তৈরি করা হচ্ছে ৩ হাজার নারী ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা

0
289

সুবিধাবঞ্চিত নারীদের তথ্য প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সারাদেশে তৈরি করা হচ্ছে ৩ হাজার নারী ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা। এসএমই ফাউন্ডেশন,একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) ও বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি) যৌথভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের তৈরি করবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর এসএমই ফাউন্ডেশন কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইহসানুল করিম বলেন, এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো নারীদের সাপ্লাই চেইন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

টার্গেট হচ্ছে বেসিক কম্পিউটার জ্ঞানসম্পন্ন ও এসএসসি পাস নারীরা। যারা ইতোমধ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ৭৫টি উপজেলার ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে এক মাসব্যাপী গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি ও অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

১০ কোটি টাকার পাইলট প্রকল্পে সরকার ৮ কোটি ও এসএমই ফাউন্ডেশন ২ কোটি টাকা বহন করবে। ৩ হাজারের মধ্যে ৩শ’ নারীর প্রশিক্ষণের খরচ বহন করবে ফাউন্ডেশন।

আইসিটি উদ্যোক্তা হিসেবে ৩ হাজার নারী ছাড়াও একশ’ দক্ষ আইসিটি প্রশিক্ষক তৈরি করা হবে। আগামী ১৬ মে ময়মনসিংহের ভালুকায় দু’টি ব্যাচে ৬০ জনের প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলায় ১৫০টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দেশের ৭৫টি উপজেলা থেকে ৩ হাজার নারীকে বাছাই করা হবে।

প্রশিক্ষিতদের প্রোফাইল নিয়ে ডাটাবেজ তৈরি করা হবে জানিয়ে সৈয়দ ইহসানুল করিম আরও বলেন, লিংকটি জাতীয় ও অন্যান্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। সেখান থেকে সরকার ও কর্পোরেটরা তাদের প্রয়োজন মতো লোককে বেছে নিতে পারবেন। এর আওতায় নারীদের জন্য জব ফেয়ার করা হবে, দেওয়া হবে এসএমই ঋণের সুবিধা।

এছাড়া প্রশিক্ষণের পর এ দক্ষ জনবলকে পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশন তৃণমূল, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক বৈষম্য দূর এবং নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার কাজ করছে, বলেন তিনি।

এটুআই প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার বলেন, নারী অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না আসলে আসল স্বাধীনতা আসে না। নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে এ প্রকল্প।

তিনি বলেন, এ প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা ঘরে বসে আয় করতে পারবে। এটুআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য দেশের শতভাগ মানুষকে প্রশিক্ষিত করা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ প্রশিক্ষিত হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিডব্লিউআইটি’র সভাপতি লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, তথ্য প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করে নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। প্রশিক্ষণ পেলে নারীরা ভালো উদ্যোক্তা হয়ে গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, দক্ষ উদ্যোক্তা আর ফ্রিল্যান্সার হলে লোকাল ও আন্তর্জাতিক আউটসোসিংয়ের সঙ্গেও তারা যুক্ত হতে পারবেন।

প্রশিক্ষণ পেলে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের কর্মসংস্থানের অভাব হবে না। এছাড়া প্রশিক্ষিতদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিডব্লিউআইটি সহায়তা দেবে, লুনা সামসুদ্দোহা বলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ