মন্ত্রিসভায় ব্যান্ডউইথ রপ্তানির প্রস্তাব

0
254

বাংলাদেশ অব্যবহৃত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ভারতে রপ্তানি করে বছরে ৯ দশমিক ৪২ কোটি টাকা সমমূল্যের ১ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবে। দু’দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব আজ সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এবং ভারত সঞ্চার নিগাম লিমিটেডের (বিএসএনএল) মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ লীজ ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে প্রতি সেকেন্ডে ১০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মুশাররফ হুসাইন ভূইয়া বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মন্ত্রিবর্গ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীগণ যোগ দেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সচিবগণও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ইন্টারনেটের (জিরো পয়েন্টে) জন্য আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বরাদ্দ দিতে বিএসএনএল এবং বিএসসিসিএল-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী রফতানির পরিমাণ ৪০ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিএসসিসিএল’র অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করে বছরে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবে। এতে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরো উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, এই আয়ের ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে ভারত এ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিএসসিসিএল দুটি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য পূর্ব-পশ্চিম ইউরোপ-৪ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপের-৫-এর একটি সদস্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এসইএ -এমই-ডব্লিউই-৪-এর অধীনে কাজ শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫-এর কাজ চলছে এবং এই কাজ আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ কাজটি শেষ হবে।

ভূইয়া বলেন, এসইএ-এসই-ডব্লিউই-৪-এর অধীনে বিএসসিসিএল’র সাবমেরিন কেবল ধারণ ক্ষমতা ২০০ জিবি এবং এটি ১৫০০ জিবিতে উন্নীত করা হবে।

তিনি বলেন, দেশে মাত্র ৩০ জিবি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয় এবং বাকী ১৭০ জিবি অব্যবহৃত রয়েছে। ১৭০ জিবি ইন্টারনেটের মধ্যে বিএসসিসিএল ভারতে ১০ জিবি রপ্তানি করবে। এরপরও ১৬০ জিবি অব্যবহৃত থেকে যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাকী ১৬০ জিবি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাবমেরিন ক্যাবল সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এরপরও বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের কোনো সংকট হবে না। বাংলাদেশ আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এসইএ-এমই-ডব্লিউ-৫-এর সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে।

ভূইয়া আরো বলেন, ভারতে ১০ জিবি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করে প্রাপ্ত আয়ের এক-চতুর্থাংশ দিয়ে বিএসসিসিএল-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই চুক্তির মেয়াদকাল হবে তিন বছর এবং সাবমেরিন ক্যাবলের রুট কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে শুরু হবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার মাধ্যমে ত্রিপুরার আগরতলায় গিয়ে শেষ হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চার্জ ও পেমেন্টের ওপর মতামত দিয়েছে।
গত ২৩ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের কাতার সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। দেশটি বাংলাদেশ থেকে আরো শ্রমিক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

LEAVE A REPLY

five × four =