মস্তিষ্ক নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা

0
197

আমাদের দেহের সবচেয়ে রহস্যময় অংশটি হলো মস্তিষ্ক। এর সম্পর্কেই সবচেয়ে কম জানি আমরা। মস্তিষ্ক সম্পর্কে নানা তথ্যই জানি আমরা। কিন্তু এর অনেক কিছুই ভুল। এখানে জেনে নিন মস্তিষ্ক সম্পর্কে প্রচলিত ১১টি ভুল ধারণা যা আমরা বহুকাল ধরে জেনে আসছি।

activebrain মস্তিষ্ক নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা

১. মস্তিষ্কের সামান্য একটা অংশ আমরা ব্যবহার করি। যদি এই কথাটি সত্য হতো তবে মস্তিষ্কে বড় একটা অংশ ফেলে দিলে কিছুই ঘটতো না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ভুল তথ্যটি চালু হয়েছে সম্ভবত এই ধারণা থেকে যে, একই সময়ে মানুষের মস্তিষ্কে শতভাগ ব্যবহৃত হয় না। এ কথা জানান জন হপকিন্স স্কুল অব মেডিসিনের নিউরোলজিস্ট ব্যারি গর্ডনের।

২. বিশের কোঠায় মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমতে থাকে বলে মনে করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বয়সের সঙ্গে মানুষ আরো বেশি স্মার্ট ও জ্ঞানী হয়। কাজেই মস্তিষ্কে কর্মক্ষমতাও বাড়তে থাকে।

৩. রাইট-ব্রেইনড বা লেফট-ব্রেইনড বিষয়ের ওপর ব্যক্তিত্ব নির্ভর করে বলে ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এটি ভুল ধারণা। কিন্তু বাম-মস্তিষ্ক বা ডান-মস্তিষ্কের ওপর ভিত্তি গড়ে ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে বলে কোনো বৈজ্ঞানীক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

৪. অ্যালকোহল মস্তিষ্কের কোষ মেরে ফেলে বলে আরেকটি ভুল ধারণা চলে আসছে বহুকাল ধরে। খাঁটি অ্যালকোহল দেহের কোষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। কিন্তু যে অ্যালকোহল মানুষ বার বা বাড়িতে এনে পান করে তা মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু ঘটায় না। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মস্তিষ্ক তথ্য গোছানোর কাজে কিছুটা সমস্যা করে এটি।

৫. জন্মের সময় মস্তিষ্কে যে কোষ থাকে তাই আজীবন থেকে যায়। এটি যে ভুল ধারণা তা সুইডেনের এক দল গবেষক প্রমাণ করেছেন। ১৯৯৮ সালের ওই গবেষণায় দেখা যায়, হিপোক্যাম্পাস যেখানে নতুন স্মৃতি জমা হয় সেখানে নতুন নতুন নিউরন সৃষ্টি হতে থাকে।

৬. মাদক মস্তিষ্কে ছিদ্র সৃষ্টি করে। আসলে তা করে না। বিভিন্ন ধরনের মাদকের বিভিন্ন প্রভাব রয়েছে। এরা মস্তিষ্কের কাঠামো ও কার্যক্রমে প্রভাববিস্তার করে। কিন্তু এরা পনিরের মতো ছিদ্র সৃষ্টি করে না। মাদকদ্রব্য মূলত মস্তিষ্কের রসায়নে সমস্যা সৃষ্টি করে। যেমন- হেরোইন নিউরোট্রান্সমিটারের বিকল্প হয়ে কাজ করতে থাকে।

৭. ‘ইউরেকা’ বা ‘আহা’-এর মতো চরম উত্তেজনা বা আবেগময় সময়গুলো মস্তিষ্কের বিরল ঘটনা বলে মনে করা হয়। অথচ নিউরোবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, সৃষ্টিশীলতা নিয়ে মস্তিষ্কের যে অংশ ক্রিয়াশীল থাকে সেখানে ‘ইউরেকা’ মুহূর্তটি প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। আবার নতুন কোনো আইডিয়া সৃষ্টির প্রক্রিয়াতেই ‘আহা’ মুহূর্তটিও চলে আসে।

৮. বড় মস্তিষ্ক মানেই স্মার্ট প্রাণী বলে মনে করা হয়। এটি বড় ধরনের ভুল। যদি তাই হতো তবে গরু কোনো শিম্পাঞ্জির চেয়ে বুদ্ধিমান হতো। আবার মস্তিষ্ক ও দেহের ওজনের আণুপাতিক হারের ওপর ভিত্তি করে বুদ্ধিমত্তা পরিমাপেরও কোনো সম্পর্ক নেই।

৯. সবাই মনে করেন, পুরুষের মস্তিষ্ক যুক্তিবোধসম্পন্ন। আর নারীদেরটা আবেগময়। নারী-পুরুষের মস্তিষ্কের গঠনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এ পার্থক্য কোনো বিশেষ সামর্থ্য তুলে ধরে না। এ পার্থক্য যুক্তিবোধ বা আবেগী হওয়ার পেছনে কাজ করে না। লিঙ্গভিত্তিক এ পার্থক্য সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য থেকে বেরিয়ে আসে।

১০. মানুষ হয় শুনে বা দেখে শিখতে পারে বলে মনে করা হয়। কিন্তু এটিও একটি ভুল ধারণা। অনেকে রঙিন দৃশ্যমান বই পড়তে পছন্দ করেন। আবার অনেকে শুনে বা স্পর্শ দিয়ে শিখতে পছন্দ করেন। কিন্তু এগুলো এমন বৈশিষ্ট্য নয় যা মস্তিষ্ক সৃষ্টি করে। এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, দৃশ্যমান বা শ্রবণ পদ্ধতির মাধ্যমে শেখার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি হয় না।

১১. মানুষের কেবল ৫টি অনুভূতি থাকে বলে মনে করা হয়। ভুল ধারণা বলে প্রমাণিত হয়েছে এটি। স্পর্শ, শ্রবণ, দৃষ্টি, স্বাদ এবং গন্ধ ছাড়াও অন্যান্য অনুভূতি রয়েছে। এগুলো অনেকটা গ্রহণ ও দেওয়ার মধ্যে মেলে।

LEAVE A REPLY

nine + 4 =