সবচেয়ে দামি কিছু স্টার্টআপ

0
344
একটা সময় ছিল যখন কোন স্টার্টআপের বাজারমূল্য ১ বিলিয়ন ডলার হলেই এটাকে ব্যাপক সফলতা হিসেবে অভিহিত করা হতো। তবে ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করল। বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম এবং বিনিয়োগকারীরা নানা স্টার্টআপে বিনিয়োগ করতে শুরু করল। এক সময় সফলতার মাপকাঠি ১ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকল যা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ৮-১০ গুন হয়েছে। আজ পাঠকদের জন্য প্রযুক্তি বিশ্বের সবচেয়ে দামি ১০ স্টার্টআপের কথা তুলে ধরেছেন শাহাদাত হোসেন উবার ট্রাভিস কালানিক ২০০৯ সালে উবার প্রতিষ্ঠা করেন।
StartUps_2014 সবচেয়ে দামি কিছু স্টার্টআপ
স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে সহজে ট্যাক্সি সেবা দিতে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে সেবার পরিধি আরও বৃদ্ধি করে। ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজারমূল্য ৫১ বিলিয়ন ডলার। এখানে বিনিয়োগ করেছে বেঞ্চমার্ক ক্যাপিটাল, মেনলো ভেঞ্চার, গুগল ভেঞ্চারস, কেপিসিবি। এখন পর্যন্ত ৮.২১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে উবার।
শাওমি
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি। খুব কম সময়ের মধ্যেই এই শীর্ষস্থানে চলে আসা অনেককেই অবাক করেছে। তবে মজার ব্যাপার হলো শুধু স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবের বাজারেই নয়, শাওমি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে মূল্যবান স্টার্টআপগুলোর তালিকায়ও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজার মূল্য ৪৬ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান প্রধান নির্বাহী জুন লি। ২০১০ সালে চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১.৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে পেরেছে শাওমি। উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আছে ডিজিটাল স্কাই টেকনোলজিস, হপু ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ডিএসটি গ্লোবাল, আইডিজি ক্যাপিটাল পার্টনার্স প্রভৃতি।
এয়ারবিএনবি
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সর্বশেষ হিসেব মতে, এয়ারবিএনবি বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় মূল্যবান স্টার্টআপ যার বর্তমান বাজারমূল্য ২৫.৫ বিলিয়ন ডলার। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ পেয়েছে ২.৩৯ বিলিয়ন ডলার। এখানে বিনিয়োগ করেছে আন্দ্রেসেন হরোউইটজ, ফাউন্ডারস ফান্ড, গ্রেলক পার্টনার্স। ১৯০টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি মূলত বাসা কিংবা অস্থায়ী বাসস্থান ভাড়া দেওয়া এবং নেওয়ার একটি মার্কেটপ্লেস।
পালান্টিয়ার
বিশ্বের অন্যতম সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পালান্টিয়ার। ডেটা অ্যানালাইসিসের ক্ষেত্রে বেশ সুখ্যাতি আছে প্রতিষ্ঠানটির। গ্রাহকদের তালিকায় আছে সিআইএ ও এফবিআই’র মতো প্রতিষ্ঠানও। ২০০৪ সালে স্টার্টআপটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান বাজার মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলার। এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে ১.৬৭ বিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগ করেছে ফাউন্ডারস ফান্ড, টাইগার গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট, জেরেমি স্টপেলম্যান।
স্ন্যাপচ্যাট
মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম স্ন্যাপচ্যাট অল্প সময়ের মধ্যেই দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ১৬ বিলিয়ন ডলার বাজার মূল্যের প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে কার্যক্রম শুরু করে। এর প্রতিষ্ঠাতা ইভান স্পিয়েগেল। ইয়াহু, ক্লেইনার পারকিন্স, বেঞ্চমার্ক ক্যাপিটাল, লাইটস্পিড ভেঞ্চার পার্টনার্স প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে স্ন্যাপচ্যাট।
ডিডি কুয়াইডি
এটিও উবারের মতোই ট্যাক্সি সেবাদাতা একটি প্রতিষ্ঠান। স্ন্যপচ্যাটের মতো এরও বাজারমূল্য ১৬ বিলিয়ন ডলার। মূলত চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান একীভূত হয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি গঠন করেছিল ২০১২ সালে। প্রতিষ্ঠানটির এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা বিনিয়োগের পরিমাণ ৪.৪২ বিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আছে আলিবাবা, সফটব্যাংক ক্যাপিটাল, টেমাসেক হোল্ডিংস প্রভৃতি।
ফ্লিপকার্ট
ভারতের ই-কমার্স জায়ান্ট ফ্লিপকার্ট আছে সবচেয়ে দামি স্টার্টআপের তালিকার সম অবস্থানে। ২০০৭ সাল থেকে ফ্লিপকার্ট কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজারমূল্য ১৫ বিলিয়ন ডলার। ডিজিটাল স্কাই টেকনোলজিস, টি. রাও প্রাইস, মর্গান স্ট্যানলি, টাইগার ক্যাপিটাল প্রভৃতি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩.১৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে ফ্লিপকার্ট।
স্পেস এক্স
বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত একটি প্রতিষ্ঠান। এলোন মাস্কের প্রতিষ্ঠা করা স্পেস এক্স মূলত মহাকাশ গবেষণা নিয়ে কাজ করে। গুগল, ফাউন্ডার্স ফান্ড এবং ড্র্যাপার ফিশার জারভেটসন এখানে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। স্পেস এক্স’র বর্তমান বাজার মূল্য ১২ বিলিয়ন ডলার।
পিন্টারেস্ট
অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে, এমন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এখানে বিভিন্ন ছবি কিংবা কনটেন্ট পিন করে রাখা যায়। বর্তমানে এর বাজার মূল্য ১১ বিলিয়ন ডলার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ১.৩২ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে পিন্টারেস্ট।
ড্রপবক্স
অনলাইন ফাইল স্টোরেজ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ড্রপবক্সের বর্তমান বাজার মূল্য ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু হয় ড্রপবক্সের। প্রতিষ্ঠানটিতে ১.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

একটি উত্তর ত্যাগ