প্রযুক্তি নিয়ে যে ১১টি কাজ অফিসের কর্মচারীরা করে থাকেন

0
309

অফিসগুলোতে দিনকে দিন কমপিউটারের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে ব্যবহারকারীর সংখ্যা। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন রকমের পণ্য। আর সেগুলো চলে আসছে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বর্তমান আধুনিক অফিসে কমিপউটার নেই, সেটা হয়তো হবার নয়। কিন্তু আমাদের কর্মচারীরা কি সঠিকভাবে কমিপউটারগুলো ব্যবহার করে থাকেন? তাদের হাতে কি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিরাপদ? নাকি সেগুলো খুব সহজেই চলে যেতে পারে কম্পানীর বাইরে, কিংবা প্রতিদ্বন্দি প্রতিষ্ঠানের কাছে?

গবেষণা এবং পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে যে, দেশ, জাতি নির্বিশেষে প্রতিটি অফিসেই কর্মচারীরা প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে একই রকমের বোকামী করে থাকেন। এখানে সবচে খারাপ ১১টি ভুল (বিপদজনক ভুলও বটে) তুলে দেয়া হলো। যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা বা চালানোর দায়িত্বে আছেন, তাদের এগুলো জানা এবং পদক্ষেপ নেয়াটা খুবই জরুরী।

আপনার অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করুন, এবং বিপদগুলো বুঝিয়ে বলুন। সাথে সাথে কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তও নিন। কর্পরেট নেটওয়ার্ককে নিরাপদ রাখুন।

images (49) প্রযুক্তি নিয়ে যে ১১টি কাজ অফিসের কর্মচারীরা করে থাকেন

বোকামী-১: পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করা
বেশির ভাগ কর্মচারীরাই তাদেরকে দেয়া ডিভাইসে (ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন কিংবা ট্যাবলেট) পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে চান না। তাদেরকে যদি পাসওয়ার্ড ছাড়া কোনও ডিভাইস দেয়া হয়, তারা কোনও দিনই সেটাতে পাসওয়ার্ড বসাবে না। তাই, তাদের হাতে অফিসের কোনও ডিভাইস দেয়ার আগে, সেটাতে কোনও না কোন পাসওয়ার্ড সেট করি দিন।

বোকামী-২: সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড
অফিসের কর্মচারীরা পাসওয়ার্ডের ব্যাপারে আসলেই কুখ্যাত। তারা একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করবে। দেখা যাবে, তাদের অফিসের পাসওয়ার্ড, তাদের ব্যক্তিগত ইমেল (জি-মেইল, ইয়াহু মেইল কিংবা হটমেইল) পাসওয়ার্ড একই পাসওয়ার্ড। এমনও দেখা গিয়েছে যে, তাদের অনলাইন ব্যাংকিং-এর পাসওয়ার্ড আর ইয়াহু-র একাউন্টের পাসওয়ার্ড একদম এক। এই বোকা মানুষগুলোকে বারবার বলুন, তারা যেন তাদের অফিসের একাউন্টের পাসওয়ার্ড আর ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন একাউন্টের পাসওয়ার্ড একই না রাখেন।

বোকামী-৩: যে কোনও লিংকে ক্লিক করা
অফিসের কর্মচারীদের একটি বড় বদাভ্যাস হলো, তাদের ইমেলে আসা যেকোন লিংকে ক্লিক করা। তারা আগে-পিছে কিছুই ভাবে না। অফিসের ইমেলে যে লিংকই আসুক, তারা সেটা সাত-পাঁচ না ভেবে ক্লিক করবেই। এর পরিনতি কী হতে পারে, সেটা নিয়ে তারা মোটেও ভাববে না।

বোকামী-৪: লটারীর টাকা জিতে যাওয়ার লোভ
অফিসের ইমেইলে প্রায়ই বিভিন্ন রকমের স্প্যাম আসে, যেগুলো মূলত বলে যে ওই কর্মচারী একটি লটারীতে ১০,০০০ ডলার বা অন্য কোনও পরিমান টাকা জিতেছেন। এবং সেটা টাকাটা কিভাবে তুলতে হবে, সেগুলোর নির্দেশনা দেয়া থাকে। এগুলো এমন সুন্দর করেই পাঠানো হয় যে, প্রথমে দেখলে মনে হবে সত্যি সত্যি তিনি লটারী জিতেছেন। কিন্তু এগুলো একশ ভাগ ভূয়া। এগুলো মূলত স্প্যাম যার মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের তথ্য সংগ্রহ করা হয়; এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করা হয়।

আপনার কর্মচারীরা এই ধরনের ফাঁদে পা দিবে। এবং এটাকে ঠেকাতে না পারলে বুঝতে হবে, আপনার নেটওয়ার্ক মোটেও নিরাপদ নয়।

বোকামী-৫: হার্ডওয়্যার তালা ব্যবহার না করা
অফিসের অনেক কর্মচারী আছেন যারা তাদের ল্যাপটপ কিংবা অন্যান্য ডিভাইসগুলো প্রতিদিন ব্যবহার করেন না। এবং সেগুলো এখানে সেখানে পড়ে থাকে; নয়তো নিজের টেবিলের উপরই অযত্নে থাকে। এগুলো প্রায়শই চুরি হয়। তাই এগুলোর নিরাপত্তার জন্য হার্ডওয়্যার লক (তালা) লাগিয়ে দিন।

বোকামী-৬: পলিসি? কিসের পলিসি!
আই.টি ম্যানেজাররা বিভিন্ন রকমের নীতিমালা করে দেন, যেমন ফেসবুক ব্যবহারের নীতিমালা, কম্পানী ফোন ব্যবহার করার নীতিমালা, কম্পানীর ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ব্যবহারের নীতিমালা। কিন্তু সেই নীতিমালা কি মেনে চলছে অফিসের কর্মচারীরা? কিছু বোকা কর্মচারী আছেন, তারা আসলেই বোকার হদ্দ। তারা এই নিয়মগুলো মেনে চলেন না; এবং মেনে না চলাটাকেই স্মার্ট মনে করেন। আপনি নিশ্চিত করুন, ওই বোকা লোকগুলো কম্পানীর নিয়ম-নীতিগুলো মেনে চলে। আর যদি না মেনে চলে, তাহলে তাদের প্রয়োজনে শাস্তি দিন।

বোকামী-৭: বন্ধুদের যেকোনও ইমেল বিশ্বাস করা
অফিসের কর্মচারীরা তাদের সহকর্মী এবং অফিসের বাইরের বন্ধুদের ইমেল বিশ্বাস করে। তারা মনে করেন যে, যদি কোনও পরিচিত কেউ তাদেরকে ইমেল করেন, তাহলে ইমেলটি ঠিকই আছে। তারা একবারও চিন্তা করেন না যে, বন্ধুটির কমিপউটারে ভাইরাস ধরতে পারে, ওখানে কোনও ম্যালওয়্যার থাকতে পারে, কিংবা হ্যাক হতে পারে। এই বোকা ব্যবহারকারীগুলো প্রযুক্তিতে অতিরিক্ত মাত্রায় বিশ্বাস করে থাকে। তারা মনে করে, মানুষ ভুল করতে পারে, কমিপউটার সিস্টেম ভুল করতে পারে না। এই বোকা লোকগুলোকে বলুন, তারা যেন যে কোনই ইমেলকেই বিশ্বাস না করেন, তারা যেন সেটা ভেরিফাই করেন।

বোকামী-৮: প্রতিটি কর্মচারী যেন একেকটা ডাউনলোড মেশিন
কর্মচারীরা বিভিন্ন রকমের জিনিস ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে। একজন আই.টি ম্যানেজার হিসেবে আপনি যতই বাধা দেয়ার চেষ্টা করুন না কেন, তারা ডাউনলোড করবেই। তারা মিউজিক ডাউনলোড করে, বিভিন্ন রকমের ফাইল ডাউনলোড করে, ভিডিও ডাউনলোড করে। আর অফিসের স্পীড যেহেতু তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, তাই ডাউনলোডের পরিমানও বেশি। কিন্তু তারা চিন্তা করে না যে, যে কোনই ডাউনলোডের সাথে বাড়তি কিছু ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে যা পুরো কম্পানীর জন্য খারাপ।

বোকামী-৯: ফিল্টার ভাঙ্গারও কোনও না কোনও উপায় রয়েছে
কর্পরেট নেটওয়ার্ককে নিরাপদ রাখার জন্য অনেক সময় ইন্টারনেট কনটেন্ট ফিল্টার করা হয়ে থাকে। যেমন, কেউ অফিস থেকে যদি কোনও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে সেগুলো ফিল্টার করা যেতে পারে। কিন্তু কিছু কর্মচারী আছেন, তারা কোনও না কোন উপায় বের করবেনই। এবং তারা আরো অতি উৎসাহে কাজটি করতে থাকবে। আজকে কোনও অফিসে প্লেবয় ম্যাগাজিন ফিল্টার করে দেয়া হোক, অনেকে সেটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে, এবং প্লেবয় ব্রাউজ করেই ছাড়বে। এদের উপর নজর রাখুন।

বোকামী-১০: সোস্যাল নেটওয়ার্কে যা-ই আসে, সেটাই নিরাপদ
অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, ফেসবুক কিংবা টুইটারে যা-ই আসে, সেগুলো নিরাপদ। কিন্তু আসলে তো সেটা নয়। বোকা সেই কর্মচারীদেরকে ট্রেনিং দিন; এই বিষয়গুলো খুলে বলুন। ছাপার অক্ষরে কিছু থাকলেই সেটা যেমন সত্যি নাও হতে পারে, সোস্যাল নেটওয়ার্কে কিছু পোস্ট হলেই সেটা নিরাপদ নাও হতে পারে।

বোকামী-১১: ব্যাকআপ? আগামীকাল নেয়া যাবে
কম্পানীর সাধারন কর্মচারীরা কোনও কিছু ব্যাকআপ নিতে চান না। তাদের উপর যদি কোনও কিছু ব্যাকআপ নেয়ার বিষয় থাকে, তাহলে সেটা কখনই ব্যাকআপ নেয়া হবে না। কারন, তারা সবসময়ই মনে করেন, আগামীকাল ব‌্যাকআপ নিলেই হবে, আজকে কাজটুকু করে ফেলি। তারপর সেই আগামীকাল আর আসে না, ব্যাকআপ নেয়াও হয় না। ভয়ংকর বিপদ এড়াতে অটোমেটিক ব্যাকআপ নিন।

 

উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 2 =