অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন রক্ষণাবেক্ষনের কিছু টিপস

0
166
আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি কি ধীরে ধীরে ধীরগতির হয়ে যাচ্ছ ? আপনি যদি আপনার ফোনটিকে নতুনের মতই দেখতে চান এই টিপসগুলো অনুসরণ করুন। স্মার্টফোনটি থাকবে নতুনের মতই
১. হোম স্ক্রিন
কম্পিউটারের ক্ষেত্রে দেখা যায় আপনার ডেক্সটপে যদি অনেক ফাইল বা ফোল্ডার থাকে তা আপনার কম্পিউটারের গতি কমিয়ে দিবে, আপনার স্মার্টফোনটিও এর ব্যাতিক্রম নয়। আপনার অ্যান্ড্রয়েডের হোম পেজে অতিরিক্ত উইজেট,আইকন আপনার মোবাইলটিকে স্লো করে দিবে । অতিরিক্তি আইকন ও উইজেট অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটিকে শুধু ধীরগতির ই না বরং ব্যাটারীর আয়ু কমিয়ে দিবে ।
টিপস: আপনার ফোনের হোম স্ক্রিনে অপ্রয়োজনীয় সকল আইকন ও উইজেট বাদ দিন । আপনি নিজেই এর ফলাফল দেখতে পাবেন ।
index অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন রক্ষণাবেক্ষনের কিছু টিপস
২. সফটওয়্যার ও অ্যাপস
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেক অনেক অ্যাপস ব্যবহার করে যার বেশীরভাগগুলো একই ধরনের কাজ করে , আবার অনেকগুলো ব্যবহারই হয় না । আপনার মোবাইল ফোনের অ্যাপসগুলো দেখুন কোনটি অনেক পুরাতন হয়ে গেছে এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহৃত হচ্ছে না । কিছু অ্যাপস আপনার ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতেই থাকে আপনার ব্যাটারী লাইফ এবং মেমোরি নষ্ট করে।
টিপস: আপনার অ্যাপসগুলো নিয়মিত রিভিউ করুন । দেখুন যেই অ্যাপসগুলো ব্যবহৃত হয় না কিংবা যে সকল অ্যাপস মোবাইলৈ প্রচুর মেমোরি খরচ করে সে সকল অ্যাপসের বিকল্প দেখুন।
৩. রিবুটিং
এটি বলা হয় আপনার ফোনটি নিয়মিতভাবে রিস্টার্ট করলে আপনার ফোনের অনেকগুলো সমস্যা থেকে বাচবেন । রিস্টার্টের মাধ্যমে যে সকল অ্যাপস ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছিল সেগুলো বন্ধ হয় এবং আপনার মোবাইলের গতি অনেকটুকু বাড়িয়ে দিবে । রিবুট অনেকটা রাতের ঘুমের মতো যা শুধু আপনার শক্তিকে বাড়িয়ে দিবে না বরং আপনার মনকে সতেজ রাখবে ঠিক তেমনি মোবাইল রিবুট করল এটা রিফ্রেশ হয়, কিছু ত্রুটি স্বয়ংক্রিয়ভঅবে দুর হয়ে যায়।
টিপস: দিনে বেশ কয়েকবার মোবাইলটি রিবুট করার চেষ্টা করুন তা আপনার মোবাইলে নতুনের স্বাদ পেয়ে যাবেন।
৪. মোবাইল ডিভাইস প্রায়ই আমরা মোবাইলের বিভিন্ন সেবা যেমন ওয়াইফাই, ব্লুটুথ,জিপিএস,ইন্টারনেট কানেকশন ইত্যাদি ব্যবহার করি এবং ব্যবহার শেষে অফ করতে অনেক সময় ভুলে যাই। এই সেবা গুলো আপনার স্মার্টফোনের কার্যক্ষমতাকে অনেকটুকু কমিয়ে দেয়এবং আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ব্যাটারীকে খুব দ্রুত চার্জশুন্য করে ফেলে।
তাই চেষ্টা করুন সবসময়ই এই সেবাগুলো ব্যবহার করার পর বন্ধ করে রাখতে । যদি তা সম্ভব না হয় গুগল প্লে স্টোরে নিদির্ষ্ট কিছু অ্যাপস আছে যা আপনাকে এই সেবাগুলো বন্ধ রাখতে সহায়তা করবে ।
৫. ব্যাটারী লাইফ কয়েক বছর পর মোবাইলের ব্যাটারী ঠিক আগের মত অবস্থায় থাকে না । আপনি হয়ত ব্যাটারী নিয়ে বিরক্ত হতে পারেন । আপনি যদি ব্যাটারীর কার্যক্ষমতা বাড়াতে চান তবে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস, টাইমআউট ইত্যাদি কমিয়ে রাখুন।যখন স্মার্টফোনটি প্রয়োজন হচ্ছে না তখন Airplane মুড ব্যবহার করুন । লোকেশন সার্ভিস অফ করে রাখুন । গুগল প্লে স্টোরে নিষির্ষ্ট কিছু অ্যাপস আছে যা আপনার ব্যাটারীর ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
টিপস: বিনা প্রয়োজনে মোবাইলের ডাটা কানেকশন, জিপিএস বন্ধ রাখুন।
৬. ব্রাউজার ক্যাশ এবং কুকিস আপনি যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন অনেক ডাটা আপনার মোবাইলের সক্রিয় মেমোরীকে দুর্বল করে ফেলে । ক্যাশ মেমোরীর আপনার মোবাইলকে ধীরগতি করে তুলবে ।
টিপস : আপনার মোবাইলের কুকিস এবং ক্যশ মেমোরী নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করুন।
৭. লাইভ ওয়াল পেপার লাইভ ওয়ালপেপার গুলো দেখতে অনেক ভাল লাগে এবং মজার। খারাপ দিকটা হচ্ছে সেগুলো আপনার স্মার্টফোনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিবে । উজ্জ্বল ছবি , নিয়মিত পরিবর্তন আপনার ফোনের প্রসেসর ও র‌্যামকে সর্বদা ব্যস্ত রাখে । যা বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে।
টিপস: মোবাইলের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখঅর জন্য লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার কম করুন
৮. নিয়মিত ফোনটি পরিষ্কার করুন আপনার মোবাইল মেমোরীর অপ্রয়োজনীয় ফাইল , টেম্পফাইল ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার করুন । এছাড়াও মোবাইলের বাটন ও বাইরের কাভার ও নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। আপনি যদি উপরের টিপসগুলো নিয়মিত অনুসরণ করেন তবে আপনার স্মার্টফোনটি দীর্ঘসময় পরও খাকবে নতুনের মত।

LEAVE A REPLY

20 − 6 =