জেনে নিন মুঠোফোনে আসক্ত হলে যা হয়

0
335

মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হচ্ছে স্মার্টফোন বা মুঠোফোন। এ যন্ত্র আমাদের পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের দিনের বেশিরভাগ সময়েই যুক্ত রাখে।পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ইন্টারনেটে প্রবেশেরও সুযোগ করে দেয়। কিন্তু আমরা এই মুঠোফোনে যদি বেশি বেশি সময় কাটাই, একপর্যায়ে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যেতে পারে।

আসক্ত হলে যা হয় জেনে নিন মুঠোফোনে আসক্ত হলে যা হয়

ফোনে আসক্তি আমাদের সময় ও মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। অনেকেই ফোন হাতে নিয়ে অভ্যাসবশত খুঁজতে থাকেন, অনেক সময় জানেনও না আসলে কী খুঁজছেন! কেউ বারবার খুদে বার্তা ও ই-মেইলের ইনবক্স এবং ফেসবুক-টুইটারে ঢুঁ মারেন। কেউবা মগ্ন হয়ে যান নতুন নতুন অ্যাপে। মুঠোফোন বা স্মার্টফোনে প্রয়োজনীয় কাজ তো অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বা আসক্তির ফলে যে সময় প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে, সেগুলো যোগ করলে নিঃসন্দেহে অবাক হতে হয়। কারণ, সময়টা প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করলে ইতিবাচক অনেক কিছু করে ফেলা সম্ভব।

স্মার্টফোনে আসক্তি দূর করার জন্য পাঁচটি পরামর্শ:
১. ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর প্রথম ৩০ মিনিট যন্ত্রটা হাতে নেবেন না। ঘুমানোর আগেই মনস্থির করুন এবং দিনের শুরুতে প্রতিজ্ঞাটা যেন না ভাঙে।

২. দিনে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় ঠিক করে নিন, যখন ফোনটা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। যে সময়টা সজাগ থাকেন, তা থেকে দুই ঘণ্টা যেন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ব্যাপারটা তেমন কঠিন নয়।

৩. গাড়ি চালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সময় ফোনটা একেবারে বন্ধ করে নিন। তাহলে কিছুটা সময় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের জগৎ থেকে দূরে থাকার সুযোগ হবে।

৪. প্রিয়জন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় ফোনটা ব্যবহার করবেন না। সামনের মানুষটির জন্য তখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিন।

৫. রাতে ঘুমানোর জন্য সময় নির্দিষ্ট করে রাখুন। এ সময় হওয়ার আগেই ফোনের যাবতীয় কাজ সেরে নিন।

মুঠোফোনের সার্বিক ব্যবহার
গড়ে কতটা সময় আমরা এই যন্ত্রের পেছনে খরচ করছি তা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে জানা নেই। তবে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, মুঠোফোনের জন্য সাধারণত কী পরিমাণ সময় ব্যয় করা হয়।

২ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট/দিন
এই সময়ের মধ্যে:
উড়োজাহাজে চড়ে প্রায়।
পাড়ি দিতে পারেন প্রায় ২০০০ কিমি।
তিনটি ভিন্ন ধরনের খাবার।
রান্না করে ফেলতে পারেন।
১০ মিনিট গতিতে এক মাইল দৌড়ে ১৭ মাইল যেতে পারেন

২০.৭ ঘণ্টা/সপ্তাহ
এই সময়ের মধ্যে:
প্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকের ৪০টি পর্ব দেখে ফেলতে পারেন।
দলবদ্ধ ব্যায়ামের কোনো কোর্সের ২৭টি ক্লাস করে ফেলতে পারেন।
আনা কারেনিনার মতো সুবিশাল কোনো উপন্যাসের পুরোটা পড়ে শেষ করতে পারেন।

২০.৭ দিন/বছর
এই সময়ের মধ্যে:
বাড়িতে নতুন একটা বাগান করে ফেলতে পারেন।
বেস ক্যাম্প থেকে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পৌঁছে যেতে পারেন

একটি উত্তর ত্যাগ