সচেতনতা যার যার, সুবিধাভোগ সবার

0
175
সচেতনতা যার যার, সুবিধাভোগ সবার

akber

টিউনারপেজ আমার প্রিয় ব্লগ
সচেতনতা যার যার, সুবিধাভোগ সবার

১.

সকাল ১০.০০টা। সাই সাই করে রাস্তার দুইধারে গাড়ি ছুটছে। মোড়ে মোড়ে গাড়ি আর ব্যস্ত মানুষের জটলা। আসিফ আর শিহান ছুটছে তাদের গন্তব্যে। দুজন ছোটবেলা থেকেই বন্ধু। সবখানে একই সাথে, এমনকি ভার্সিটিতেও। সকালে একসাথে ভার্সিটি যাওয়াটা অলিখিত নিয়ম। গল্পে গল্পে পুরো রাস্তাটাই হেঁটে পার হয়ে যায় প্রতিদিন। ওদের পথে ফার্মগেট মোড় পার হওয়াটা হরহামেশার মতোই সাধারণ। বিপত্তি ঘটলো হুট করে। দ্রুতগতির গাড়িগুলোর মাঝে রাস্তা পার হতে গিয়ে হুট করেই হোচট খেলো আসিফ। কোনো মতে সামলে উঠতে না উঠতেই পায়ের কাছে এসে ধাক্কা দিলো ছুটন্ত বাইক। কপাল ভালো ছিল। বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবারের মতো। কোনমতে রাস্তা পার হয়ে তাকিয়ে দেখলো পাশেই ছিল ফুটওভার ব্রিজ।

২.

হাজার হাজার গাড়ির ভীড়। বাইকে বসে আছে সাব্বির। অফিসে হাজিরার সময় পার হয়ে যাচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিলো জ্যামে বসে না থেকে

বাইকের ফায়দা ওঠানোর। উঠে পরলো ফুটপাথে। কিছুদুর এগুতে না এগুতেই পথচারীর সাথে বাজিয়ে দিলো। পথচারী সাথে সাথে তাকে থামিয়ে কিছু কথা শোনার প্রস্তুতি নিতে না নিতেই সাব্বির বড় গলায় বলে বসলো “চোখ কি পকেটে রেখে হাটেন?” সাথে সাথেই বেরিয়ে এলো পথচারীর পরিচয়। তিনি একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্য। সাব্বিরের মুখ শুকিয়ে গেলো। সামান্য কিছু সময় বাঁচাতে একে তো ভুল করলো, এর উপরে আবার নিজেকে ঠিক বলে বিপদে পড়লো পুলিশ সদস্যের কাছে। অথচ ততক্ষণে সিগন্যাল ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু পুলিশ সদস্য তাকে ছাড়লেন না ট্রাফিক আইন ভাঙায়। অল্প কিছু সময় বাঁচাতে অনেকটা সময় সে একই জায়গায় কাটিয়ে দিলো। অথচ এসব কিছুই হতোনা সামান্য কান্ডজ্ঞান থাকলে।

৩.

হৃদয়। গাড়িতে বসে আছে সম্পূর্ণ একা। বিশাল জ্যাম। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো সবদিকেই একই অবস্থা। পাশে থাকা একজন সাইকেল চালক বললেন “একজন মানুষ হয়ে একটা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হলে জ্যাম তো এমনটাই হবে।” হৃদয় কিছু বললো না, নিজে থেকেই ভাবা শুরু করলো, আসলে ব্যপারটা কতোটা যুক্তিযুক্ত।

৪.

বাইক নিয়ে বের হয়েছে রাব্বী। মাথায় নেই হেলমেট। “কি হবে হেলমেট পড়ে। খামাখা মাথা ভার হয়ে থাকবে, স্মার্ট লাগবেনা!” এটা ভেবেই প্রতিদিন বের হয় ঘর থেকে। কিন্তু কে জানতো এই হেলমেট না পড়ার কারণে এক্সিডেন্টে মাথাতেই সবচেয়ে বড় আঘাতটা পাবে। এখন আইসিইউতে যুদ্ধ করছে সে। কেউ জানেনা পরিণতিটা কি।

ছোট চারটা ঘটনা। এক ফ্রেমে দেখলে এক বাক্যে একটাই কথা “সচেতনতা আর বিবেচনার অভাব।” আমরা নিজেরা আইন মানিনা, কথায় কথায় দোহাই দেই কেউ মানেনা। তো নিজেকে জিজ্ঞেস করুন তো একবার? নিজে কি কখনো দুই মিনিট ভেবেছেন যে এই রাস্তায় সকল অনিয়মের অন্ততঃ ৫০শতাংশ আমাদের নিজেদের কারণেই ঘটে। সব দোষ যদি ট্রাফিকের হয়, তো আপনি তো মহাশুদ্ধ সাধু হয়ে গেলেন। রাস্তায় নামলে যদি নিজেকে নির্দোষ ভেবে সারাদিন ট্রাফিক ব্যবস্থার মুন্ডুপাত করে থাকেন, নিজের মুন্ডুটাও কি সাথে একটু পাত করা উচিত নয়? আপনার যদি সাধারণ বাংলা বোঝার ক্ষমতা এবং চিন্তা করার ক্ষমতা থাকতো তাহলে আগে নিজে আইন মেনে তারপরেই অন্যের মুন্ডুপাত করতেন। ছোট ছোট পরিবর্তনে বদলায় দেশ এবং দেশের পরিস্থিতি। ভেবে দেখা উচিত দেশের সেরাটা আশা করলে নিজের সেরাটাও দিতে হয়। কিছু কিছু ব্যপার নিজের দায়িত্ববোধের উপর নির্ভর করে। আর দশটা লেখার মতো করেই চাইলে নিজের দোষ আড়াল করে পালিয়ে যেতে পারেন। তবে, দায়িত্ববান যেকেউ লেখাটা পড়ে শুধু নিজেকে বদলানোর চেষ্টাই করবে না, অন্ততঃ দশজনকে পরিবর্তনের সুযোগ দেবেন। সিদ্ধান্ত আপনার।

 

উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + 17 =