ব্যর্থতাকেই বানান সাফল্যের চাবিকাঠি!  FavoriteLoadingবুকমার্ক

ব্যর্থতা প্রতিটি মানুষের জীবনে অন্যতম সঙ্গী। পৃথিবীতে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে কোনকিছুতে কখনো ব্যর্থ হয় নি। বিশেষ করে ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা অন্যতম একটি মূল কারণ। তবে এটা মনে রাখা উচিত যে, আপনি যখন কোন কিছুতে একবার ব্যর্থ হবেন, তখন সেটা আপনার ভবিষ্যতে সাফল্যের ক্ষেত্রে মূল উৎসাহ হয়ে দাঁড়াবে। ব্যর্থতার কষ্ট আপনাকে অসম্ভব জয় করতে উদ্যম জোগাবে। যদি একটি মানুষ কোন কিছুতে ব্যর্থ হয়, তখন সেটা তার জন্য কিছু আশীর্বাদ বয়ে নিয়ে আসে। যেমন –

index ব্যর্থতাকেই বানান সাফল্যের চাবিকাঠি!

১. সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাবধানতা আসবে।

আপনি যখন একবার কোন কাজে ব্যর্থ হবেন, তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিলো। যে সিদ্ধান্তটি আপনি নিয়েছিলেন সেটা বাস্তবায়ন করার মত পরিস্থিতি তৈরি হয় নি বিধায় আপনি ব্যর্থ হয়েছেন। সুতরাং এই শিক্ষাটি কাজে লাগবে। ভবিষ্যতে যখন পুনরায় কোন কিছু নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন তখন এই ভুলের অভিজ্ঞতা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাবধানতা অবলম্বনে সাহায্য করবে।

২. আপনি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাবেন।

যখন আপনি ব্যর্থ হবেন, তখন আপনার মন মানসিকতা সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে। মানুষ যখন পাহাড়ে চড়তে গিয়ে ব্যর্থ হয়, তখন সে কিন্তু পাহাড় চড়া থামিয়ে দেয় না। সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বার বার চেষ্টা করতে থাকে। ঠিক একই জিনিসটাই ঘটে এখানেও। একবার ব্যর্থ হওয়ায় আপনি আবার চেষ্টা করতে চাইবেন এবং নিজেকে যখন প্রস্তুত করবেন, তখন দেখবেন নিজের মাঝে এমন অনেক কিছুই খুঁজে পাচ্ছেন যেটা আগে আপনি আবিষ্কার করেন নি। লুকায়িত এই নতুন আপনিই আপনার চ্যালেঞ্জ জিতবে।

৩. বিপদের বন্ধুদের চিনতে পারবেন।

স্বাভাবিকভাবেই আপনি যখন একবার ব্যর্থ হবেন, তখন আপনার বিপদের বন্ধুদের চিনতে পারবেন। একজন মানুষ যখন ব্যর্থ হয় তখন অনেক কিছুই হারায় এবং যারা কেবল আপনার সুসময়ের বন্ধু আপনার ব্যর্থতার পর দেখবেন তাদের কেউই আপনার পাশে নেই। সেই সময় যারা আপনাকে সাহস জোগাবে, উৎসাহ দেবে তারাই আসল বন্ধু। তারাই প্রকৃত চলার সঙ্গী। সুতরাং তাদেরকেই প্রায়োরিটি দিতে শিখুন।

৪. আপনার দুর্বলতা বুঝতে পারবেন।

প্রত্যেকটা ব্যর্থতার পেছনেই কোন না কোন দুর্বলতা লুকিয়ে থাকে। পরীক্ষায় তারাই ফেল করে যারা ঐ বিষয়ে দূর্বল হয়। যদি কোন উদ্যোগে প্রথমবার ব্যর্থ হন তাহলেই আপনি বুঝে যাবেন আপনার দুর্বলতাটা কোথায়। তাই এর পরের বার চেষ্টা করতে চাইলে সবার আগে নিজের দুর্বলতা গুলো চিহ্নিত করুন, সেগুলো নিয়ে ভাবুন। তারপর সেই দুর্বলতা গুলো দূর করার চেষ্টা করেন। সাফল্য অর্জন সহজ হয়ে যাবে।

৫. আপনার অহংবোধ মুছে যাবে।

অনেক সময় ব্যর্থতার অন্যতম বড় কারণ হয়ে থাকে অহংকারবোধ। একটা বিষয়ে যখন সাফল্য ধাপে ধাপে আসতে শুরু করে তখন মানুষের মাঝে অহংকার বোধ চলে আসে। আর সেটা তখন মানুষকে সামনের বাধাগুলো সম্পর্কে অন্ধ করে দেয়। যার কারণে মানুষ মুখ থুবড়ে পড়ে। আপনার ক্ষেত্রে যদি এটি হয়ে থাকে তাহলে অহংকারবোধ মুছে ফেলুন।

৬. সমালোচনা গ্রহণ করতে শিখে যাবেন।

সমালোচনা গ্রহণ করতে পারা খুবই কঠিন একটি ব্যাপার। কিন্তু আপনি যদি কোন কিছুতে একবার ব্যর্থ হন, তখন আপনা আপনিই সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা আপনার মাঝে চলে আসবে। মানুষ আপনার যত বেশি সমালোচনা করবে, আপনি ততই নিঁখুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। মনে রাখবেন, সমালোচক ভালো মন্দের চিন্তাটা আপনার হয়ে করছে বলেই আপনার মন্দ দিক নিয়ে সমালোচনা করছে। তার সমালোচনা থেকে যদি আপনি মন্দ দিকটা মুছে ফেলতে পারেন তাহলে সাফল্য একেবারেই নিশ্চিত।

৭. “যদি”-র ঘুরপাক বন্ধ হবে।

মানুষ যখন কোন সিদ্ধান্ত নিতে যায়, তখন তার মাথায় একটা জিনিস ঘোরে। “যদি এটা হয়?”“যদি ওটা হয়?” এই ব্যাপার গুলো প্রথম ব্যর্থতার পর আর থাকবে না। কারণ আপনি তখন জেনেই যাবেন যে এই বিষয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নিলে যে কী হতে পারে। তাই প্রস্তুতি নেয়ার সময় আর এইসব দ্বিধাবোধ কাজ করবে না।

৮. আপনি অন্যের সাহায্য চাইতে পারবেন।

আপনার যেসব বন্ধু আছে তাদের কাছে আপনি সাহায্য চাওয়া শিখবেন। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারবেন। কারণ একা সিদ্ধান্তে ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা আপনার হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আশেপাশের মানুষের সাহায্য সহযোগীতা খুবই জরুরী হবে।

৯. সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে পূর্ব ধারণা চলে আসবে।

একবার ব্যর্থ হওয়ার পর আপনি জেনে যাবেন কী ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই পরের বার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার সময় যদি সেগুলো নিয়ে চিন্তা করেন এবং সেই হিসাবে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে প্রস্তুতি নেন তাহলে এবার আর সেই ক্ষতিগুলো হবে না।

১০. নিজের সাফল্যকে বাহবা দিতে শিখবেন।

আপনার সাফল্য আপনাকে আনন্দিত করবে। আপনি পেরেছেন – এই আনন্দ আপনাকে উদ্বেলিত করবে। হতাশা কেটে যাবে। নতুন কিছু করতে আর দ্বিধাবোধ করবেন না। ক্যারিয়ারে আত্মবিশ্বাস আসবে।

উপরের প্রত্যেকটি জিনিসই একটি সাকসেসফুল ক্যারিয়ার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয়। এবং প্রথম ব্যর্থতা আপনার জন্য সাময়িক পীড়াদায়ক হলেও তা আপনার জন্য আশীর্বাদ নিয়ে আসবে। তাই ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে শিক্ষা নিন, সফল হোন।

এই জাতীয় আরো টিউন

আপনিও লিখুন মতামতের উত্তর

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × 3 =