পাখি কেমন করে উড়ে?

0
139

পাখিকে যখন উড়তে দেখি তখন মনে হয়,আহা ! আমি ও যদি উড়তে পারতাম ! পাখির মত ডানা থাকলে হয়ত আমরা ও উড়তে পারতাম ।এখন প্রশ্ন হল,পাখি কিভাবে উড়ে ?

index পাখি কেমন করে উড়ে?

তার আগে জেনে নেই যে একটা  পাখির কি কি ভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে যার জন্যে এরা অন্য প্রানিদের থেকে আলাদাঃ

পাখিরা অসাধারন ।এদের এমন কতগুলো বিশেষ  বৈশিষ্ট্য  আছে যার কারনে এরা অ‍ দ্বিতীয় ।

১| একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এদের গায়ে পালক থাকে ।
২|ফাঁপা হাড় থাকার কারনে এরা অতি সহযে ভেসে থাকতে পারে।

৩|পাখি যা কিছু ই করে খুব দ্রুত করে।দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস নেয়।পাখি যখন ইচ্ছা তখন ই যেখানে সেখানে মল মূত্র ত্যাগ করে।

৪|পাখির বাচ্চা ডিম ফুটে বের হয়।তাই কখনই বাচ্চাকে পাখির পেটে রাখা লাগেনা এবং ওজন বাড়েনা।
৫|পাখি এমন সব খাবার খায় যা খুব হালকা যেমন পোকা,শষ্যদানা।এসব খাবারে প্রচুর ক্যালরী থাকে।ঠোঁট দিয়ে খাবার গ্রহণ করে।

৬|এরা উষ্ন রক্ত বিশিষ্ট ।

 

আসুন এখন আমরা জেনে নেই যে পাখির পালকের কি কি বৈশিষ্ট্য আছেঃ

পালকঃ পালকগুলো থাকে খুব হালকা কিন্তু দৃড়।এগুলো  নমনীয় এবং স্থিতিস্থাপক । পাখিদের পালক বিন্যাস উড়ার সময় এদেরকে হাল্কা রাখতে সয়াহতা করে।পালক কেরাটিন নামক পদার্থ  দ্বারা তৈরী।এদের দেখতে শক্ত মনে হলেও এরা শক্ত নয় ।এরা সরাসরী মেরুদন্ডের সাথে জড়িত।হাজার হাজার burb  বা কাঁটা থেকে পালক তৈরী হয়। এই  burb গুলোর মধ্যে মধ্যে প্রচুর বাতাস থাকে।একটি পাখীর দেহে ১০০০-২৫০০০ পালক থাকতে পারে।

লেজঃএটি  একটি গুরুত্বপূর্ন অঙ্গ ।উড়বার  ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অনেক।এতি হাল এর মত কাজ করে।উড়ার সময় ভারসাম্য রক্ষা করে,উড়ার দিক নির্দেশনা দেয়,উপর থেকে নিচের দিকে নামতে সয়াহতা করে।

ঠোঁটঃপাখির ভারী চোয়াল এবং দাত নেই।খুব পাতলা ঠোঁট আছে।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় ,পাখির দৈহিক গঠন  এক কথায় উড়ার জন্য পরিপূর্নানঙ্গ।দৈহিক কাঠামটি এমন ভাবে তৈরী যা উড়বার উপযোগী।এদের দেহের প্রত্যেক  অংশ ভর হালকা কিন্তু অধীক শক্তিশালী।একটি প্রানী যত ভারি হবে তত বড় তার ডানা দরকার। যত বড় তার ডানা হবে তত বেশী তার পেশী দরকার  ডানা চালনা করার জন্যে।

এদের দৃষ্টি ও শ্রবন শক্তি প্রখর।পাখির কান ভারসাম্য রক্ষার কাজ ও করে।

এখন মূল প্রসঙ্গে আসি যে পাখি কিভাবে উড়ে।একেক ধরনের পাখির উড়ার কৌশল একেক রকম।তবে প্রাথমিক ধারনা এক।

পাখির ডানাকে airfoil বলা হয়। airfoil যখন বাতাসে নড়াচড়া করে বাতাস তখন airfoil এর গা ঘেসে উপরে নিচে বাহিত হয়।ডানার দুই প্রান্তে এক-ই সময়ে ২ ধরনের বাতাস বাহিত করার জন্য ডানার উপরের পৃষ্ঠের বাতাসকে নিচের পৃষ্ঠের অপেক্ষা অনেক দূরতর ও দ্রুততর হতে হয়।যার ফলে উপরের পৃষ্ঠের বাতাস ডানার উপর কম চাপ প্রয়োগ করে এবং নিচের পৃষ্ঠের বাতাস বেশি চাপ প্রয়োগ করে।ফলসরূপ পাখিটি উপরের দিকে উঠে যায়।ডানা ঝাপ্টানোর বেগ যত বেশি হবে পাখি তত দ্রুত উপরে উঠে যেতে পারবে।পাখির ডানা মানুষের হাতের মত।সাতার কাটার জন্য মানুষ যেমন তার হাত ব্যবহার করে পাখি তেমনি তার ডানা ব্যবহার করে উড়ার জন্য।ডানা দিয়ে পাখি বাতাসকে পিছনের দিকে আঘাত করে এবং সামনের
দিকে এগিয়ে যায়।পাখি উড়ার সময় ডানা ঝাপ্টায়।যখন পাখি ডানাকে নিচের দিকে নেয়  বাতাস ও তখন উল্টা দিকে বাধা প্রদান করে  যার ফলে উপড়ের দিকে উঠে যায় এবং উড়তে থাকে।ডানার উপর বাতাসের চাপ কম হওয়াতে এবং ডানার নিচে বাতাসের চাপ বেশি হওয়াতে উড়া সহয হয়।

এখন হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে,পাখি gliding(ধীরে ধীরে বহিয়া যাওয়া) কিভাবে করে?

অনেক পাখি ঘন্টার পর ঘন্টা gliding করে যেতে পারে,যেমন- ঈগল।ডানা না ঝাপ্টিয়ে এরা উড়ে কিভাবে? বাতাসের একটি বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে পাখি gliding করে।আমরা জানি,দিনের বেলায় সূর্যের তাপমাত্রায় বাতাস সম্প্রসারিত হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়,একে থার্মাল বলে।বাতাসের এই ধর্মকে ব্যবহার করে পাখি নিজেকে হালকা ভাবে বাতাসের উপর স্থাপন করে বাতাসের সাথে সাথে উপরে উঠে যায়।থার্মাল অবস্থায় যেতে হলে ভুপৃষ্ঠকে অনেক উত্তপ্ত হতে হয়, তাই পাখিদের gliding এর জন্য দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ।বাতাসের প্রবাহ বাড়তে থাকলে পাখি নিচের দিকে gliding করে।

উড়ার পর পাখি যখন নিচে নামতে চায় তখন ধীরে ধীরে তার ডানা ঝাপ্টানো কমিয়ে দেয়  এবং ডানা দুটিকে গুটাতে শুরু করে,gravity/অভিকর্ষের প্রভাবে   পাখি নিচে নেমে আসে।ডানা মেলে উপরে উঠা(take off) এবং অবতরন(landing) সবচেয়ে কঠিন।এই দুটি কাজ এদেরকে সাবধানে করতে হয়।একবার উপরে উঠে গেলে স্বাচ্ছন্দে পাখি উড়তে থাকে।

পাখির উড়ার কৌশল থেকে  আজ উড়োজাহাজ আবিস্কৃত হয়েছে।পাখির মত উড়ার সপ্ন নিয়ে আজ মানুষ আকাশে চড়ে বেড়াচ্ছে উড়োজাহাজ,প্যারাস্যুট,নভোযান দিয়ে।সবকিছু ই সম্ভব হয়েছে আজ বিজ্ঞান চর্চার ফলে।

LEAVE A REPLY

10 − 6 =