৩০ হাজার টাকার কমে সেরা ৫ ল্যাপটপ মডেল

0
493

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের প্রযুক্তি পণ্যের বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ক্রেতাদের মধ্যে ডেস্কটপের তুলনায় ল্যাপটপ কেনার প্রবণতা বাড়ছে। অথচ কিছুদিন আগেও কম্পিউটার বলতে চোখের সামনে ঢাউস সাইজের সিআরটি মনিটর আর সিপিইউ-এর ছবিই ভেসে উঠতো। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে মানুষের চাহিদা আর প্রয়োজনের ধরণটাও। ফলে ইদানীং সময়ে খুব দরকার না হলে লোকে আর ডেক্সটপ পিসি কিনছে না। স্বাভাবিকভাবেই এই বাজারটা দখল করে নিয়েছে ল্যাপটপ পিসি। এছাড়া আধুনিক ল্যাপটপগুলোও হয়ে উঠছে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং কার্যক্ষম। অত্যাধুনিক গেইমগুলো থেকে শুরু করে গ্রাফিক্স বিষয়ক অনেক ভারী কাজও ল্যাপটপ দিয়েই সেরে ফেলা সম্ভব হচ্ছে। যদিও ডেক্সটপ পিসির আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বড় স্ক্রীণ এবং প্রচুর পেরিফেরাল সম্বলিত কাজের ক্ষেত্রে ডেক্সটপ পিসির জুড়ি নেই। তবু পিসি ব্যবহার করতে হয়, এমন সাধারণ মানের কাজগুলোর ক্ষেত্রে (ইন্টারনেট সার্ফিং থেকে শুরু করে ডক ফাইল তৈরি এবং সম্পাদনা পর্যন্ত) ল্যাপটপ প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে সক্ষম।

কিছুদিন আগে নিজের প্রয়োজনেই ল্যাপটপ খুঁজছিলাম। যেটুকু ঘাঁটাঘাঁটি করেছি সেখান থেকেই আজ বাজেট-বান্ধব ৫টি মডেলের ল্যাপটপ নিয়ে আলোচনা করছি। বেশ কাজের হলেও এখানে উল্লেখিত ৫টি ল্যাপটপের দামই ৩০ হাজার টাকা বা তার চেয়ে নিচে। আসুন, আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

Acer Aspire E5 511:
১৫.৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে সম্বলিত Acer ব্র্যান্ডের এই মডেলটি কম দামে বেশ ভাল মানের একটি ল্যাপটপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইন্টেল পেন্টিয়াম কোয়াড কোর 2.16 GHz প্রসেসর, ৪ জিবি DDR3 র‌্যাম এবং জেনুইন উইন্ডোজ ৮.১- যে কোন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য নিঃসন্দেহে খুবই যুগোপযোগী স্পেসিফিকেশন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়াও ১৫ ইঞ্চির বেশি 1366 x 768 এইচডি স্ক্রীণ রেজ্যুলেশন সম্বলিত ডিসপ্লে, স্টাইলিশ ম্যাট কাঠামো এবং ডেডিকেটেড নাম্বার প্যাড- এত দামে বাজারে খুব বেশি পাওয়া যাবে না। ব্যাটারী ব্যাক-আপ প্রায়  ৭ ঘন্টা। এছাড়াও 720 পিক্সেল এইচডি ওয়েবক্যাম, বিল্ট-ইন কার্ড-রিডারসহ অন্যান্য সাধারণ সব ফিচারগুলো তো আছেই।

Lenovo G400:
3D গেমার বা গ্রাফিক্স বিষয়ক কাজ যারা করতে চান, তাদের জন্য এ ল্যাপটপটি বেশ ভাল সার্ভিস প্রদান করতে সক্ষম। পেন্টিয়াম কোর আই থ্রি 2.40 GHz প্রসেসর এবং ২ জিবি র‌্যামের পাশাপাশি এতে ব্যবহার হয়েছে AMD Radeon™ HD8750 ২ জিবি গ্রাফিক্স চিপসেট, যা অন্যান্য ল্যাপটপগুলোর তুলনায় হাই-এন্ড গ্রাফিক্স বিষয়ক সাপোর্ট দিতে পারে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ১৪ ইঞ্চি 1366 x 768 রেজ্যুলেশন ডিসপ্লে, ডুয়েল স্টেরিও স্পীকার, ইন্টিগ্রেটেড ওয়েবক্যাম এবং মাইক, ওয়াইফাই এবং ব্লু-টুথের মত অন্যান্য সাধারণ সব ফিচারগুলো।

Asus X553MA:
ব্র্যান্ড হিসেবে Asus-এর সুখ্যাতি রয়েছে সারা বিশ্বব্যাপী। এ মডেলটি তাদের কম বাজেটের মডেলগুলোর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ১৫.৬ ইঞ্চির বিশাল স্ক্রীনের এই ল্যাপটপটিতে ব্যবহার হয়েছে 2.16 GHz ইন্টেল কোয়াড কোর প্রসেসর, ৪ জিবি DDR3 র‌্যাম এবং ৫০০ জিবি হার্ডডিস্ক। উন্নত ও শক্তিশালী প্রসেসর এবং বিশাল স্ক্রীণ সাইজ মূলত এই ল্যাপটপটির সবচেয়ে ভাল দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আসুসের ব্র্যান্ড ভ্যালুও আরেকটি আকর্ষণীয় ব্যাপার। সম্পূর্ণ এইচডি এলইডি ডিসপ্লের এই ল্যাপটপটিতে আরও রয়েছে 1.3 মেগাপিক্সেল ওয়েবক্যাম, কার্ড-রিডার, ইউএসবি পোর্ট ছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ফিচারগুলো। বাটারী ব্যাক-আপ প্রায় ৬ ঘন্টা।

HP 14 R217TU:
৩০ হাজার টাকার চেয়ে কম দামী ল্যাপটপগুলোর মধ্যে এ মডেলটিকেও একটা যোগ্যতর অবস্থানে রাকতে পারেন। পেন্টিয়াম কোয়াড কোর 2.16 GHz প্রসেসর, ২ জিবি DDR3 র‌্যাম এবং ৫০০ জিবি হার্ড ড্রাইভ এটিকে আপনার দৈনন্দিন কাজ চালানোর মত প্রয়োজনীয় শক্তি আর সামর্থ্য সরবরাহ করছে। স্ক্রীনের আকৃতি ১৪.১ ইঞ্চি, যা সাধারণ কাজ চালানোর যথেষ্ট। বাড়তি সুবিধা হিসেবে থাকছে ডুয়েল লেয়ার ডিভিডি রাইটার। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ ফিচারগুলো যেমন: এইচডি ওয়েবক্যাম এবং মাইক্রোফোন, ব্লু-টুথ, মাল্টি কার্ড-রিডার, ইথারনেট ল্যান তো রয়েছেই। এলইডি ব্যাক ডিসপ্লে চালিত এ ল্যাপটপটিতে ব্যাটারী ব্যাক-আপ পাওয়া যাবে প্রায় সাড়ে ৫ ঘন্টা।

Dell Inspiron 15 N3542:

ব্র্যান্ড ভ্যালুর বিচারে ডেল-এর এই মডেলটিও অন্যান্যগুলোর তুলনায় খুব একটা কম যায় না। ইন্টেল ফোর্থ জেনারেশনের পেন্টিয়াম ডুয়েল কোর 1.70 GHz প্রসেসর এবং ২ জিবি র‌্যাম এই মডেলটিকে কাজ চালানোর প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করছে। ১৫.৬ ইঞ্চি এলইডি ডিসপ্লে স্ক্রীণের এই মডেলটির হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ ৫০০ জিবি। রয়েছে মাল্টি কার্ড-রিডার, ওয়াই-ফাই, ব্লু-টুথ, ইউএসবি পোর্টসহ সাধারণ সকল সুবিধা। ২.৩ কেজির এই ডিভাইসটিতে ব্যাটারী ব্যাকআপ পাবেন প্রায় ৫ ঘন্টা।

মোটামুটি এই হলো আমাদের বাজারে সবচেয়ে কমদামী সেরা ৫ মডেল। এবারের সমস্যাটা হলো এ মডেলগুলো আসলেই ঠিক ৩০ হাজার টাকার কমে পাওয়া যাবে কিনা। ল্যাপটপের দাম এলাকাভেদে দোকানগুলোতে বিভিন্ন হতে পারে। সম্প্রতি বাজেট ঘোষিত হয়েছে, দামে এরও একটা প্রভাব থাকতে পারে। আমি সাজেস্ট করব একটু বাজারটা ঘুরে কেনাই ভাল। ঘরে বসে কিনতে চাইলে দারাজ বা কেইম্যু সাইটগুলোর বিষয়টি তো জানেনই। এছাড়া বাংলাদেশে একদম নতুন একটা মজার সার্ভিস চালু হয়েছে। প্রাইস কম্পারিজন সাইট। এখান থেকেও Laptop price সম্পর্কে একটা আইডিয়া পেতে পারেন।

আপনার জীবন আনন্দময় হোক, এই কামনায়…..

LEAVE A REPLY

19 − eighteen =