মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার আগে ও পরে করণীয়

0
341
হারিয়ে যাওয়ার আগে ও পরে করণীয় মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার আগে ও পরে করণীয়মোবাইল সেটটি ছাড়া এক মুহূর্তও হয়তো কল্পনা করতে পারেন না। কিন্তু একটা জিনিস ভেবে দেখেছেন, যেকোনো সময় চুরি, ছিনতাই বা হারিয়ে যেতে পারে আপনার এই অতি দরকারি জিনিসটি! হাতছাড়া হওয়া মোবাইল অনেক সময় ফিরে পাওয়া যেতে পারে। উদ্ধার করা যেতে পারে দরকারি তথ্যও! কীভাবে?

হারানোর আগে
আপনার সেটের দরকারি ফাইল, কনটেন্ট, ফোন নম্বর, এসএমএসের ব্যাকআপ রাখুন। স্মার্টফোনের জন্য বেশ কিছু `ব্যাকআপ অ্যাপ` আছে। এর মধ্যে সুপার ব্যাকআপ (ডাউনলোড ঠিকানা- http://bit.ly/1EsZnAg), ইজি ব্যাকআপ (ডাউনলোড ঠিকানা- http://bit.ly/1xxETt9) এবং মাই ব্যাকআপ (ডাউনলোড ঠিকানা- http://bit.ly/1CoWiUO) উল্লেখযোগ্য।
এসব অ্যাপ জরুরি ফাইলগুলো ই-মেইল কিংবা অনলাইন স্টোরেজে ব্যাকআপ হিসেবে রাখার বন্দোবস্ত করে দেবে। এরপর সেট হাতছাড়া হলেও দরকারি ফাইল ও কনটেন্ট জায়গামতোই থাকবে। চাইলে স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ ব্যবস্থাও চালু রাখতে পারেন। এতে নির্দিষ্ট সময় পর পর তথ্য নিজে নিজেই ব্যাকআপ হিসেবে থেকে যাবে।
হারানোর পর
সেট হারানোর পর দেরি না করে অন্য কোনো নম্বর থেকে আপনার নম্বরে ফোন করুন। যদি সাধারণ কেউ পায়, তাহলে হয়তো সেটটি ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি এমন সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে মোবাইল অপারেটরের হেল্পলাইনে ফোন করুন। সমস্যার কথা জানিয়ে মোবাইল সংযোগ সাময়িক বন্ধের অনুরোধ করুন। এরপর থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করুন। চুরি হওয়া সেটটির অপব্যবহার থেকে যাতে মুক্ত থাকা যায়। তা ছাড়া জিডি করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী আইএমইআই নম্বর দিয়ে ট্র্যাক করেও সেটটি উদ্ধার করে দিতে পারে। সাধারণত বড় অপরাধ উদ্ঘাটনে এ ধরনের কাজ করা হয়।
সেটটি উদ্ধারে জিডি করতে হলে জিডির এক কপিসহ র‌্যাবে অভিযোগ করুন। জিডির কপিতে উল্লিখিত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর মাধ্যমে ডিবির ট্র্যাকিং টিমের সাহায্য নিন। জিডিতে অন্যান্য বিবরণের সঙ্গে সেটের আইএমইআই নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করবেন। *#06# ডায়াল করলেই সেটের আইএমইআই নম্বর জানা যাবে।
চটজলদি সহায়তা পেতে কাজে দেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অ্যাপ ও সাইট- dmp.gov.bd/application/index/page/mobile-application www.dmp.gov.bd

আর যা করবেন
ফেইসবুক বা অন্য কোনোভাবে সেট হারানোর ব্যাপারে পরিচিতদের জানাতে পারেন। দেখা গেল, ওই সময়টাতে কেউ জরুরি এসএমএস দিল কিংবা কল করে পেল না। যদি তারা জানে, সেটটি আপনার সঙ্গে নেই; তাহলে ফিরতি কল বা এসএমএসের জন্য অপেক্ষা না করে বিকল্প উপায়ে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। অনেকে মোবাইলে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড কিংবা অনলাইন অ্যাকাউন্টের পিন/পাসওয়ার্ড টুকে রাখেন। যদি এ ক্ষেত্রে আশঙ্কা থাকে, তাহলে যত তাড়াতাড়ি পারেন পরিবর্তন করে নিন।
নিজেই ট্র্যাক করুন!
অ্যানড্রয়েড চালিত স্মার্টফোনের সেটিংসের `সিকিউরিটি`তে গেলেই পেয়ে যাবেন `অ্যানড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার`। অপশনটি বেশ কাজের। হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি নেটওয়ার্কে আসামাত্রই জায়গা শনাক্ত করা যাবে। শুধু তা-ই নয়, অনলাইনে দূর থেকেই ওই সেটটি লক করা যাবে। সেটের গোপন তথ্যও মুছে ফেলা যাবে। তবে এর জন্য সেট হারানোর আগেই সেটিংস ঠিক করে নিতে হবে।
সেটের সিকিউরিটি অপশনে গিয়ে ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস থেকে অ্যানড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার চালু করতে হবে।
এরপর কয়েক ধাপে এগোতে হবে। android.com/devicemanager লিংকে ক্লিক দিয়ে জিমেইল অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড দিন। এরপর দরকারি নির্দেশনা দেখুন। মোবাইল সেটের Android Device Manager-এ গিয়ে Locate this device remotely ও Allow remote lock and data factory reset অপশন চালু করুন। সবশেষে সেট বন্ধ করে চালু করুন। সুবিধাটি চালু হয়ে যাবে।
অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লেতে গেলে এ কাজের আরো কিছু অ্যাপ চোখে পড়বে। অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা অ্যাভাস্টের মোবাইল সিকিউরিটির অ্যাপেও বাড়তি সুবিধা হিসেবে `অ্যান্টি-থেফট` অপশন আছে।

বিস্তারিত- files.avast.com/files/documentation/mobile-security-user-guide-en.pdf

বেচাকেনার সাইট থেকে কিনবেন?
হারানো সেটগুলো বিভিন্ন জায়গায় বেচাকেনা হয়। এমনকি বেচাকেনার জনপ্রিয় সাইটগুলোতেও। এসব সাইট থেকে কেনার বেলায় বিক্রেতার বিস্তারিত তথ্য জানার সুযোগ নেই। তবে যে সেটটি বিক্রি হচ্ছে, সেটা সত্যিই তার কি না, তা যাচাই করার উপায় আছে। কেনার আগে সেটের রসিদ, বক্স ও অন্যান্য এক্সসেরিজ আছে কি না জেনে নিন। তাহলে সেটটা যে অন্তত চুরির না, এ ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া যাবে। ইদানীং সচেতন বিক্রেতারা সেটের ছবির সঙ্গে বক্স-রসিদের ছবিও পোস্ট করছেন সাইটগুলোতে।
যদি সব ঠিকঠাক থাকে, ফোনে দামদরও বাজেটমতো হয় তাহলে কিনে নিতে পারেন। তবে কিনতে যাওয়ার সময় সঙ্গে কাউকে নিয়ে যাবেন। আর বিক্রেতা যদি কোনো নিরিবিলি বা বাসাবাড়িতে যেতে বলে, তাহলে সতর্ক থাকবেন। মার্কেট-রেস্তোরাঁয় বসে এ ধরনের বেচাকেনা দুই পক্ষের জন্যই নিরাপদ।

সতর্কতা
মোবাইলে অনেকেই ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা তথ্য রেখে দেন। খুব বেশি দরকার না হলে এ ধরনের কনটেন্ট মোবাইলে বেশি দিন না রাখাই ভালো। মোবাইল থেকে মুছে ফেলার আগে ব্যাকআপ রাখার দরকার হলে কম্পিউটার বা ই-মেইলে জমা রাখতে পারেন।

একটি উত্তর ত্যাগ