TiGER-M@TE is BACK - TiGER-M@TE এর এক্সক্লুসিভ ইন্টার্ভিউ

0
603

২০১১ সালের ১৯শে অক্টোবর একইসাথে ৭ লক্ষ ওয়েবসাইট হ্যাক করে বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা সৃষ্টিকারী বাংলাদেশী হ্যাকার টাইগার মেট প্রায় দেড় বছর পর পুনরায় তার হ্যাকিং কার্যক্রম  সকলের সামনে এনেছেন। এসেই তিনি মালডোভার গুগল, ইয়াহু, মাইক্রোসফট, ইউটিউব, এমএসএন, বিবিসি সহ মালডোভার সরকারি অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি হ্যাক করে সাইবার স্পেসে তার শক্ত উপস্থিতির কথা সকলকে জানিয়ে দেন।

বিগত ৭ এবং ১৪ এপ্রিলে উনি তার এই সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করেন। এর আগেও তিনি গুগল বাংলাদেশ, গুগল পাকিস্তান, গুগল কেনিয়া, ইয়াহু, এভাস্ট , ক্যাস্পারেস্কি , মাইক্রোসফট, বিং, এয়ারটেল, বিটিসিএল, আমেরিকান এক্সপ্রেস সহ নামি দামী সব ওয়েবসাইট হ্যাক করে বাংলাদেশী হ্যাকার হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। উল্লেখ্য, তার হ্যাককৃত ৭ লক্ষ ওয়েবসাইট একই সার্ভারের হোস্টিং এ ছিল। উনি হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে ডিএনএস পয়জনিং নয়, বরং ডিএনএস হাইজ্যাকিং পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন।

hacked-by-tiger-mate TiGER-M@TE is BACK - TiGER-M@TE এর এক্সক্লুসিভ ইন্টার্ভিউ

১৮২১ সাল থেকে পরিচালিত নামকরা ব্রিটিশ পত্রিকা “দি গার্ডিয়ান” তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। সেখানে তিনি সারা বিশ্বের হ্যাকারদের উদ্দেশ্যে বলেন “অন্যের কোড বা এক্সপ্লইট ব্যবহার না করে নিজে কোড করা জানতে হবে, নিজের এক্সপ্লইট ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে। হ্যাকিং হল শুধুমাত্র নিজের জ্ঞান এবং দক্ষতার সমন্বয়”।

টাইগার মেট এর সাক্ষাৎকার-  
প্রশ্নঃ প্রায় ২ বছর পর হ্যাকিং এ ফিরে এলেন। এসেই এত বড় বড় সাইবার আক্রমণ। এই দুই বছর কোথায় ছিলেন?
উত্তরঃ আমি  ২ বছর পর “হ্যাকিং” এ ফিরেছি  প্রশ্নটি  ভুল । আমি ডিফেসিং থেকে বিরত ছিলাম মাত্র । ডিফেসিং হল হ্যাকিং  এর সামান্য একটি অংশ  । “হ্যাকিং” এ আমি  সবসময়ই  ছিলাম। কেউ আমাকে জানেনা তার মানে এইনা যে আমিও  কাউকে জানিনা।।  বস্তুত , আমি সবকিছুর উপরেই নজর রাখি।

প্রশ্নঃ আপনার কার্যক্রমে প্রকাশিত হয় যে আপনি হোয়াইট এবং গ্রে বাদ দিয়ে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার। এই ব্যাপারে আপনার মতামত কি?
উত্তরঃ আমি সবকিছুই করি। তবে যারা আমাকে যেভাবে চিনে।

 

প্রশ্নঃ আপনার হ্যাকিং জগতে আসার উদ্দেশ্য কি? শখ থেকে নাকি কোন কারণ ছিল?
উত্তরঃ  আমি মূলত ওয়েবমাস্টার ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিলো  নতুন কিছু শিখা।  হ্যাকিং করবো  এ উদ্দেশ্যে  নিয়ে শুরু  করিনি।

উত্তরঃ আপনি যে ২ বছর অফলাইনে ছিলেন তখন আপনাকে নিয়ে কিছু অসাধু হ্যাকার বিভিন্ন ব্লগ সাইটে অনেক বাজে মন্তব্য করেছে। আপনার দক্ষতা নিয়ে কটূক্তি করেছে। এমনটি বলেছে যে এখন যেসব নিরাপত্তা দুর্বলতা আছে সেসবের এক্সপ্লয়েটে আপনার দক্ষতা নেই। আপনি তো সবই জানেন। প্রতিবাদ কেন করলেন না?
উত্তরঃ প্রথমত  আমি কখনোই  অফলাইনে ছিলাম না।  দ্বিতীয়তো , আমাকে নিয়ে কেউ  এই সময়ের মধ্যে কটুক্তি করেছে আমি আপনার  কাছ  থেকেই  প্রথম  শুনলাম। অতীতে যারা আমাকে  নিয়ে ল্যামিং করেছিল তাদের আজকে কোনো অস্তিত্ব নাই।  এখন  যারা ল্যামিং করছে   ভবিষ্যতে তাদেরও  অস্তিত্ব থাকবে না।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইটগুলো বড় ধরণের নিরাপত্তা দুর্বলতায় ভুগছে। এই ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

উত্তরঃ তাদের নিজেদের শুধরাতে  হবে।  অন্তর্জান্তিক অনেক ঘটনাই  ঘটছে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠানের  মালিক/ডেভেলপার  মনে করে বাইরে যা হচ্ছে হোক,আমাদের কিছুই হবে না।এরকম  ঔধতপূর্ণ আচরণ বাদ দিতে হবে। আমি চালাক  আর বাকি সবাই বোকা এরকম  মনোভাব নিয়ে থাকলে  নিরাপত্তা কিংবা উন্নতি এ দুটির কোনটাই হবেনা। বস্তুত এটা তাদের বোকামির বহি:প্রকাশ।

প্রশ্নঃ বর্তমানে তো বাংলাদেশে বেশ কিছু হ্যাকিং গ্রুপ আছে। তাদের কার্যক্রমকে আপনি কেমনভাবে দেখছেন?

উত্তরঃ দুঃখজনক  হলেও সত্যি  বাংলাদেশের তথাকথিত “হ্যাকিং গ্রুপ” এর বেশির ভাগই ল্যামার। ১টি  ওয়েবসাইট ডিফেস দিয়ে ৫টি  সাইট এ মিরর করে আর ১০টি  নিউজ পোর্টালে খবর ছাপায়,যার মধ্যে ৯টি সাইটই  তাদের নিজেদের । আজকাল তো ওয়ার্ডপ্রেস এর একটি ওয়েবসাইট থাকলেই সাংবাদিক হওয়া  যায়, আর একটা সাংবাদিক পরিচিত থাকলেই  “হ্যাকিং গ্রুপ” খোলা যায়।  কিছু কিছু  গ্রুপ আবার নাম কামানোর  জন্য অন্য দেশের ল্যামারদের  সাথে তথাকথিত  সাইবার যুদ্ধ   করতে যায়। অন্য দেশের বিভিন্ন  নাম না জানা সব ওয়েবসাইটের চিপা চাপায়  ওয়েবপেজ বা ইমেজ  ফাইল আপলোড করলে ভাবে ওদের অনেক ক্ষতি করে ফেলেছে । বস্তুত , ল্যামাররা বুঝেনা ,এটি  সাইবার যুদ্ধ তো দুরের  কথা, ডিফেসের  মধ্যেও  পরেনা। বাংলাদেশের অনেক  সাংবাদিক ও এইসব ল্যামারদের ভুয়া খবরে বিভ্রান্ত হয়।

তবে এগুলো যারা করেছিল  তারা আজকে অস্তিত্ববিহীন। এখন যারা করছে  তাদের ও ভবিষ্যতে অস্তিত্ব থাকবে না। বস্তুত ,ল্যামিং করে কেউ কখনো টিকে থাকতে পারেনি।ভবিষ্যতেও পারবেনা।

প্রশ্নঃ আপনার বয়স কত? আপনি কি মনে করেন হ্যাকার হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স গুরুত্বপূর্ণ কিছু?
উত্তরঃ আমার বয়স,হতে পারে ২০,৪০ কিংবা ৬০। কিছু কিছু জিনিস অজানা থাকাই  ভালো।  হ্যাকার  হবার জন্য বয়স গুরুত্বপূর্ণ না হলেও হ্যাকিং করতে দরকার হয়  প্রচন্ড ধৈর্য শক্তি  , এবং নতুন  কিছু শিখার ইচ্ছা যার জন্য অবশ্যই  বয়সের একটা প্রভাব থাকে। একটা মানুষ সারা জীবন শিখতে  পারেনা। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর মানুষের আর  শিক্ষার ইচ্ছা থাকেনা বা ইচ্ছা থাকলেও শেখার সামর্থ  থাকেনা বিভিন্ন পারিপার্শিক কারণে। নতুন কিছু শিক্ষার অনিচ্ছা থেকেই হ্যাকিং শেখার অবসান হয়।

প্রশ্নঃ হ্যাকিং নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ চিন্তা কি?
উত্তরঃ ভবিষ্যতের  কথা ভবিষ্যতের জন্যই থাকুক।একবারেই সবকিছু জানলে ভবিষ্যতে কিছু  জানার থাকবে না।

সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে উনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়াও উনি জানান যে উনি কখনও কারও সাথে দেখা করেন না, তা সে যে ই হোক না কেন। উনি নিজেকে সকলের চোখের আড়ালে রেখেই উনার কার্যক্রম পরিচালনা করে যেতে চান।

একটি উত্তর ত্যাগ