সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস আনলে যা ঘটে মস্তিষ্কে

0
199

মানুষ সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করলে মস্তিষ্কে কি ঘটে? এরই উত্তর জানতে গবেষণা চালান বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে, ঈশ্বরে বিশ্বাস আনলে মস্তিষ্কের যে অংশটি বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা করে তার কার্যক্রম অবদমিত হয়। সেই সঙ্গে যে অংশটি সহমর্মিতার প্রকাশ করতে কাজ করে তা সক্রিয় হয়ে ওঠে। দৃশ্যমান কিছু দেখার সময় ঠিক বিপরীত ঘটনা ঘটে।

পিএলওএস ওয়ার জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে গবেষক প্রফেসর টনি জ্যাক লিখেছেন, যখন বিষয়টি বিশ্বাস স্থাপনের, তখন বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তা মানতে চায় না মন। কিন্তু মস্তিষ্কের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের সময় জটিল সব বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনার অংশটি প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমেই মানুষ সামাজিক ও আবেগপ্রসূত অংশে প্রবেশ করে মানবিক গুণের বিস্তৃত চর্চা করতে সক্ষম হয়।

Advertisement

8F20CC7D547A452B8EFD7B0DB9E2D2AD.ashx সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস আনলে যা ঘটে মস্তিষ্কে

কাজেই ঈশ্বর বা অন্য বিষয়ে মনে বিশ্বাস আনার সময় মস্তিষ্কের সহানুভূতি অংশটিই মূল ভূমিকা রাখে।

পৃথকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক ১৫৯ জন এবং ৫২৭ জনের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এখানে সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস স্থাপনের বিষয়টি গবেষণায় আনা হয়। আট ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বিশ্লেষণী চিন্তা ও নৈতিক চিন্তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সহানুভূতি মানুষের প্রার্থনা এবং মেডিটেশনের ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে কাজ করে।

এর আগের এক গবেষণায় মাইন্ড অ্যান্ড কনসিয়াসনেস ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞ প্রফেসর জ্যাকস ব্রেইন এফএমআরআই মেশিনের সাহায্যে মস্তিষ্কে পরীক্ষা চালান। তাতে দেখা যায়, জটিল চিন্তা করতে ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে মস্তিষ্কে নিউরনের একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে যারা বিশ্লেষণের কাজ করে।

জ্যাক ব্যাখ্যা করে বলেন, নিউরনের এসব নেটওয়ার্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বাস্তবিক দৃশ্যমান দুনিয়াকে আলাদা করার মাধ্যমে সামাজিক বা আবেগের গভীরে প্রবেশ করতে পারে মানুষ। আর এভাবেই অতিপ্রাকৃতিক বিষয় অথবা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস আনার ইতিহাস হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে। আমাদের পৃথিবী এবং পৃথিবীতে বিরাজমান অস্তিত্বকে অনুভব করার এটা এক অবস্তুগত উপায়।

গবেষকরা জানান, দুই ধরনের অংশ দিয়েই মানুষ পৃথিবী ও জীবনটাকে আবিষ্কার করে। পদার্থবিজ্ঞানের কোনো সমস্যা বা নৈতিকতা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট অংশটি ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্যকর মস্তিষ্কে একটি অংশ ক্রিয়াশীল হলে অপর অংশটি অবদমিত হয়। এই অবদমনের কারণে বিজ্ঞান ও ধর্মের বিষয়টি সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।

কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির অর্গানাইজেশনাল বিহেভিয়ার বিভাগের গবেষক রিচার্ড বয়াজিস বলেন, মস্তিষ্কের দুটো নেটওয়ার্ক একে অপরকে দমন করার কারণে উভয় ক্ষেত্রে চরম ফলাফল মেলে। এই দুটো নেটওয়ার্ক অংশের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে হয়তো বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে আরো বেশি যুক্তি ও ভারসাম্য স্থাপন করা সম্ভব।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen + fifteen =