বিজ্ঞানীদের অজানা কাহিনী

0
456

বিশ্বের অসাধারণ বিজ্ঞানীদের একজন টমাস আলভা এডিসন। চারপাশে তাকালেই আমরা তাঁর আবিষ্কারের প্রচুর নিদর্শন দেখতে পাই। ৮৪ বছর বয়সে হাজারো উদ্ভাবনের জনক ছিলেন টমাস। চলুন জেনে আসি এই বিজ্ঞানীর জীবনের কিছু অজানা কাহিনী।

অজানা কাহিনী বিজ্ঞানীদের অজানা কাহিনী

দুর্বল ছাত্র এডিসন

সাত ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন এডিসন। স্কুলের শিক্ষকরা তাঁকে ভাবতেন দুর্বল ছাত্র। পড়ালেখায় অমনযোগী হওয়ায় অনেক সময়ই শিক্ষকরা তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতেন। তবে মা ছেলের পাশে ছিলেন সবসময়। টমাস আলভা তাঁর জীবনের সকল সাফল্যের পিছনে মায়ের অবদানের কথা বলেছেন বারবার। ছেলের উপর বিশ্বাস ছিল মায়ের। তিনি শিক্ষকদের উপর বিরক্ত হন এবং টমাসকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনেন। বাড়িতে পড়ালেখা শুরু হয় টমাসের।

১০ বছর বয়সেই প্রথম গবেষণাগার

ছোটবেলা থেকেই এডিসন আসেপাশের জগৎ নিয়ে খুব আগ্রহী ছিলেন। ৯ বছর বয়স থেকেই তিনি বাড়িতে ছোটখাটো পরীক্ষা শুরু করেন। বাসা থেকে তাঁকে যে টাকা দেওয়া হতো তার সবই খরচ করতেন বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ কেনায়। এই অমূল্য রাসায়নিক পদার্থগুলো নিয়ে সবসময় সচেতন থাকতেন তিনি। এগুলোকে ‘বিষ’ হিসেবে চিহ্নিত করে রাখতেন, যেন মানুষ এগুলো থেকে দূরে থাকে। মাত্র ১০ বছর বয়সেই টমাস তাঁর বাড়ির নিচে নিজের একটি পরীক্ষাগার তৈরী করে ফেলেছিলেন।

সমস্যা, না আশীর্বাদ?

এডিসন কানে কিছুটা কম শুনতেন। কেউ কেউ বলতেন এক কন্ডাক্টর তাঁকে একবার কষে চড় মেরেছিলো বলে এই অবস্থা। আবার কেউ বলেন, এটি জিনগত সমস্যা; কেননা এডিসনের বাবারও একই সমস্যা ছিল। তবে সমস্যাটির কারন যাই হোক না কেন, এর ফলে কিন্তু এডিসন গভীর মনযোগ দিয়ে কাজ করতে পারতেন। বাইরের শব্দ কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারতো না। এডিসন ছিলেন কাজপাগল মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজের মত কাজ করতে পছন্দ করতেন তিনি। ফলে এই সমস্যাটি তাঁর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

প্রথম চাকরি হারানো

১৪ বছর বয়সে ওয়েসটার্ন ইউনিয়েনর টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন আলভা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধার্থে দিনের শিফট পরিবর্তন করে ডিউটি নেন রাতে। কিন্তু একবার ব্যটারিতে সালফারিক এসিড দিয়ে পরীক্ষা করার সময় দুর্ভাগ্যবশত অফিসে আগুন লেগে যায়। ফলে চাকরি ছাড়তে হয় তাঁকে।

প্রথম আবিষ্কারে ব্যর্থতা

২২ বছর বয়সে ভোট রেকর্ডিং মেশিন এর জন্য টমাস তাঁর প্রথম স্বত্ত্বাধিকারটি পান। এটি তিনি তৈরী করেছিলেন প্রশাসনের জন্য। এতে আইনসভার প্রত্যেক সদস্যের একবার করে সুইচ টিপে প্রদত্ত কাগজে ভোট সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু তারা এটিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেননি। সদস্যরা বারবার ভোট পরিবর্তন করায় মেশিনটি তাদের ভোট সংরক্ষণ করতে পারেনি। ফলে পরিচালনা পর্ষদের প্রধান মেশিনটি বাতিল করেন। এতে করে টমাসের স্বত্ত্বাধিকারও বাতিল হয়ে যায়।

গোপন সাংকেতিক ভাষা

প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর দু’বছর পর এডিসনের পরিচয় হয় মিনা মিলার সাথে। তাঁদের দু’জনই প্রথম দেখায় একে অপরের প্রেমে পড়ে যান। এক সাথে সময় কাটাতে থাকেন দু’জন। এমনকি মিনাকে আলভা শিখিয়ে দেন মোর্স নামের গোপন সাংকেতিক ভাষাটিও। অনেক মানুষের মধ্যে থাকলে তাঁরা নিজেদের মধ্যে এই সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করতেন। এরপর একদিন আলভা মিনাকে প্রস্তাব জানালেন . – — ..- .-.. -.. -.– — ..- — .- .-. .-. -.– — . এবং মিনা উত্তর দিলেন -.– . । এর পরপরই তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

রহস্যময় ট্যাটু

মিউচুয়াল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নিবন্ধন অনুসারে আলভার বাম বাহুতে পাঁচটি ফোটা বিশিষ্ট একটি ট্যাটু ছিল। এই রহস্যময় ট্যাটু সম্পর্কে কেউ জানতো না। প্রথম যে ট্যাটু মেশিনটি আলভা আবিষ্কার করেন, সেটি স্টেনসিল কলমের সাহায্যে কাজ করতো। ১৮৭৬ সালে তিনি এর স্বত্বাধিকার পান। পরবর্তীতে স্যামুয়েল রেইলি এই ট্যাটু মেশিনটিকে কিছুটা পরিবর্তন করে নিজেকে ট্যাটু মেশিন এর আবিষ্কারক বলে দাবি করার চেষ্টা করেন।

হতবাক এডিসন

আধুনিক ফ্লোরোস্কোপ উদ্ভাবন করতে গিয়ে এক্স-রে ব্যবহার করেন টমাস। এই ফ্লোরোস্কোপ হাসপাতালে ব্যবহৃত হতো। সেই সময় এক্স-রেকে অনিরাপদ ভাবা হতো না। এডিসন তার সহযোগী ক্ল্যারেন্স ড্যালিকে একটি ফ্লোরোস্কোপ তৈরীর নির্দেশ দেন। ড্যালি নিজের হাতের উপর এক্স-রে পরীক্ষা করেন। এতে করে তার হাতে ক্ষত সৃষ্টি হয়। হাত নিয়ে অনেক ভোগান্তির পর মারা যান ড্যালি। ড্যালির মৃত্যু তাঁকে হতবাক করে দেয়। তিনি এক্স–রে নিয়ে আর গবেষণা না করার সিদ্ধান্ত নেন।

কংক্রিটের বাড়ি

এডিসন একবার সিমেন্ট ব্যবসায় নামার পরিকল্পনা করেন। তিনি নিউইয়র্ক শহরের আবাসন সমস্যা সমাধানের কথা ভাবেন। ছাঁচে সিমেন্ট ঢেলে একটি বাড়ি তৈরী করার কথা মাথায় আসে তাঁর। এমনকি কংক্রিট ব্যবহার করে তিনি জানালা, সিড়ি, বাথটাব ইত্যাদি তৈরীর কথাও ভাবেন। কিন্তু বাস্তবে এটা সম্ভব ছিল না, ফলে বাড়ি তৈরীর চিন্তা মাথা থেকে বাদ দেন। তবে তিনি নিজের জন্য একটি কংক্রিটের বাড়ি তৈরী করেছিলেন। এমনকি কংক্রিটের পিয়ানো এবং আসবাবপত্রও তৈরী করেছিলেন। কিন্তু এগুলো জনপ্রিয়তা পায়নি।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হাতি

১শ’টি পাওয়ার স্টেশনের মাধ্যমে এডিসন আমেরিকাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতেন। এসি তড়িৎ প্রবাহের চেয়ে ডিসি তড়িৎ প্রবাহকে বেশি সমর্থন করতেন। ঘটনাক্রমে সে সময় সারকাসের একটি হাতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। এতে কিছু মানুষ মারা যায়। পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে গেলে সারকাস কর্তৃপক্ষ হাতিটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। এডিসন এরকম নৃসংশতার বিরুদ্ধে থাকলেও তিনি এই সুযোগটিকে কাজে লাগান। তিনি ৬ হাজার ভোল্ট এসি তড়িৎ ব্যবহার করে হাতিটিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করেন এবং দেখান যে, ডিসি-তড়িৎ এসি-তড়িতের চেয়ে নিরাপদ।

একটি উত্তর ত্যাগ