সাইবার ক্রাইম থেকে সাবধান!

1
257

হঠাৎ সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখলেন, আপনার ফেসবুকের নিউজ ফিডে অসংখ্য অভিনন্দন বার্তা, ইনবক্সে শুভকামনার ছড়াছড়ি কিংবা সমবেদনা জানিয়ে শান্তনাবাণীর বাড়িবাড়ি। কারণটা একটু খতিয়ে দেখতেই পাওয়া গেল আপনার ফেসবুকে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসের জায়গায় কেউ লিখে রেখেছে ‘ইন অ্যা রিলেশনশিপ উইথ…’ অথবা আপনার নিবিরি শান্তির সম্পর্ককে দেখাচ্ছে ‘ডিভোর্স’!

কিংবা আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে স্প্যাম ছড়াচ্ছে আর কেউ।অভিযোগ শুনতে হচ্ছে আপনাকে। বা আপনার আসেপাশের অনেকে কেমন করে তাকাচ্ছে আপনার দিকে!

এগুলো সাইবার অপরাধীদের কাজ।আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারা নানান অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আজাকাল সামাজিক যোগাযোগ সাইটে সাইবার ক্রিমিনালদের হামলার শিকার খোদ রক্ষকও।

সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইমের পরিমাণও বেড়েছে।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের ভুলের জন্যই আমরা সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে থাকি। কিন্তু একটু সচেতন থেকে কয়েকটি বিষয় মেনে চললে  এড়ানো যেতে পারে এই অযাচিত হয়রানি।

download (31) সাইবার ক্রাইম থেকে সাবধান!

১. সামাজিক যোগাযোগ সাইটে বন্ধুত্ব বাড়ান বুঝেশুনে

সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলিতে বন্ধু বাড়ানোর একটা প্রবণতা সকলের মধ্যে দেখা যায়। এমনকি অপরিচিত ব্যক্তিকে নিজের প্রোফাইলে স্থান দিয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনেক অনেকে। এই অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত খুঁটিনাটিও শেয়ার করে ফেলেন অনেকেই। যার ফলেই সাইবার ক্রাইমের শিকার হন তারা।

২. অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক থেকে বিরত থাকুন

বন্ধুদের পাঠানো কোনও পরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা। যেমন ধরুন, আপনার প্রোফাইলে আপনার বন্ধুর কাছ থেকে একটি অপরিচিত লিঙ্ক এসেছে। বন্ধুকে জিজ্ঞেস না করেই আপনি সেই লিঙ্কটিতে ক্লিক করলেন। এরপর দেখলেন আপনার প্রোফাইল হ্যাক হয়ে গিয়েছে। তাই অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করার আগে ভাবুন।

৩. ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি না জানানো

অনেক সময় বন্ধু বাড়ানোর চক্করে অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি নিজের প্রোফাইলে দিয়ে দেন। এমনকি মেল আইডি সহ ফোন নম্বরও। এই বিবরণগুলি শেয়ার করে সাইবার ক্রিমিনালদের কাজ কিছুটা সহজই করে দেন অনেকেই।

৪. প্রাইভেসি সেটিং-কে গুরুত্ব না দেওয়া

সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে দেওয়া প্রাইভেসি সেটিং-এর গুরুত্ব অনেকেই দেন না। তাই যে কোনও ব্যক্তির পক্ষেই প্রাইভেসি সেটিং দেখতে পাওয়া খুব সহজ হয়ে যায়। তাই প্রাইভেসি সেটিং-কে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এমনকি নিজের ফটো যাতে অন্যকেউ ডাউনলোড করতে না পারে, তার জন্য ফটোতেই প্রাইভেসি লক করে দেওয়া উচিত।

৫. একই পাসওয়ার্ডের না ব্যবহার

জিমেইল, ফোন, ফেসবুক, ট্যুইটার, কম্পিউটারের লক সবগুলোতে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা কখনওই উচিত নয়। বিভিন্ন ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দরকার হলে প্রতি মাসে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত। না হলে কিন্তু সাইবার ক্রিমিনালদের কাজ কিন্তু অনেক সহজ হয়ে যাবে।

৬. সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার না করা

ফোন, কম্পিউটার এমনকি ট্যাবেতেও সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করা উচিত। সিকিউরিটি সফটওয়ার ব্যবহার না করলে আপনার গ্যজেটগুলি নিশ্চিত থাকবে না।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ