বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ‘জুমো’

0
172

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রাচ্যের দেশ জাপান। বিশ্বযুদ্ধে কথিত মিত্রশক্তির কাছে হেরে যাওয়ার পর প্রায় শতবছরের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আটকে যায় দেশটি। এরপর থেকে বাণিজ্যিক উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে দেয়া হয়নি দেশটিকে। তবে সম্প্রতি অ্যাবে সরকার জাপানের ক্ষমতায় আসার পর নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও কিছু উদ্যোগ গ্রহন করেছে যা মার্কিন প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বের সর্ববৃহত যুদ্ধজাহাজ প্রসঙ্গ।

HELICOPTER-in-ship বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ 'জুমো'

জাপানের মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স (এমএসডিএফ) ‘জুমো’ নামের এই জাহাজটি তৈরি করেছে। ইয়োকোহামা নৌ-ঘাটিতে এই জাহাজটি প্রদর্শিত হয়।

এই ইয়োকোহামা বন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সেভেন্থ ফ্লিট নৌজাহাজটি ঘাটি গেড়ে আছে। এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারে মার্কিনীদের এই যুদ্ধযানটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

জুমো জাহাজটিতে প্রায় ৪৭০জন ক্রু কাজ করবে এবং ১৯ হাজার ৫০০ টন ওজন ধারন করতে পারবে জাহাজটি। তবে পুরোপুরি ভর্তি করলে ২৪ হাজার টন পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারবে জুমো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দ্বিতল বিশিষ্ট ইয়ামাতো জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে সফল যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল। সেই জাহাজের নকশার আদলেই বর্তমানের জাহাজটি তৈরি করা হয়েছে। জাহাজটি লম্বায় ২৪১ মিটার, যা অপর জাহাজ হাওগা থেকে ৫১ মিটার লম্বা।

জাপান এতোদিন পর হঠাৎ করে কেনো এতবড় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। তবে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, সমুদ্রসীমায় প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যই জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীতে এই জাহাজ নির্মানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এবিষয়ে জাপানের সেনাবাহিনী বিশেষজ্ঞ লি ঝিই বলেন, জুমো তৈরির ফলে জাপান প্রমাণ করলো যে তার কারিগরি উন্নয়নে যোগ্যতা আছে। এখন বিমানবাহী ক্যারিয়ার তৈরির সময় হয়েছে। জুমোর মাধ্যমে জাপান তার কর্মদক্ষতা সম্পর্কে আরও জানাতে পারবে।

একটি উত্তর ত্যাগ