রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রাকৃতিক ৯টি উপায়

0
153

প্রত্যেক মানুষের দেহে যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা জরুরি। সামান্য ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়ে যদি বিছানায় পড়ে যান, তবে আপনার ইমিউন সিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এমনই ৯টি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

১. নিয়মিত ঘুমান : রাত তিনটা পর্যন্ত অতি প্রিয় অনুষ্ঠানটি দেখতে মন চায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, রাত জাগলে ধীরে ধীরে দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। খুব সহজেই রোগ-জীবাণু সংক্রমণ করে দেহে। তাই রাতের ঘুমকে কোনো অবস্থাতেই বাদ দেওয়া যাবে না।

index84 রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রাকৃতিক ৯টি উপায়

২. রসুন খান : বেশি বেশি রসুন খান। এর নানা স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। নিয়মিত রসুন খেলে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের এক গবেষণায় এসব তথ্য দেওয়া হয়।

৩. লেবুর, মধু, আদা, হলুদ ও উষ্ণ পানি : এটা একটা দারুণ টনিক। হালকা উষ্ণ পানিতে লেবুর রস, মধু, আদা কুচি এবং হলুদ মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। ২০১২ সালের ‘এভিডেন্স-বেজড কম্প্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, এসব খাবারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান, ভিটামিন সি রয়েছে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৪. চিকেন স্যুপ খান : এক বাটি চিকেন স্যুপ সবার কাছেই মুখরোচক। এতে দেহের প্রদাহ দূরীকরণের উপাদান রয়েছে। মুরগীর সঙ্গে পেঁয়াজ, মিষ্টি আলু, গাঁজর, শালগম ইত্যাদি সবজি দিয়ে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। মুরগির স্যুপে আরো আছে কারনোসিন নামের এক ধরনের উপাদান যা ঠাণ্ডা প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর।

৫. ব্যায়াম : অভ্যাস না থাকলেও সপ্তাহে অন্তত দুই-তিন দিন শরীরচর্চা করুন। ইয়োগা ক্লাসও দারুণ উপকার দেবে। ব্যায়ামের ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে ফুসফুস থেকে ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। রক্তের শ্বেতকণিতা সুষ্ঠুভাবে প্রবাহিত হয়। এতে এরা সহজে রোগ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে কাজ শুরু করে দেয়।

৬. সকালে এক কাপ চা : ২০০৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, চায়ে উপস্থিত অ্যালকাইলামিনস নামের উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কাজ করে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি। এ ছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চায়ে উপাকারিতা মিলবে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক গবেষণাপত্রে এসব তথ্য দেওয়া হয়। পিপারমিন্ট চায়ে হজম, আইবিএস ইত্যাদি সমস্যা উপশমে কাজ করে।

৭. সকালের নাস্তায় দই : মজার এ খাবার আছে উপাকারি ব্যকটেরিয়া। জার্নাল অব সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, দইয়ে আছে প্রোবায়োটিক যা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন ডি। এসবই রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

৮. সূর্যের রশ্মি নিন : এ আলোতে আছে ভিটামিন ডি। ইমিউন সিস্টেমের সুপারচার্জার হিসাবে কাজ করে ভিটামিন ডি। তবে এর জন্যে খুব বেশি সূর্যরশ্মিতে বসে থাকার প্রয়োজন নেই।

৯. হাসুন : হাসি বহু সমস্যার মহৌষধ। ২০০৭ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধিতে হাসি বেশ কাজের বলে প্রমাণিত হয়েছে। হাসিতে মানসিক চাপ দূর হয়। ঘুমও ভালো হয়। উৎফুল্লতা চলে আসে মনে।

একটি উত্তর ত্যাগ