Slow কম্পিউটার Fast :: কম্পিউটার হাডর্ওয়্যার ট্রাবলশ্যুটিং ও মেইনটেনেন্স

0
294

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ ।  আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছেন ।  ভালো থাকাটাই সব সময়ের জন্য প্রত্যাশা ।  ইতিপূর্বে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ট্রাবলশুটিং ও মেইনটেনেন্স বিষয়ে কয়েকটি টিপস নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ তারই ধারাবাহিকতায় সমস্যা-সমাধান ও পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা করবো । চলুন যথারীতি শুরু করি ।

অনেকেই বর্তমান অপারেটিং সিস্টেমকে পরিবর্তন করে নুতন ও আপডেট অপারেটিং সিস্টেম সংযোজন করার পেছনে ছুটছেন । কিন্তু আমি হালনাগাদ অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড করার পক্ষপাতি নই । একারণেই নই যে হালনাগাদ করার পর দেখলেন আপনার প্রয়োজনীয় কাজ সব ভেস্তে গেছে ।  গুরুত্বপূর্ন কাজ করতে গিয়ে আপনি প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুক্ষীণ হচ্ছেন, কম্পিউটার হয়ে গেছে পূর্বের তুলনায় প্রচুর স্লো ।  যে কাজ এক্সপি দিয়ে ১০ মিনিটে করতেন সেক্জ এখন 8 অথবা 10 দিয়ে 30 মিনিটে হচ্ছে ।  সেক্ষেত্রে হালানাগাদ করে আর লাভ কি হল ।  কাজেই হালনাগাদ করার পূর্বেই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবুন ও পর্যালোচনা করুন ।  আপনার ডেস্কটপ অথবা ল্যপটপটি যদি কোর আই3 অথবা কোর আই5 মানেরও হয় তাতেও আপনি উইন্ডোজ 10 ইন্সটল করে আশানুরুপ পারফরম্যান্স পাবেন না ।  সেক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার এর কনফিগারেশন হতে হবে কোর আই5 অথবা কোর আই 7 এর আপগ্রেড ভার্সন ।  তবে হালনাগাদ করেও ভালো স্পীড পাবেন ।এবার  আমার  নিজের অভিজ্ঞতা একটু শেয়ার করছি ।   আমার ল্যাপটপটি  এইচপি প্যাভিলিয়ন জী 6 সিরিজের যেটি কোর আই5 এর প্রসেসর, 650 জিবি হার্ডডিস্ক  এবং 6 জিবি র‌্যাম সমৃদ্ধ ।  মোটামুটি ভালো কনফিগারেশন হওয়া সত্ত্বেও আমি উইন্ডোজ 8 রিমুভ করে উইন্ডোজ 10 ইন্সটল করেছি । কিন্তু মাত্র ১ সপ্তাহে চরম বিরক্ত হয়ে চটকা মেরে  বাদ দিয়ে আবার উইন্ডোজ 8 এ ফেরত গেছি ।  এত পরিমাণ স্লো হয়ে গেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । পাশাপাশি উইন্ডোজ 10 একটি বড় সমস্যা এটি ইন্টারনেট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বড় আকারের আপডেট সংযোগ পেলেই নিতে থাকে।  ফলে অন্যান্য কাজও স্লো হয়ে যায় । আমি সেটিও অফ করেছি কিন্তু তাতে সমাধান মিলেনি ।  আরেকটি বিষয় হচ্ছে উইন্ডোজ এর পূর্ববর্তী সকল ভার্সনে কন্ট্রোল প্যানেল একটিই ছিলো  এবং স্টার্ট মেনুতে ক্লিক করে সেটিং এ গিয়ে কন্ট্রোল প্যানেলে যাওয়া যেত ।  উইন্ডোজ 10 এর ক্ষেত্রে সেটিং একটি আলাদা অপশন এবং কন্ট্রোল প্যানেল আরেকটি আলাদা অপশন । দুটিও অপশনই সতন্ত্র ভাবে ২ জায়গায় থাকে ।  ফীচারগুলোও ভিন্ন ভিন্ন ।  এছাড়াও উইন্ডোজ 10 এর টাস্কবার ও কন্টোল প্যানেল এর আইকনগুলোকে ব্রিটিশ আমলের রুপ দেয়া হয়েছে । অর্থাৎ ‍সেগুলোকে দেখে কিছুটা উইন্ডোজ 95 অথবা 98 এর মত লাগতে পারে ।  আর অনেকেই উইন্ডোজ 10 ইন্সটল করে  খুব সহজেই মহামান্য কর্টানার দেখা পাননি ।  যাইহোক সবমিলিয়ে মনে হলো উইন্ডোজ 10 ব্যবহারের সময় এখনো আসেনি ।  আরো অনেক হালনাগাদের প্রয়োজন রয়েছে ।  সুবিধা অসুবিধা ও সমস্যা সমাধান এবং পর্যলোচনা নিয়ে আপনারাও মন্তব্য করতে পারেন ।

এ পর্যায়ে আমি কম্পিউটারের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোকপাত করবো…

সমস্যা নং- ৪৮ একটি
কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এক্সপি পাশাপাশি আরেকটি কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম
উইন্ডোজ সেভেন অথবা এইট । দুটি কম্পিউটারই লোকাল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত । কিন্তু একটি
কম্পিউটার থেকে আরেকটিতে ঢুকতে গেলেই পাসওয়ার্ড চাচ্ছে । কোনভাবেই এক্সেস করা সম্ভব
হচ্ছে না ।

 

সমাধান- দুটি
কম্পিউটারে ভিন্ন ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম হলে এরকম সমস্যা হয়ে থাকে । সেক্ষেত্রে উইন্ডোজ
সেভেন থেকে উইন্ডোজ এক্সপিতে ঢুকতে গেলে যদি পাসওয়ার্ড চায় তবে উইন্ডোজ এক্সপির পাসওয়ার্ড
রিমুভ করে দিন ।  অপরদিকে উইন্ডোজ এক্সপি থেকে
উইন্ডোজ সেভেন-এর কম্পিউটারে ঢুকতে গেলে যদি পাসওয়ার্ড চায় তবে তা রিমুভ করাসহ নিম্নলিখিত
কাজগুলো করতে হবে । 

 

প্রথমে স্টার্ট
মেনু থেকে কন্ট্রোল প্যানেল ওপেন করুন । সেখান থেকে নেটওয়ার্ক এন্ড শেয়ারিং সেন্টার
ওপেন করুন । অথবা ডেস্কটপ থেকে নেটওয়ার্ক অপশন ওপেন করে নেটওয়ার্ক এন্ড শেয়ারিং সেন্টার-এ
ক্লিক  করুন । 

 

 

 

তারপর Change Advanced Sharing Setting –এ ক্লিক করুন ।

 

 

 

প্রথমে হোম নেটওয়ার্কের অধীনে ক্লিক করে Turn on network discovery সিলেক্ট করুন ।

তারপর Turn on file and printer sharing সিলেক্ট করুন ।

Public folder sharing – এ গিয়ে Turn on sharing ক্লিক করুন ।

অতপর Turn off password protected sharing  ক্লিক করে সেভ করুন ।

 

 

তারপর পাবলিক নেটওয়ার্কের অধীনে ক্লিক করেও একই কাজ করুন । 

 

 

এখন আর ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম এর প্রতিটি কম্পিউটার থেকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক্সেস এর ক্ষেত্রে
আর কোন বাধা থাকলো না । কম্পিউটার সমূহে যেসকল ড্রাইভ, ফাইল ও ফোল্ডার শেয়ার দিয়ে রাখবেন
নেটওয়ার্কের মধ্যে সেগুলোই দেখতে পাবেন । মনে রাখবেন শেয়ার দেয়ার সময় ফুল পারমিশন দিয়ে
দিবেন নয়তো যেকোন ইউজার ফুল এক্সেস পাবে না । উল্লেখ্য, উইন্ডোজ এইটের ক্ষেত্রেও একই
সিস্টেম । ধন্যবাদ ।

 

 

সমস্যা নং-৪৯  আমার কম্পিউটারে সবকিছু শেয়ার দেয়ার পরও নেটওয়ার্কে
ফাইল ওপেন করে কাজ করা যাচ্ছে না ।

 

সমাধান- আপনি আপনার কম্পিউটারের ড্রাইভ অখবা ফোল্ডার শেয়ার করতে গিয়ে ফুল পারমিশন দেননি । আরেকবার
চেক করে দেখুন ঠিক আছে কিনা ।

 

প্রথমে যে ড্রাইভ শেয়ার দিয়েছেন তার প্রপার্টিজ-এ যান । সেখানে শেয়ারিং অপশন সিলেক্ট করুন । 

 

 

তারপর এডভান্সড শেয়ারিং-এ ক্লিক করুন । 

 

 

এখানে এসে পারমিশনে ক্লিক করুন । 

 

 

 

তারপর Full Control Change Read  সব অপশনে টিক চিহ্ন দিয়ে দিন । Ok করুন ।

ব্যাস আপনার কাজ শেষ ।

 

সমস্যা নং- ৫০  অপারেটিং সিস্টেম কোন ভাবেই সেটআপ হচ্ছে না? বারবার বলছে সিডি/ডিভিডি মিসিং অথচ সিডি/ডিভিডি ঢুকানোই আছে । র‌্যাম এ সমস্যা নাকি হার্ডডিস্কে বুঝতে পারছি না । 

সমাধান- শুধুমাত্র ভালো একটি সিডি/ডিভিডি ডিস্ক ঢুকান তাতেই কাজ হবে ।   র‌্যাম অথবা হার্ডডিস্ক ঠিকই আছে ।

সমস্যা নং- ৫১ অপারেটিং সিস্টেম সেটআপের মাঝখানে বারবার রিস্টার্ট হয়ে যাচ্ছে? ধমক দিলেও কাজ হচ্ছে না ।

সমাধান- আপনার কম্পিউটার খুলে সব ডিভাইস ভালো করে লাগান । র‌্যাম ঠিকমত লাগানো আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন ।  র‌্যাম এর কারণে এ জাতীয় সমস্যা বেশী হয়ে থাকে ।  র‌্যাম পরিবর্তন করে আবার সেটআপ দিন এবার আর ঝামেলা হবে না ।

সমস্যা নং-৫২- অপারেটিং সিস্টেম সেটআপের মাঝখানে পুরো কম্পিউটার হ্যাং, আর সামনে এগোয় না ।  রিস্টার্ট দিলেও একই সমস্যা ।  

সমাধান- এ ক্ষেত্রে সকল ডিভাইস চেক করে দেখুন, সব ডিভাইস ভালো করে লাগান ।  বিশেষ করে হার্ডডিস্ক ভালো আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন ।  এটি পরিবর্তন করে দেখুন আশা করি একই সমস্যা আর হবে না ।

সমস্যা নং-৫৩- কম্পিউটার চালু হওয়ার পর কিছুক্ষন চলে তারপর বন্ধ হয়ে যায়  ।  

সমাধান- আপনার প্রসেসর দুখিত আপনার কম্পিউটারের প্রসেসর ওভারহীট হচ্ছে । অথবা হীটসঙ্কের সাথে প্রসেসরের  সংযোগস্থরে গ্যাপ রয়েছে ।  প্রসেসরের উপর পেস্ট দিন এবং নিশ্চিত হয়ে নিন কুলিং ফ্যান ও হীটসিঙ্ক যথাযথভাবে বসানো আছে ।

সমস্যা নং- ৫৪-  অনেকক্ষন কাজ করার পর ল্যাপটপ প্রচন্ড গরম হচ্ছে । 

সমাধান-
এজন্য ল্যাপটপ এর জন্য নির্দিষ্ট কুলার ব্যবহার করতে পারেন ।  ডেস্কটপের
মত ভারী কাজ করতে গেলে ল্যাপটপে কুলার ব্যবহার করা ভালো তাতে ২৪ ঘন্টাই
ভালো সার্ভিস পাবেন ।   ভারী কাজ একসাথে অনেকগুলো রানিং না রাখাই ভালো ।  যেমন কনভার্সনের কাজ, এনিমেশন অথবা এডিটিং এর কাজ । এসব কাজে প্রসেসর বিজি হয়ে পড়ে ।  প্রসেসরের উপর চাপ পড়ে মিনিমাম 90% ।

সমস্যা নং- ৫৫-  কীবোর্ড এর কয়েকটি কী কাজ করে না । সমাধান আশা করছি ।

সমাধান- ল্যাপটপ-এ হলে আলাদা কীবোর্ড ব্যবহার করুন অথবা ডেস্কটপের জন্য মাউজ দিয়ে
স্টার্ট মেনুতে গিয়ে রান-এ লিখুন  osk  অর্থাৎ অন স্ক্রীন কীবোর্ড  এরপর
এন্টার দিন  ।   ব্যাস আপাতত কাজ সারাতে পারবেন ।  ল্যাপটপের ক্ষেত্রে আলাদা কীবোর্ড ব্যবহার করাই ভালো ।

 সমস্যা নং- ৫৬- ভাইরাস এর কারণে কম্পিউটারে পেন ড্রাইভ লাগালেই সর্টকাট হয়ে যায় । 

সমাধান- আপাতত সমাধান হচ্ছে টুলস এ গিয়ে ফোল্ডার অপশনে গিয়ে শো হিডেন ফাইলে টিক চিহ্ন দেয়া এবং হাইড এক্সটেনশন
চেকবক্স তুলে দেয়া । তাহলে হাজারো সর্টকাটের ভিড়েও প্রয়োজনীয় ফাইল খুজে পাবেন এবং দেখতে পাবেন । শর্টকাট না হওয়ার জন্য কম্পিউটার  ফরম্যাট দিয়ে নতুন করে উইন্ডোজ দিতে হবে ।  উইন্ডোজ দেয়ার পর প্রথমেই এন্টিভাইরাস সেটআপ দিন । আর এমন সমস্যা হবে না ।

সমস্যা নং- ৫৭- কম্পিউটার চালু হয়, কীবোর্ডে লাইট জ্বলে কিন্তু মনিটরে কিছু আসে না । 

সমাধান- নিশ্চিত হয়ে নিন মনিটরে পাওয়ার অন করা আছে । এছাড়াও চেক করে দেখুন  ভিজিএ ক্যাবল সঠিকভাবে  লাগানো আছে কিনা । সব ঠিক থাকলে র‌্যাম খুলে আবার লাগান ঠিকভাবে ।  বায়োস এর ব্যাটারীর চার্জ আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন ।  নতুন ব্যাটারী লাগিয়ে ব্যাটারীর পাশের জাম্পার খুলে আবার লাগান, অথবা ব্যাটারী খুলে ২ প্রান্ত সর্ট করে কিছুক্ষণ পর আবার লাগান । বায়োস রিসেট হয়ে যাবে ।  এ জাতীয় বেশীরভাগ সমস্যার সমাধান এটি, এখন দেখুন ডিসপ্লে চলে আসছে ।

 

আপনার কম্পিউটারের যত্ন নিন… মাঝে মাঝে নিচের কাজগুলো করুন । বহু সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন । 

কম্পিউটার খুলে পুরোটা একবার ব্লুয়ার দিয়ে পরিষ্কার করুন । এতে কম্পিউটারের স্থায়ীত্ব বাড়বে ।

এন্টিভাইরাস আপডেট দিয়ে স্ক্যান করে ভাইরাস ক্লীন করুন ।  প্রয়োজনে নতুন করে ফরম্যাট দিয়ে সেটআপ দিন ।

সবচেয়ে ভালো হয় ডাটা ব্যাকআপ নিয়ে তারপর হার্ডডিস্ক পার্টিশন ফরমেট করে উইন্ডোজ দিলে ।

স্টার্টআপের আইকনগুলো ডিসেবল করে রাখুন ।

অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ইনস্টল করা থাকলে সেটি রিমুভ করে দিন ।

অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ করার পূর্বে কম্পিউটারকেও হালনাগাদ করুন ।  পূর্বেরটিকেই ভালোভাবে চালু রাখুন ।

অতিরিক্ত ফাইলগুলো মুছে ফেলুন । প্রতি মাসে ২ বার করুন এ কাজটি ।স্টার্ট মেনু থেকে রান প্রোগ্রাম চালু করুন, সেখানে লিখুন msconfig এবং এন্টার দিন ।  এখান থেকে স্টার্টআপের প্রোগ্রাম অফ করে রাখুন ।

সবাই ভালো থাকবেন ।

অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো ।

আমার ব্লগ ।।।

আমার ফেসবুক ।।।

আমার ফ্যানপেজ ।।।

একটি উত্তর ত্যাগ