অনেক কম।

কৌশল#৩  ক্ষতির পরিমাণ কমাতে নিয়মিত বিনিয়োগ করুন

এই কথা সত্যি যে, সঠিক সময় চিহ্নিত করে মার্কেটে বিনিয়োগ করা সত্যিই অসম্ভব ব্যাপার। আপনি যেমন ধারাবাহিকভাবে সর্বনিম্ন মুল্যে কিনতে পারবেন না তেমনি ধারবাহিকভাবে উচ্চমুল্যে বিক্রয় ও করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে আপনার মুনাফা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সম্ভাবনা তৈরির জন্য আমাদের পরামর্শ হল এককালীন বিনিয়োগের চেয়ে বরং মূলধনের তহবিলকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে নিয়মিত বিনিয়োগ করুন। উদাহরনস্বরূপ, ধরুন আপনি মাসিক ২০০০ টাকা ভিত্তিতে ইউনিট ট্রাস্ট ফান্ড অথবা এক্সচেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড এ বিনিয়োগ করলেন।যখন মার্কেট উর্ধ্বমুখী হবে তখন আপনার বিনিয়োগ আপনাকে কম শেয়ার দিবে, আবার যখন মার্কেট নিম্নমুখী হবে তখন বিনিয়োগ থেকে আপনি অধিক শেয়ার পাবেন(মূল্যহ্রাসের কারনে)।সময় পরিক্রমায় আপনি আরো শেয়ার পুঞ্জীভূত করতে সক্ষম হবেন এবং আবার মার্কেটের ঊর্ধ্বমুখীতার কারণে আপনি আর বেশি লাভবান হবেন।

কৌশল#৪ বিভিন্নতা

অনেক নতুন বিনিয়োগকারী আছেন যারা শুরুতে বেশি পরিমান টাকা বিনিয়োগ করতে চান না। এক্ষেত্রে আপনার কষ্টার্জিত সব টাকার এককালীন বিনিয়োগ করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

এক্ষেত্রে সুরক্ষার সর্বোৎকৃষ্ট  পন্থা হতে পারে আপনার এককালীন মূলধনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভাগ করা এবং সে অংশগুলোকে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানি এবং সম্পত্তিতে বা বিশ্ববাজারে বিনিয়োগ করা। আসলে আপনার ঝুঁকি গ্রহনের প্রবণতার উপরই নির্ভর করে যে আপনার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাফল্য।

ইউটিএফ এবং ইটিএফ এর মাধ্যমে আপনার স্বল্প ক্যাপিটাল ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন অংশে ভাগ হয়ে যাবে। আপনার মূলধন বিনিয়োগের প্রত্যেকটি টাকা ভাগ হয়ে বিভিন্ন স্টকে পোঁছে যাবে যেটা আপনার পোর্টফোলিওকে রক্ষা করার মাধ্যমে একক স্টককে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাবে। মূলত, ইউটিএফ এবং ইটিএফ এর মাধ্যমে একজন স্বল্প মূলধনের বিনিয়োগকারী ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারেন।

কৌশল#৫ অভিজ্ঞদের থেকে উপদেশ নিন

একজন বিনিয়োগ উপদেষ্টার সাথে কথা বলুন অথবা আপনার আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি এবং সময় পরিক্রমার উপর ভিত্তি করে আর্থিক ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে আপনার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করুন। এভাবে যখন আপনি বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগের খুঁটিনাটি বুজতে পারবেন তখন আপনি খুব সহজেই ঝুঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয় করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনার আয়ের সম্ভাবনা ও বাড়বে। এটাই হল ক্রমবৃদ্ধিমান মুনাফার প্রকৃত রহস্য এবং সুবিধা। মার্কেট উঠানামার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আপনি যদি ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বিনিয়োগ শুরু করেন তবে ধরে নেয়া যায় যে আপনি সফল হবেন কারণ অতি শীঘ্র বিনিয়োগে যাত্রা শুরু করায় আপনি ক্রমবর্ধমান প্রতিক্রিয়ার সুযোগটি লুফে নিতে সক্ষম হবেন।

সবশেষে এটাই মনে রাখা বাঞ্ছনীয় যে, সময় হচ্ছে একজন সফল বিনিয়োগকারীর সফলতার মুল রহস্য এবং ক্রমবৃদ্ধিমান মুনাফা সুবিধার সর্বাধিকরনের প্রধান উপকরণ। তাই সঠিক সময়ে, দক্ষতার সাথে দ্রুত শুরু করুন আপনার  বিনিয়োগের যাত্রা।

তাই এখন আপনি প্রস্তুত বিনিয়োগ করার এবং শত শত ইউনিট ট্রাস্ট তহবিল থেকে নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিনিয়োগ করে উপার্জন করার।

এই জাতীয় আরো টিউন

আপনিও লিখুন মতামতের উত্তর

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × 4 =