৪ টি সেরা ভিডিও এডিটর

1
201

বর্তমান স্মার্টফোন এবং ক্যামেরার জনপ্রিয়তার বিশ্বে সবাই চায় যে কোন স্মরণীয় মুহুর্তের কিছু ভিডিও ক্লিপ ধারণ করতে। শুধু ভিডিও ধারণ করলেই তো আর ভিডিওগুলো প্রকাশ করা যায় না। তার জন্য দরকার কিছু এডিটিং। অনেকে দ্বিধায় পড়ে যায়, ভিডিও এডিটর পছন্দ করতে গিয়ে। তাই আজ সেইসব মানুষদের জন্য ৪ টি সেরা ভিডিও এডিটর নিয়ে আলোচনা করা হবে।

সেই চারটি নামকরা ভিডিও এডিটর হচ্ছেঃ

১. এডোবি প্রিমিয়ার প্রো সিএস৬
২. কোরেল ভিডিও ষ্টুডিও প্রো এক্স৬
৩. সাইবারলিঙ্ক পাওয়ার ডিরেক্টর ১১
৪. সনি ভেগাস প্রো ১২

উপরোক্ত সফটওয়্যারগুলো বিভিন্ন প্যাকেজে পাওয়া যায়। কিন্তু বিভিন্ন সফটওয়্যারের ফিচার বিভিন্ন। যেমন- অনেক সফটওয়্যার ৩৮৪০*২১৬০ পিক্সেলের ভিডিও সাপোর্ট করে, কিন্তু সবগুলো আবার রেডকোড সাপোর্ট করে না। মোবাইলফোনে উঠানো ভিডিও এডিট করা অনেক সহজ ব্যাপার, কিন্তু প্রফেশনাল ক্যামেরায় উঠানো ভিডিও সব সফটওয়্যারে এডিট করা যায় না।

ভিডিও এডিট করার জন্য একটি ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার দরকার। যেমন- ইন্টেল কোর আই৭-৩৭৭০ কোয়াড কোর ৩.৫ গিগাহার্জ, ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম, ১২৮ গিগাবাইট এসএসডি সিস্টেম ড্রাইভ, ২ টেরাবাইট সেকেন্ডারি ড্রাইভ এবং একটি ভালো গ্রাফিক্স কার্ড।

এইবার আসুন সফটওয়্যারগুলো নিয়ে একটু বিষদ আলোচনা করা যাক,

১. এডোবি প্রিমিয়ার প্রো সিএস৬:

অপারেটিং সিস্টেমঃ উইন্ডোজ ৭ এবং ম্যাক ওএস এক্স।

adobe-premiere-7513-640 ৪ টি সেরা ভিডিও এডিটর

এডোবি প্রিমিয়ার প্রো ৬ ৪কে রেজুলেশন পর্যন্ত ভিডিও সাপোর্ট করে। তাই অনেক প্রোফেশনাল ভিডিও এডিটরের পছন্দের সফটওয়্যারের তালিকায় এডোবি প্রিমিয়ার প্রো সিএস৬ এর নাম রয়েছে। যারা আগে এডোবি প্রিমিয়ারের পুরোনো ভার্সনগুলো ব্যবহার করেছেন তাদের জন্য এই সিএস৬ ব্যবহার করতে সমস্যা হবে না, কারন এই ভার্সনে ইন্টারফেসের আমূল কোন পরিবর্তন আনা হয় নি।

এই সফটওয়্যারটিতে একই প্রজেক্টের মধ্যে অনেক টাইমলাইন একসাথে ব্যবহার করা যায়। এতে কালার কারেকশনের জন্য প্লাগইন রয়েছে।

সমস্যাযুক্ত ফুটেজ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য এডোব প্রিমিয়ার প্রো ৬ এ কিছু প্লাগইন ইফেক্টস যোগ করা হয়েছে। ক্যামেরার ঝাকুনিযুক্ত ভিডিওগুলো সঠিক করার জন্য ইমেজ-সিনথেসিস এলগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে। এই সফটওয়্যারটির খুচরা মূল্য ৭৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

২. কোরেল ভিডিও ষ্টুডিও প্রো এক্স৬:

অপারেটিং সিস্টেমঃ উইন্ডোজ এক্সপি এবং এর পরের ভার্সনগুলো

Corel-7513-640 ৪ টি সেরা ভিডিও এডিটর

এই সফটওয়্যারটি অ্যাকশন ভিডিওগ্রাফার, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটারদের জন্য জনপ্রিয় একটি সফটওয়্যার। যাদের পিসিটি অতটা শক্তিশালী কনফিগারেশনের জন্য না, তাদের জন্য একটি ভালো পছন্দ হতে পারে এই সফটওয়্যারটি।

যারা ভিডিওগ্রাফিতে দক্ষ না, তারা এই সফটওয়্যারটি নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করলেই এই সফটওয়্যারটিতে দক্ষ হয়ে যেতে পারেন।

এডোবি প্রিমিয়ারে রেডকোড ভিডিও সাপোর্ট করলেও এই সফটওয়্যারটিতে রেডকোড ইম্পোর্ট করতে পারে না। কিন্তু এই সফটওয়্যারটি এভিসিএইচডি ২.০ ফরম্যাট সাপোর্ট করে।

সুতরাং এই সফটওয়্যারটি অপেশাদারি এডিটরের জন্য প্রযোজ্য। এই সফটওয়্যারটিতে ডিভিডি এবং ব্লু-রে ফরম্যাটে ভিডিও রেন্ডার করা যায়। এছাড়াও এই সফটওয়্যারটি ব্যবহারের মাধ্যমে রেন্ডারকৃত ভিডিও সরাসরি ইউটিউব এবং ভিমিওতে আপলোড করা যাবে।

৩. সাইবার লিঙ্ক পাওয়ার ডিরেক্টর:

অপারেটিং সিস্টেমঃ উইন্ডোজ এক্সপি এবং এর পরের ভার্সনগুলো।

cyberlink-7513-640 ৪ টি সেরা ভিডিও এডিটর

সাইবার লিঙ্ক পাওয়ার ডিরেক্টরে এডোবি এবং সনির অনেক শক্তিশালী ফিচার যোগ করা হয়েছে। এতে দক্ষ এবং অদক্ষ এই দুই ধরণের লোকেরাই কাজ করতে পারে। এতে ৪কে রেজুলেশনের ভিডিও পর্যন্ত ইম্পোর্ট করা যায়। পাওয়ার ডিরেক্টরে রেডকোড সাপোর্ট করে না। এটি কেবলমাত্র এনটিএসসি (NTSC) এবং পাল (PAL) ফ্রেম রেটের ভিডিও উৎপাদন করতে পারে।

এছাড়া এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে আপনি থ্রিডি ভিডিও এক্সপোর্ট করতে পারবেন। এছাড়া সফটওয়্যারটি দিয়ে ক্যামেরার ঝাকুনিযুক্ত ভিডিওগুলো ঠিক করা যাবে।

৪. সনি ভেগাস প্রো ১২:

অপারেটিং সিস্টেমঃ উইন্ডোজ এক্সপি এবং এর পরের ভার্সনগুলো।

sony-7513-640 ৪ টি সেরা ভিডিও এডিটর

সনি ভেগাস প্রো দিয়েও প্রফেশনাল কাজ করা যায়। এতে কালার কারেকশন সহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। অ্যাডোব আফটার ইফেক্টস এর সকল সুবিধাও এতে রয়েছে। এই সফটওয়্যারটি দিয়ে খুব সহজে ভিডিও কাটা যায়। সুতরাং বলা যায় যে, সনি ভেগাস প্রো, এডোব প্রিমিয়ার প্রো এবং আফটার ইফেক্টস এর সমন্বয়।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ