আপনার ছবি শার্প না হওয়ার সম্ভাব্য কারণ

0
290

১. খুব সম্ভবত আপনার ইমেজ স্ট্যাবিলেশন চালু ছিল!

প্রথম পয়েন্টটাই গালি খাবার মত! কারণ আমরা জানি যে ইমেজ স্ট্যাবিলেশন (ক্যাননে IS এবং নিকনে VR) চালু থাকলে বেশী স্ট্যাবল (শার্প) ছবি আসবে। কিন্তু বড় বড় ফটোগ্রাফারের মতে যখন আপনি আপনার ক্যামেরার সাথে ট্রাইপড ব্যবহার করছেন, কিংবা কোন শক্ত স্থানে রেখে ছবি তুলছেন, তখন ইমেজ স্ট্যাবিলেশন চালু রাখলে বরং আপনার ছবি কম শার্প হতে পারে! যদিও প্রায় সকল লেন্স নির্মাতারাই বলেন যে ট্রাইপডের সাথেও আপনি চাইলে ইমেজ স্ট্যাবিলেশন অন রাখতে পারেন; এক্ষেত্রে বড় ফটোগ্রাফারদের যুক্তি, তাহলে ইমেজ স্ট্যাবিলেশন অফ করবার বাটন দেবার দরকার কি? যাই হোক, ইফ ফটো ফ্যাক্টরি পেজ থেকে জেনেছেন, যদি বড়দের মানেন, তাহলে এটা মানতে পারেন যে যখন শক্ত কোন সারফেসে রেখে ছবি তুলছেন কিংবা ট্রাইপড ব্যবহার করছেন, তখন ইমেজ স্ট্যাবিলেশন বন্ধ রাখতে পারেন।

২. ট্রাইপডের মধ্যেখানের দন্ড মনে হয় একটু বেশীই উঁচা ছিলো

প্রায় প্রত্যেক ট্রাইপডেরই তিনটা পায়া পুরো ছেড়ে দেবার পর আমাদের হাতে অপশন থাকে তা হলো মধ্যেখানের স্ট্যান্ডটা একটু উচু করে দেওয়া। ইফ ফটো ফ্যাক্টরি পেজে জেনেছেন এতে ক্ষেত্র বিশেষে ৬ থেকে ১৪ ইঞ্চির মত বাড়তি উচ্চতা পাওয়া যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এটি আসলে ট্রাইপডের মত শক্ত না; যার ফলে এটা বেশ নড়ে চড়ে। এমনকি সামান্য বাতাসেও (যা হয়ত আপনি টেরও পান না) ক্যামেরা নড়ে চড়ে। আর আপনার ছবি শার্প আসে না।

৩. মনে হয় সাটার স্পিড অনেক স্লো ছিলো

শার্প ছবি না আসবার এটা অন্যতম একটা কারণ। যদি আপনি হাতে ক্যামেরা ধরে থাকেন, তাহলে সাটার স্পিড একটু বেশী থাকাই ভালো। ইফ ফটো ফ্যাক্টরি পেজে জেনেছেন বিভিন্ন হিসাব মতে বড়রা বলেন ৮ থেকে ৫০ মিমি লেন্স বা তার ধারে কাছের লেন্সের জন্য সাধারণত ১/৬০ সাটার স্পিডের নিচে নামলে হাত কাঁপার সাথে সাথে ছবিও নষ্ট হয়। আর এর বেশী লেন্স এর জন্য সাধারণত সাটার স্পিড কত মিমি লেন্স ব্যবহার করছেন তার ব্যাস্তানুপাতে হিসাব হয়। বুঝলেন না? ধরেন আপনি ২৫০ মিমি লেন্স ব্যবহার করছেন, তাহলে সাটার স্পিড হবে ১/২৫০; ৫০০ মিমির সাথে ব্যবহার করলে ১/৫০০ সাটার স্পিড।

আপনি যদি লো লাইটে ছবি তুলেন (শীতের কুয়াশা কিংবা মেঘলা দিনে) তাহলে আপনাকে এটা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। কারণ ফাস্ট সাটার স্পিডের সাথে লাইট কমে, আবার স্লো সাটার স্পিডের সাথে শার্প ছবি না পাবার ভয় থাকে। তাই এখানে বড়দের সাজেশন হচ্ছে, প্রথমে এপার্চার যদ্দুর সম্ভব বাড়ায় নিন (মাথায় রাখবেন f/22 এপার্চারের থেকে কিন্তু f/1.8 অনেক বড়), তারপর আইএসও বাড়ান।

৪. লো লাইটে অটো ফোকাস ফেইল মারতে পারে

আবারও পিটানি খাওয়া পয়েন্ট! কিন্তু বড় ভাইরা যেমন বলছে, তেমনি আমার নিজেরই অভিজ্ঞতা হইছে! এইতো, গত পরশুদিন (জানুয়ারী ১৭, ২০১৫) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বাবিদ্যালয়ে গিয়ে পাখির ছবি তুলতে গিয়ে ১৮-১০৫ লেন্স দিয়ে যাই তুলি সব ব্লার আর আমার ৫০০ এমএম এর মিরর লেন্স (অটোফোকাস নাই) দিয়ে তুললে মোটামুটি শার্প পাই। পরে যখন ১৮-১০৫ দিয়ে অটোফোকাস অফ করে কিছু ছবি নিলাম, দেখি সব ওকে। আবার বাসায় এসে লাইট লাগায় ছবি তুললাম, তখন অটোফোকাস ঠিক ঠাক কাজ করে। এর কারণ হিসাবে বড় ভাইয়েরা বলেন, যখন অল্প আলোতে ছবি তোলা হয়, তখন ক্যামেরা আসলে অনেক কিছুই বুঝতে পারে না। আমরা দেখতে পারি, কারণ আমাদের চোখের ডায়নামিক রেঞ্জ ৪২, আর ক্যামেরার সেখানে সাধারণত ১১-১৩ হয়। বুঝতেই পারতেছেন। ওহ, যারা ক্যামেরার ডায়নামিক রেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা করেন যে এটা কোন কাজের না, তাদের বলি, এই সব ক্ষেত্রে অবশ্যই কাজের।

৫. আন্ধার রাইতে খালি ট্রাইপডেই হয়নারে পাগল

অন্ধকারে ছবি তুলতে কিংবা রাত্রের ছবি তুলতে আমরা ট্রাইপড ব্যবহার করি, কিন্তু তার পরেও শার্প ছবি পাওয়া যায় না। তার বড় একটা কারণ হচ্ছে আপনি যখন সাটার বাটন চেপে ছেড়ে দিচ্ছেন তখন ক্যামেরা এতটুকু হলেও কাঁপে, আর ছবির যা হবার তাই হয়! আবার অনেকে মাতব্বারী করে পুরো সময়টা ধরে রাখেন, তাতে হয় আরও ল্যাজে গোবোরে অবস্থা! কারণ তাতে আরও বেশী খারাপ অবস্থা হয়।

এই সমস্যা থেকে বাঁচবার ২টা উপায় আছে, ক. ২/১০ সেকেন্ড ডিলে শট নিন; খ. ক্যামেরা রিমোট ব্যবহার করুন। ২/১০ সেকেন্ড ডিলেশট এ সুবিধা হলো আপনি এর মধ্যে সাটার চেপে হাত সরিয়ে নিতে পারবেন। তাতে করে ক্যামেরা কাপঁবে না। তার পরও রিমোট ব্যবহার করার সুবিধা অনেক। কারণ আপনি প্রতিবার সাটার চাপবার জন্য ক্যামেরা টাচ করলে ফোকাস নষ্ট হবার একটা সুযোগ থাকে, তাই রিমোট ব্যবহার করা বেশ সুবিধা জনক। অনেকেই মনে করেন যে রিমোটের দাম অনেক, নাহ, তা নয়। ইফ ফটো ফ্যাক্টরি পেজে জেনেছেন মাত্র ৪৫০ টাকাতেই নিকন এবং ক্যাননের জন্য রিমোট পাওয়া যায়

৬. সব খানে বড় এপার্চার ব্যবহার করতে নাইরে পাগল

আমার একখনা ৩৫মিমি আছে, এতে f/1.8 এপার্চার ব্যবহার করা যায়, তাইলে ব্যবহার করমু না ক্যারে? এই প্রশ্ন অনেকেই করে। এর ফল কি হতে পারে? ধরেন আপনি বর বউয়ের ছবি তুলতেছেন, একজন থেকে আর একজন একটু সামনে পিছে; আপনি একজনরে ফোকাস করলেন, ছবি তুললেন, হেব্বি একটা ছবি পাইলেন, বাসায় আইসা কম্পিউটারে ভইরা দেখেন হয় বর না হয় বউ ব্লার হয়ে গেছে!

মাথায় রাখতে হবে, যখন আপনি এক সাথে ২/৩ টা সার্ফেসের ছবি তুলছেন, তখন চাইলাম আর বড় এপার্চার ব্যবহার করলাম এমন করবেন না। ইফ ফটো ফ্যাক্টরি পেজে জেনেছেন তাতে করে একটা শার্প, অন্যটা ব্লার আসতে পারে।

৭. ময়লা ময়লা ময়লা, লেন্সে আর সেন্সরে ময়লা

উম, এইটা নিয়ে মনে হয়না খুব বেশী কিছু বলার আছে। সেন্সরে এবং লেন্সে ময়লা থাকার ফলে ফোকাসে সমস্যা হয় এবং ছবিও বেশ খারাপ আসে। এই সমস্যা সমাধানে লেন্স ক্লিনিং কিট কিনে নিয়ে নিজেই পরিস্কার করতে পারেন নিজের লেন্স।

৮. পোষ্ট প্রসেস করায় কোন দোষ নাই

ডিএসএলআর আছে বলে পোষ্ট প্রসেস করা যাবে না এমন কোন কথা নাই। দুনিয়ার সব ভালো ফটোগ্রাফারই টুকটাক পোষ্ট প্রসেস করে। তাই আপনিও ছবি তোলার পর ফটোশপ/লাইটরুমে বসে একটু শার্পনেস বাড়ায় নিতে পারেন। এতে দোষের কিছু নাই; কিন্তু তই বলে আবার শার্পনেস এত বাড়াইয়েন না যে ছবি দেখতে 300 মুভি এর রং চং এর মত হয়ে যায়!

৯. লেন্স একটা বিষয়

লোক মুখে শোনা যায় যে ৭৫-২৫০ লেন্সের থেকে নাকি ৭৫-৩০০ লেন্সের শার্পনেস খারাপ, এইটার থেকে ঐটার শার্পনেস খারাপ, ইত্যাদি ইত্যাদি। এটা মূলত হয় ঐ হাত কাপাকাপির উপরে। কারণ ২৫০ এর জুম এবং ৩০০ এর জুম একই না। তবে একটা বিষয়; যেমন নিকনের G লেন্স এবং D লেন্সের মধ্যে পার্থক্য আছে যেমন আছে ক্যাননের সাধারণ লেন্স এবং L সিরিজের লেন্সের মধ্যে। আর অনেকেই থার্ডপার্টি (থার্ডপার্টি কেন বলে জানি না, আমার হিসাবে সেকেন্ড পার্টি হবে) লেন্স যেমন ট্যামরন রেন্স কিনে বা স্যামিয়াং এর লেন্স কিনে যদি মনে করেন যে একই পারফরমেন্স পাবেন, তাহলে ভূল হবে।

ফেসবুকে আমি

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + eleven =