এইচটিএমএল কি এবং কেন শিখবেন ?  FavoriteLoadingবুকমার্ক

এইচটিএমএল থেকে ইচ্ছে করে দূরে থাকা মানুষের মাঝে এইচটিএমএল থেকে দূরে থাকার যে দুটি প্রধান কারন দেখেছি সেগুলো খুবই অদ্ভুত। প্রথমত অনেকে মনে করেন আমি তো ওয়েব ডিজাইনার না বা হতেও চাইনা, তাহলে আমি কেন এইচটিএমএল শিখবো। আবার অনেক ভালো অনলাইন আয় করা লোকও এই ভেবে এটা থেকে দূরে থাকেন যে এটা একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, আর প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ মানেই অনেক কঠিন। তাই এসব ভুল ধারনা দূর করতে আমার আজকের এই পোস্ট। তো চলুন দেখে নেই এসব ভুল ধারনা এবং এইচটিএমএল আসলে কি এবং কেন শিখবেন ।

index এইচটিএমএল কি এবং কেন শিখবেন ?

এইচটিএমএল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ?

না। এইচটিএমএল একদমই কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ নয়। এটা একটা স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ। আর আমি যদি নিজের ভাষ্যমতে বলি তাহলে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ মোটেও এতোটা কঠিন নয় যতটা অনেকে ভাবে। কিন্তু তারপরেও যারা এইচটিএমএল ভয় পান তাদের জন্য বলছি, এইচটিএমএল প্রোগ্রামিং থেকে অনেক দূরের একটা বিষয় এবং এটি যেই কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে হাজার গুন সহজ।

 

আমি তো ওয়েব ডিজাইনার হতে চাই না। এইচটিএমএল কেন শিখবো?

ওয়েবের মূল ভিত্তি হচ্ছে এইচটিএমএল। আপনি একজন এফিলিয়েট মার্কেটার অথবা একজন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট যাই হন না কেন আপনি নিজের অজান্তে হলেও আসলে এইচটিএমএল নিয়ে কাজ করছেন। ওয়ার্ডপ্রেসে আপনি যখন কোন পোস্ট করেন তারপর তা আসলে ওয়েব ব্রাউজারে এইচটিএমএল আকারেই প্রদর্শিত হয়। আবার আপনি যখন অন্যের ওয়েবসাইট ব্রাউজ করেন তখন তাও এইচটিএমএল আকারেই দেখেন। ব্রাউজার এইচটিএমএল ডাটাকেই আপনার সামনে ভিজুয়ালি প্রদর্শিত করে। এখন আপনি যদি চান যে আপনার সাইটের একটা ভালো ডিজাইন হোক, তাহলে আপনি হয়তো একটা থিম কিনবেন বা ফ্রি ব্যাবহার করবেন যা হয়তো আরও অনেকেই ব্যবহার করছে, সেই ক্ষেত্রে আপনার সাইট ইউনিক ডিজাইনের হল না। আবার আপনি যদি একজন ওয়েব ডিজাইনার হায়ার করে একটা কাস্টম থিম করিয়ে নিতে চান তাহলে তাতে অনেক বেশি খরচ পড়বে। কিন্তু এমন যদি হয় যে আপনি একটা ফ্রি ডিজাইনকে আপনার মত করে পরিবর্তন করে নিয়ে তাকে ইউনিক করতে পারলেন তাহলে কেমন হয়। হালকা পাতলা এইচটিএমএল এবং সিএসএস জানলেই আপনি এই কাজটা করতে পারেন। এতে আপনার টাকাও বাঁচলো আবার আপনার সাইটের ডিজাইনও ইউনিক। তবে মনে রাখবেন, এর জন্য আবার সবজান্তা শমশের হতে যাবেন না।

 

এইচটিএলএম শিখতে হলে ইন্টারনেট থাকা লাগবে

মোটেও না। কারন ওয়েব সার্ভার এর কাজ হচ্ছে কিছু ফাইল এক্সিকিউট করে এইচটিএমএল আউটপুট ব্রাউজার এর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া। আর এইচটিএমএলকে ভিজুয়ালি প্রদর্শন করে ব্রাউজার নিজেই। এখানে ওয়েব সার্ভার এর কোন ভূমিকা নেই। অর্থাৎ এইচটিএমএল এ ওয়েব ডিজাইন এর পুরো কাজটা আপনি ব্রাউজার ব্যাবহার করে লোকালি করতে পারবেন। এর জন্য ইন্টারনেট এর প্রয়োজন নেই। আর যদি ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন সহ এই ধরনের কোন কাজ হয় যেখানে আসলে ওয়েব সার্ভার দরকার সেই ক্ষেত্রে আপনি Xampp বা Wamp ব্যাবহার করে সহজেই লোকাল একটা সার্ভার বানিয়ে নিতে পারবেন যা একটা লাইভ ওয়েব সার্ভার এর মতই কাজ করবে।

 

এইচটিএমএল শুধু ওয়েব ডিজাইনারদের জন্য

এই ধারণা একেবারেই ভূল। এইচটিএমএল এর পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত। আপনি জানেন কি? এইচটিএমএল দিয়ে যেকোনো ডিভাইসের জন্য অ্যাপ এমনকি গেম ডেভেলপ করা যায়। গুগল প্লে, অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর, অ্যামাজন কিন্ডল স্টোরে বহু জনপ্রিয় অ্যাপ আছে যা এইচটিএমএল দিয়ে তৈরি। এমনকি নতুন বাজারে আসা ফায়ারফক্স ওএস এর প্রধান ডেভেলপমেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ এইচটিএমএল।

এর বাইরে আপনি যদি সিপিএ করেন তাহলে ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন এর জন্য, যদি এফিলিয়েট করেন তাহলে লিঙ্ক দিয়ে বাটন তৈরির জন্য, যদি এসইও করেন তাহলে এসইও ফ্রেন্ডলি করে ওয়েব সাইটের মার্কআপের জন্য – অর্থাৎ যেই দিকেই হোক এইচটিএমএল এর গুরুত্ব অপরিসীম।

বেসিক এইচটিএমএল শিখার জন্য আপনার খুব বেশি সময় লাগবে না। তাই দেরি না করে এটি শিখে নিয়ে আপনার সেক্টরে আপনি এগিয়ে থাকুন। আশা করি পোস্টটিতে এইচটিএমএল সম্পর্কে আপনাদের কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পেরছি।

এই জাতীয় আরো টিউন

আপনিও লিখুন মতামতের উত্তর

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × one =