মানুষের মাংস খায় ‘ইরিয়ান জায়া’ উপজাতি

0
580
‘ইরিয়ান জায়া’ বিশ্বের সবচেয়ে বুনো এবং বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোর একটি। এখানকার লোকসংখ্যা মাত্র ২০ লাখ। নরখাদকের দ্বীপ নামে এই অঞ্চলটির একটি ভয়ংকর পরিচিতি রয়েছে। বারো মাসই একসময় জাতিগত সংঘর্ষ লেগে থাকতো এ দ্বীপটিতে। এখানকার উপজাতিরা চুরি কিংবা হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষদের খেয়ে ফেলতো। যারা মানুষের মাংস খেতো তারা বিশ্বাস করতো শত্রুকে খেয়ে ফেললে তার শক্তি নিজেদের ভেতরে সঞ্চারিত হয়।
 
মাংস খায় 'ইরিয়ান জায়া' উপজাতি মানুষের মাংস খায় 'ইরিয়ান জায়া' উপজাতি
 
তবে এখন এ ধরনের দ্বন্দ্ব আইন দ্বারা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। ১৯৬০ সালে এই দুর্গম দ্বীপটির পশ্চিমাংশ দখল করে নেয় ইন্দোনেশিয়া। এই দ্বীপের নাম দেওয়া হয় ইরিয়ান জায়া। যার অর্থ ‘বিজয়ী উষ্ণ ভূমি।’ এটি এমনই একটি দ্বীপ যেখানে গেলে মনে হবে অতি প্রাচীন প্রস্তর যুগ যেন এখনও থেমে আছে এখানে।
হারিয়ে যাওয়া আদি পৃথিবীর মতো এ দ্বীপের অদিবাসীরা মূলত বৃক্ষচারী। বিশাল গাছের উঁচুতে মাথায় ঘর বেঁধে বসবাস করে এরা। এখানকার প্রাচীন অধিবাসীদের বিরুদ্ধে এখনও নরমাংস ভক্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

যদিও ইন্দোনেশীয় সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মানুষ খাওয়ার এই ভয়ংকর প্রথা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে একসময় তাদের মানুষভক্ষণের এই রীতি স্বীকৃত ছিল পৃথিবীর সর্বত্র।

ইরিয়ান জায়াতে উপজাতির মধ্যে অন্যতম হলো ‘ইয়ালি উপজাতি’। ষাটের দশকের প্রথম দিকে ইয়ালি উপজাতিরা তাদের বন্দীদের ধরে ধরে পুড়িয়ে খেতো। আগে যখন মিশনারিরা উড়োজাহাজ নিয়ে এদের গ্রামে আসতো, তারা সবাই ভয়ে পালাতো। এমনকি উড়োজাহাজের শব্দ শুনলেই এখানকার লোকজন তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে গহিন অরণ্যে পালিয়ে যেত।

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে ইরিয়ান জায়ায় অভিযাত্রী, মিশনারি, সৈনিক, শিক্ষক, প্রসপেক্টরদের এতো বেশি আনাগোনা বেড়ে গেছে যে, এখানকার অধিবাসীরা আগের মতো এখন আর উড়োজাহাজের শব্দে আঁতকে ওঠে না। তবে প্রকৃতিগত দিক থেকে ইরিয়ান জায়া আগে যেমন ছিল এখনও তেমনই আছে।

বিশাল রেইন ফরেস্ট, বড় বড় ফার্ন গাছের সমাহার, জলাভূমি, ১৬ হাজার ফুট উঁচু মেঘে ঢাকা পর্বত সবকিছুই যেন পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে সুনিশ্চিত। তবে উপজাতিদের পেটের খুরাক হবার ভয়ে আপনি নিজেও হয়তো যেতে চাইবেন না এই অঞ্চলটিতে।

LEAVE A REPLY

fifteen − eleven =