আদর্শ নেতা হওয়ার কিছু সঠিক উপায়

0
172

আদর্শ একজন ব্যবসায়ী নেতা হয়ে ওঠার উপায়টি বরাবরই কঠিন। কিন্তু এ বিষয়টি সহজ করে তুলতে পারে কিছু বিষয়ে মনোযোগ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অন্তর্গত কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের দুজন প্রফেসর ব্রেন্দ্রা বুথ ও ব্রুক ভুকোভিক এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। এতে উঠে এসেছে কয়েকটি উপায়, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করে আদর্শ নেতা হয়ে ওঠা যায়। এ লেখায় তুলে ধরা হলো সে বিষয়গুলো। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

australias-new-prime-minister-wants-to-immediately-dismantle-his-countrys-fight-against-climate-change আদর্শ নেতা হওয়ার কিছু সঠিক উপায়

১. নিজেকে জানুন
অন্যকে জানার জন্য সবার আগে নিজেকে জানা প্রয়োজন। ব্যবসায়ী হিসেবে আদর্শ হয়ে ওঠার জন্য নিজের নানা বিষয় জেনে নেওয়ার বিকল্প নেই। নিজের চরিত্র, মূল্য ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় আদর্শ ব্যবসায়ী হয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। সামাজিক জীবনযাপন করা কিংবা উৎসাহমূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্যও নিজেকে জানা প্রয়োজন।

২. যোগাযোগ রাখা শিখুন
অন্যের সঙ্গে পরিচিতিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, এ পরিচয়কে ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যত গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সঙ্গেই আপনার পরিচয় থাকুক না কেন, তাদের সঙ্গে সঠিকভাবে যদি যোগাযোগ না থাকে তাহলে তা কোনো কাজেই আসবে না। একই বিষয় প্রযোজ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে। যত বেশি কর্মীই আপনাকে চিনুক না কেন, তাদের সঙ্গে সঠিক সম্পর্ক গড়ে না উঠলে তা কোনো কাজে আসবে না। তাই নেতৃত্ব মানে সাধারণ বিষয় নয়, অনেক বেশি যোগাযোগ ও সেই যোগাযোগকে পূর্ণ উদ্যমে সচল রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৩. বিচক্ষণ হোন
চিন্তাভাবনা ছাড়া হঠাৎ করে কোনো কাজ করা উচিত নয়। কারণ হঠাৎ করে করে ফেলা কোনো কাজ আদর্শ নেতা হওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। তাই সব পদক্ষেপই ফেলতে হবে চিন্তাভাবনা করে। এখানে একটি ভুল পদক্ষেপও বহু ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেকোনো কাজ করার আগে সে কাজটির ফলাফল কী হতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া আরেকটি বিষয় হলো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা ও সে লক্ষ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া। এ কাজটি করা সম্ভব হলেই কেবল আদর্শ নেতা হওয়া সম্ভব।

৪. নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করা
প্রত্যেক অনুকরণীয় ব্যক্তিরই কিছু বিষয়ে সক্ষমতা ও কিছু বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে। এ বিষয়টি সবারই জেনে রাখা উচিত। এরপর নিজের সক্ষমতার বিষয়টিতে জোর দিয়ে কাজ করা উচিত। নিজের দুর্বল বিষয়ে অন্যের সহায়তা নেওয়ার মধ্যে দোষের কিছু নেই। তবে সে জন্য সবার আগে নিজের দুর্বলতা ও সক্ষমতার বিষয়টি জেনে নিয়ে সে অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অন্যের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতাও জেন নিতে হবে। যে বিষয়ে নিজের সক্ষমতা নেই তাতে আনাড়িভাবে চেষ্টা না করে ভালোভাবে তা আয়ত্ব করে তবেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

৫. মতামত গ্রহণ
অন্যের কথা শোনা এবং তাদের অন্যের মতামত গ্রহণ করা সব খাঁটি নেতাদের বৈশিষ্ট্য। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মানে অনেক বড় ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া। তাই অনুকরণীয় নেতারা কখনোই জনবিচ্ছিন্ন হন না। তারা সব সময়েই অন্যের মতামত গ্রহণ করেন এবং তা অনুযায়ী নিজের সিদ্ধান্ত নেন। অনেক ক্ষেত্রে অন্যের মতামত নেওয়া জনপ্রিয় বিষয় হয় না। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর এসব কাজে সত্যিকার নেতাদের দক্ষতা প্রশংসাযোগ্য হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন বিষয়টি কাজের, তা তারা বুঝে নিতে ভুল করেন না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen − sixteen =