আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট কেন করি?  FavoriteLoadingবুকমার্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার আপনার প্রিয় কিংবা অপ্রিয় বিষয় যাই হোক না কেন, এ থেকে ইচ্ছা থাকলেও দূরে থাকতে পারছেন না অনেকেই। ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বহু মানুষেরই নিত্যসঙ্গী। কিন্তু কী কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে? বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে কয়েকজন নৃতত্ত্ববিদ সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ করেছেন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

wordpress-post আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট কেন করি?

প্রতিদিন নিত্যনতুন পোস্ট দেওয়া অনেকেরই প্রিয় কিংবা ঘৃণার বিষয়। আর এর প্রভাব পড়ছে এখন বহু মানুষের ওপরই। প্রভাবের বাইরে থাকা সম্ভব হচ্ছে না কারোই।

‘কেন আমরা পোস্ট করি’ এ বিষয়ে ১৫ মাস ধরে গবেষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বহু বিষয় উঠে এসেছে। এতে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি করে তা বিভিন্ন মানুষের কাছে জানতে চান গবেষকরা। এতে আটটি দেশের বিভিন্ন সামাজিক অবস্থানের মানুষের কাছ থেকে যেমন তথ্য সংগ্রহ করা হয় তেমন বিভিন্ন বয়সের মানুষের কাছ থেকেও মতামত নেওয়া হয়। এতে সেলফি ও এ ধরনের কিছু আচরণও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয় নিয়ে এ গবেষণাটি ছিল ইউনিভার্সিটি কলেজ, লন্ডন ও ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিলের যৌথ প্রকল্প।

শ্রীরাম ভেঙ্কটরমন একজন গবেষক ও এ গবেষণার ভারতীয় প্রকল্পের প্রধান। তিনি বলেন, ‘এটি আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে যেভাবে দেখি তার ওপর নির্ভরশীল। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সৃষ্টি, শুধু প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপাররা যেভাবে তা তৈরি করেছেন তার ওপর নির্ভরশীল নয়। বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে যেভাবে পরিবর্তিত করছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ, সামাজিক যোগযোগমাধ্যম বিশ্বকে যেভাবে পরিবর্তিত করছে তা নয়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর প্রভাবের উদাহরণ সেলফি দিয়েও বিবেচনা করা যায়। যেমন চিলির ‘ফুটিস’, যুক্তরাজ্যের ‘আগলিস’ ইত্যাদি জনপ্রিয় নাম। আবার ইটালি ও ব্রাজিলে সনাতনী সেলফি জনপ্রিয় হলেও চীনে তরুণরাই বেশি সেলফি তুলতে পছন্দ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সারাবিশ্বে কয়েকটি উপায়ে স্থানীয় চাহিদাও পূরণ করে। নারী-পুরুষ পার্থক্যের বিষয়ও অনেক স্থানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যেসব দেশে নারী-পুরুষ সরাসরি যোগাযোগ করা নিষিদ্ধ সেসব দেশেও ফেক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অহরহ এ ধরনের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

ব্রাজিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারেও কিছু মানুষের পার্থক্য দেখা যায়। যেমন গৃহভৃত্য ও বাড়ির মালিক একধরনের স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরের বন্ধু হয় না।

এ বিষয়ে ইউসিএল প্রফেসর ড্যানিয়েল মিলার বলেন, ‘এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে, আমরা সারাবিশ্বে প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কত কম অংশই জানি যে তারা তাদের জীবনের সঙ্গে কিভাবে এটি জড়িয়ে ফেলেছে।’

এই জাতীয় আরো টিউন

আপনিও লিখুন মতামতের উত্তর

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 + sixteen =