শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বানানোর কটি ধাপ  FavoriteLoadingবুকমার্ক

একবিংশ শতাব্দীর এই সময় তথ্য প্রযুক্তি যেমন মানব জীবনকে করেছে সহজ থেকে সহজতর, তেমনি প্রযুক্তির উৎকর্ষতা জীবনের বিভিন্ন বিষয়কে করে তুলেছে ঝুকিপূর্ণ । বিশেষত ইন্টারনেটের ব্যবহার আমাদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনকে করেছে অধিকতর সহজ ও সাবলীল। ব্যক্তিপর্যায়ের সাধারণ ও অতি গোপনীয় তথ্য থেকে শুরু করে আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক তথ্য আদান প্রদান সবই আজ ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগতে হয়ে থাকে। আর এই কারণেই আমাদের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামষ্টিক জীবন তথ্য ফাসের বা গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি বা বেহাত হওয়ার ঝুকিতে পরছে প্রতিনিয়ত। আর যারা এই কাজ করছে তারা আবার বেশ চমৎকার পরিচয় নিয়ে আত্মপ্রকাশও করেছে। হ্যাকার নামে তারা সারা পৃথিবীতে একনামে পরিচিত।

pass শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বানানোর কটি ধাপ

এক শক্তিশালী নেটওয়ার্কও গড়ে উঠেছে এই হ্যাকারদের। কিন্তু তাই বলে কি ভার্চুয়াল জগতে সাধারণ মানুষের বিচরণ থেমে যাবে? তা তো প্রযুক্তির এই উৎকর্ষের যুগে সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন ব্যক্তিপর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। নিজেদের পাসওয়ার্ডগুলো সতর্কভাবে তৈরী করা ও সংরক্ষণ করা। পাসওয়ার্ড তৈরীর সময় কিছু বিষয় সতর্কভাবে লক্ষ্য রাখলে পাসওয়ার্ড চুরির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া অনেকাংশেই সম্ভব।

পাসওয়ার্ড চুরি করা হ্যাকারদের অনেক পুরনো পদ্ধতি। গত আগস্টে রাশিয়ান হ্যাকাররা ১.২ মিলিয়ন পাসওয়ার্ড চুরি করেছে তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কেন এই পাসওয়ার্ড চুরি করা এতটাই সহজ? আর কি করলেইবা ভাল এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বানানো যায়? নীচে ছয়টি ধাপ থেকে দেখে নেওয়া যাক কিভাবে পাওয়া যাবে শক্তিশালী একটি পাওসয়ার্ড।

১। এলোমেলো ভাবে অনেক শব্দের পাসওয়ার্ড দিনঃ হ্যাকাররা তাদের হ্যাকিং সফটওয়্যার দিয়ে শব্দ এবং মিলে যেতে পারে এমন অক্ষর দিয়ে অনেকবার চেষ্টা করে, কিন্তু অনেক অক্ষরের এলোমেলো পাসওয়ার্ড হলে তা বের করা এতটা সহজ নয়। অন্যদিকে ছোট পাসয়ার্ড হলে অল্প চেষ্টাতেই তা বেড়িয়ে আসে। পাসয়ার্ডের ভেতর !@$%— এই সব চিহ্নগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

২। কোন ডিকশনারি ওয়ার্ড বা শব্দ ব্যবহার করবেন নাঃ যেমন “Bangladesh” একটি দেশের নাম। এক্ষেত্রে হ্যাকাররা সহজেই এই শব্দটি জেনে ফেলতে সক্ষম হবে। এমন শব্দ বা ওয়ার্ড ব্যবহার করুন যা ডিকশনারিতে নেই বা আপনি নিজে বানিয়েছেন।

৩। প্রত্যেক একাউন্ট এর জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড দিনঃ প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা একাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে একটি হ্যাক হলেও অন্যটি হ্যাক হবার সম্ভাবনা থাকেনা।

৪। প্রয়োজনে দুই ধাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিনঃ এক্ষেত্রে ফেইসবুকের উদাহারণ দেওয়া যেতে পারে। ফেইসবুকে এখন চাইলে পাসয়ার্ড দেবার পরও মোবাইলে একটি কোড আসে এবং তা নির্দিষ্ট স্থানে দিলে তবেই কেবল ফেইসবুকে প্রবেশের অনুমতি মেলে।

৫। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুনঃ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার একটি সফটওয়্যার এবং আপনি এই সফটওয়্যার দিয়ে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বানাতে পারবেন।

৬। একটি passphrase বানাতে পারেনঃ এই পদ্ধতি হল যেমন আপনি বলতে চাচ্ছেন, “I love skateboarding and reading” এক্ষেত্রে আপনি এটি এইভাবে লেখুন, “I<3sk8b0rd1ng&r3ad1ng”

এই জাতীয় আরো টিউন

আপনিও লিখুন মতামতের উত্তর

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − one =