রিসাইকেল+রিইউজ+রিনিউ=মানি সেভিং

0
125

আপনি নিশ্চয়ই টাকা সেভ করেন। প্রত্যেকেরই টাকা বাঁচানোর নিজস্ব উপায় থাকে। হয়ত মাসের খরচ থেকে এখানে একটু রাখলেন তো সেখানে একটু রাখলেন। কিন্তু এভাবে আসলে কোন কনক্রিট সেভিং হয় না। টাকা বাঁচাতে হলে অবশ্যই আপনাকে হতে হবে কৌশলী।

আর আমরা তো প্রত্যেকেই নতুন জিনিস কিনতে পছন্দ করি। দোকানে কোন কিছু দেখলাম আর হুট করে পছন্দ হয়ে গেল। কি করা?! কিনতে তো হবেই। কিন্তু হঠাৎ পছন্দ হওয়া এই বাড়তি জিনিসটি কিনব কিভাবে? টাকা তো বাড়তি নেই। তাই বলছি আপনার যা আছে তাই দিয়ে তৈরি করে ফেলুন না নতুন কোন জিনিস! আবার এমনও হয় অনেক সময় যে অনেক পছন্দের জিনিস পুরনো হয়ে গেলেও ফেলতে ইচ্ছা করেনা। সেক্ষেত্রে কি করা যায়? বলুন তো। মন খারাপ করার কিছুই নেই। আপনার ফেলে দেয়ার মত এমন জিনিস কেও কিছুটা পরিবর্তন করে স্থান দিতে পারেন আপনার ঘরে।

money-management-for-young-professionals_766 রিসাইকেল+রিইউজ+রিনিউ=মানি সেভিং

রিসাইকেল করার অর্থ হল পুরনো জিনিস কে পরিবর্তন করে নতুন কিছু তৈরি করা যা পুনরায় ব্যবহার করা যায় একদম নতুনের মত। বর্তমানে রিসাইকেল বস্তুর রমরমা। ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই আপনি পেয়ে যাবেন নতুন নতুন আইডিয়া। কিন্তু আপনি কি চিন্তা করেছেন এর দ্বারা টাকা সেভ করতে পারেন? বোধহয় না। তেমনই কিছু আইডিয়া শেয়ার করব বলেই আমার এই লেখা। আমি জানি আপনারা আমার চেয়ে অনেক বেশি জানেন এবং চেষ্টা করলে আপনারাও অনেক আইডিয়া পেয়ে যাবেন। নিচে কিছু আইডিয়া দেয়া হল আপনাদের সুবিধার জন্যঃ

১) প্লাস্টিক বোতলকে ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন কাজে। মিনারেল ওয়াটার বা ড্রিঙ্কসের বোতল গুলো রিসাইকেল্ড বোতল। কাঁচের বোতলের চেয়ে এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। আবার এই বোতলগুলোকে আপনি ব্যবহার করতে পারেন অনেক কাজে। এগুলোকে ব্যবহার করতে পারেন ছোট ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট লাগাতে। এছাড়া বানাতে পারেন পেন হোল্ডার অথবা ব্যবহার করতে পারেন গৃহসজ্জার যেকোনো কাজে। আমার ছোট বোন প্রায়ই দেখি প্লাস্টিকের বোতল কেটে ভাস বানায়, ল্যাম্প বানায় যা দেখতে অনেক সুন্দর দেখায়। চেনাই যায় না যে একসময় তা বোতল ছিল। সুতরাং প্লাস্টিকের বোতল আপনার অনেক কিছু কেনার টাকা বাচিঁয়ে দিতে পারে।

২) পুরনো খবরের কাগজকেও আপনি অনেক কাজে ব্যবহার করতে পারেন। এই কাগজ দিয়ে মুড়ে রাখতে পারেন জিনিস যা আপনার জিনিসটিকে ভাল রাখবে। পুরনো কাগজের আরেকটি ভাল ব্যবহার হল ‘পেপার ম্যাসে’। এর দ্বারা আপনি বানাতে পারেন আপনার পছন্দ মত যেকোনো জিনিস। একই কাজ করা যায় পুরনো ক্যালেন্ডার দিয়ে। ক্যালেন্ডারের সুন্দর পাতা আপনি ব্যবহার করতে পারেন আপনার বন্ধুর জন্য কার্ড বানাতে অথবা অন্য যেকোনো কাজে। টাকা সেভ হল কিনা?

৩) আপনার যদি থাকে বাগান করার শখ তাহলে অবশ্যই আপনার গাছের জন্য আপনাকে সার কিনতে হয়? তার মানে টাকা খরচ। কেন করবেন যদি সার আপনার ঘরেই থাকে? নিত্যদিনের সব্জির খোসা, ডিমের খোসা, ফেলে দেয়া চা পাতা হতে পারে খুব ভাল জৈব সার। সুতরাং এগুলো ব্যবহার করুন এবং অযথা টাকা খরচের হাত থেকে বাঁচুন।

৪) আপনার সখের পুরনো ড্রেসটি বাদ দিতে ইচ্ছা করছেনা। তাই তো? কোন সমস্যা নেই ড্রেস কেটে বানিয়ে ফেলুন কুশান কভার, টেবিল ম্যাট অথবা ব্যবহার করতে পারেন ওয়াল ম্যাট তৈরিতে। এছাড়াও বানাতে পারেন ছোট হ্যান্ড পার্স, ওয়ালেট এমনকি আপনার হ্যান্ডসেটের কভার। এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন পুরনো জিন্সও। বিশ্বাস হচ্ছেনা? আমি নিজেই আমার হ্যান্ডসেটের কভার বানিয়েছি জিন্স কেটে। দারুন না! বেঁচে গেল নতুন কেনার টাকা।

৫) ভেঙ্গে গেল আপনার পছন্দের ক্রিস্টালের মগ? কি হয়েছে? ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো কে ব্যবহার করতে পারেন গ্লাস পেইন্টিঙের কাজে। এছাড়া হ্যান্ডেল ভাঙ্গা মগেও লাগাতে পারেন গাছ অথবা ব্যবহার করতে পারেন অন্য কোন কাজে। কাঁচের টুকরো, মোজাইক বা টাইলসের টুকরো আরও ব্যবহার করতে পারেন আপনার আয়না বা ফটোফ্রেম ডিজাইন করতে।

৬) পুরনো ইলেক্ট্রনিক্স যেমন নষ্ট হ্যান্ডসেট, কম্পিউটার ইত্যাদি কি কোন কাজে আসে? তাহলে? কি করবেন? ফেলে দিবেন? কখনই না। অনেক শপ আছে যারা পুরনো ইলেক্ট্রনিক্স এর এক্সচেঞ্জে নতুন ইলেক্ট্রনিক্স অথবা টাকা দেয়। সুতরাং ফেলে না দিয়ে এগুলো থেকে অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন।

পুরনো জিনিস ফেলে না দিয়ে তা দিয়েই তৈরি করতে পারেন নতুন কিছু। নতুন কিছু কেনার টাকা বাঁচিয়ে পুরনোকেই নতুন রূপ দান করুন। এতে আপনার ঘরের ফেলে দেয়া জিনিস যেমন কাজে লাগবে তেমনি আপনার ঘরের পরিবেশও ভাল রাখবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 + 15 =