মানুষের মনের ৯টি প্রাকৃতিক নিয়ম

0
387
জীবনকে পুরোপুরি ধারণ করে বাঁচতে হলে, মনের প্রাকৃতিক নিয়মকে উপলব্ধি করতে হবে। একমাত্র আপনার মন-ই জীবনের সবচেয়ে কাছের ভালো বন্ধু হয়ে উঠতে পারে, তেমনই হয়ে উঠতে পারে ভয়ঙ্করতম শত্রু।

আপনার মনের কিছু প্রাকৃতিক নিয়ম রয়েছে, যার বিষয়ে আপনি সচেতন অথবা অবচেতন থাকতে পারেন। এখানে বিশেষজ্ঞরা মানুষের মনের ৯টি প্রাকৃতিক নিয়ম তুলে ধরেছেন।
 
১. জীবনে তাই আসে মন যা চায়
মনের প্রাকৃতিন নিয়মের অন্যতম একটি। প্রত্যেকের জীবনে মূলত নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন জিনিসের প্রতি মনের আকর্ষণ। মস্তিষ্কের ছবিগুলোর ওপর কাজ করে অবচেতন মন। তাই জীবনকে বদলাতে হলে প্রতিদিনের চিন্তাধারাকে পরিবর্তন করতে হবে।

২. প্রতিটি চিন্তার প্রতিক্রিয়া রয়েছে
মানুষের দেহটিকে নিয়ন্ত্রণ করে মূলত তার চিন্তা। যখন ভয় পান তখন হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। যখন দুশ্চিন্তায় ভোগেন তখন পাকস্থলিতে ক্ষুধা বোধ হয় না। তেঁতুল খেতে মন চাইলে জিহ্বায় পানি চলে আসে। এভাবে প্রতিনিয়ত মনের চিন্তা আপনার দেহকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কাজেই শরীরের ভালো কিছু করতে চাইলে তা মনযোগ দিয়ে করা যায়।

৩. চিন্তাশক্তি জ্ঞানের চেয়ে শক্তিশালী
বিশেষ একটি দিনে আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা ফোন দিল না আপনাকে। মন খারাপ করে ভাবলেন, সে আর আমাকে পছন্দ করে না। অথচ সে হয়তো আপনাকে চমকে দিতে কোনো আয়োজন করে রেখেছে। শেষ পর্যন্ত দেখলেন, আসলেই কোনো চমক অপেক্ষা করছিল আপনার জন্য।

কিন্তু সারাদিন আপনি মন খারাপ করে থাকলেন। আসলে মনের চিন্তা এতটাই শক্তিশালী যে, মনে যা গেঁথে নেবেন তাই অবচেতন করে কাজ করবে। তাই চিন্তার পথটা বদলে দিয়ে ভালো থাকতে পারেন।

৪. অভ্যাসই আপনার জীবন
ভালো খারাপ যাই হোক সবার কিছু না কিছু অভ্যাস আছে। বাজে কোনো অভ্যাসের কারণে দারুণ ঝামেলায় থাকলে তা বদলে ফেলুন। যদি মনে করে থাকেন, অভ্যাস বদলে ফেলা অসম্ভব, তাহলে ভুল করছেন।

অবচেতন মনে কলকাঠি নেড়ে অভ্যাসকে সহজেই বদলানো যায়। দুশ্চিন্তায় পড়ে যদি একটি সিগারেটের তৃষ্ণা বোধ করেন, তবে একই পরিস্থিতিতে এক কাপ চা বা এক বোতল পানির অভাব বোধ করাটাও মনের অভ্যাসের বিষয়।

৫. নেতিবাচক চিন্তায় মনযোগ ঢালবেন না
সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় চেহারা দেখেই কী মনে হয় আপনার? বন্ধুকে নতুন জামা পরে আসতে দেখে কী মনে হয় আপনার? যেকোনো পরিস্থিতিতে যদি আপনি হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, ঈর্ষা বোধ করেন তবে তা বদলে ইতিবাচক চিন্তা আনার চেষ্টা করুন। এতে মন ভালো থাকবে, শান্তি পাবেন।

৬. আচরণ রুচির বিষয়
আপনার আচরণ এমন এক বিষয় যা সমাজে আপনার পরিচিতি তুলে ধরবে। আপনি বিষয়গুলোকে কীভাবে নেন, মানুষের সঙ্গে মিশেন ইত্যাদি। আর এসবই বলবে আপনি আসলে কে? আচর-ব্যবহার কেমন হবে সে বিষয়ে আপনার পছন্দের সুযোগ রয়েছে। যদি চান আচরণে বিষ ঢেলে দিবেন তবে তাই পারবেন। আবার মধুর আচরণ দিয়েও সবাইকে জয় করতে পারবেন।

৭. প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়
কষ্ট পেয়ে কান্নার পর কী জীবনটা বদলে যায়? তা যায় না। তবে কান্না আপনাকে অনেকটা হাল্কা করে দেয়। এর কারণ, এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে আপনি অভ্যস্ত। তবে এসব প্রতিক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। যেসব প্রতিক্রিয়া জীবনকে আরো বিষাদময় করে দেয় সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করুন শক্তিশালী মনটাকে দিয়ে।

৮. চিন্তাধারাকে বাঁচিয়ে রাখা উচিত
যে কোনো নেতিবাচক বিষয় নিয়ে ইতিবাচকভাবে চিন্তা করুন, আপনি অবশ্যই তা জয় করতে পারবেন। এভাবেই গোটা মহাবিশ্ব কাজ করে এবং এটাই মনের প্রাকৃতিক নিয়ম। তবে কী চাইছেন তাতে ধ্যান দিন এবং তাকে ইতিবাচকভাবে পেতে মস্তিষ্ককে সঠিক উপায়ে খাটানোর চেষ্টা করুন।

৯. তৃপ্তিবোধের আচরণ
মনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নিয়ম হলো তৃপ্তিবোধ থাকা। যা করছেন বা পাচ্ছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার চেষ্টা করুন। এমনকি সৃষ্টিকর্তার কাছে কিছু চেয় থাকলে তা না পেলেও মনে তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি রাখুন।

ভাবুন যে, চাওয়া এখনো পাওয়া হয়নি, কিন্তু চাওয়ার উপায় তো রয়েছে। দেখবেন, এই তৃপ্তি আপনাকে সহজেই মনের চাওয়াকে পূরণ করে দেবে। যা পাচ্ছেন তাকে তৃপ্তিদায়ক মনে করে নিলে সবকিছু থেকেউ শান্তি লাভ করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ