গুগলের জানা-অজানা

1
343

ইন্টারনেট দুনিয়ায় জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ওয়েবসাইটটির নাম গুগল। হঠাৎ কোনো জিজ্ঞাসা কিংবা দরকারি যে কোনো তথ্যের জন্য সবার আগে আমাদের মাথায় আসে এই সার্চ ইঞ্জিনটির নাম। বহুবার ব্যবহার করা এই সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক কিছু চমকপ্রদ তথ্য, এগুলো নেওয়া হয়েছে ম্যাশেবল ডট কম, দ্য টেলিগ্রাফ, ফ্যাক্টস স্লাইড ও উইকিপিডিয়া থেকে।

জানা-অজানা গুগলের জানা-অজানা

১। বিশেষ বিশেষ দিবস উপলক্ষে গুগল তাদের লোগো পাল্টে ফেলে। আর এই পাল্টে ফেলা বিশেষ লোগোর নাম ‘ডুডল’। এখন পর্যন্ত গুগল ১৯০০-এর বেশি ডুডল প্রকাশ করেছে। ১৯৯৮ সালের ‘বার্নিং ম্যান ফেস্টিভ্যাল’-এর জন্য প্রথম ডুডলটির ডিজাইন করেন গুগলের দুই প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রাইন। তবে বর্তমানে লোগোর ডিজাইন করার জন্য গুগলের একটি বিশেষ টিম রয়েছে, এই টিমের সদস্যদের ডাকা হয় ডুডলার নামে।

২। গুগল (Google) এই নামের ইতিহাসটাও কিন্তু বেশ মজার। ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রাইন অনেক ভেবে নাম ঠিক করলেন Googol, যে শব্দটি আসলে প্রমাণ সাইজ একটি সংখ্যাকে প্রতিনিধিত্ব করে (১ Googol= ১০১০)। প্রতিষ্ঠাতাদের ইচ্ছা ছিল, এই সংখ্যার মতো প্রকাণ্ড ব্যাপ্তি হবে তাদের সার্চ ইঞ্জিনের। কিন্তু বিধি বাম, ভুল বানানে Googol হয়ে গেল Google! প্রতিষ্ঠাতারাও ভাবলেন নামটা মন্দ লাগছে না, পাকা করে ফেললেন Google নামটিকেই। তবে বানান এদিক-সেদিক হলেও বিশালতার দিকে থেকে Google কিন্তু কম যায় না!

৩। ক্যালিফোর্নিয়া গ্যাজলিং নামের এক প্রতিষ্ঠান থেকে গুগল প্রতিবছর ছাগল ভাড়া করে থাকে! ছাগল শুনে হয়তো ভ্রু কুঁচকে ফেলছেন, আসলে এর পেছনে রয়েছে এক চমকপ্রদ কারণ। এই ছাগলগুলোর কাজ গুগল হেডকোয়ার্টারের পাশে জমে যাওয়া আগাছা আর ঘাস সাবাড় করা। ঘাস কাটার কাজে গুগল পরিবেশসচেতনই বটে!

৪। ১৯৯৮ সালে গুগল যখন যাত্রা শুরু করে, তখন তার সার্ভার ছিল মাত্র ৪০ গিগাবাইটের। ল্যারি পেজ তাঁর লেগো দিয়ে এই সার্ভার ডিজাইন করেন। ২০১৫ সালে এসে গুগলের সার্ভারের আকার এখন ১০০ মিলিয়ন গিগাবাইট।

৫। বর্তমানে ৪০০ বিলিয়নেরও বেশি মূল্যের গুগল কিন্তু ১৯৯৯ সালেই বেঁচে দিতে চেয়েছিলেন দুই প্রতিষ্ঠাতা। তখন দাম উঠেছিল মোটে এক মিলিয়ন ডলার! ভাগ্যিস শেষ পর্যন্ত আর মনে সায় দেয়নি ল্যারি ও ব্রাইনের!

৬। গুগল ইনকরপোরেটের বিশালতা বোঝানো যায় একটি পরিসংখ্যান দিয়ে। ২০১০ সালের পর গুগল গড়ে প্রতি সপ্তাহে একটি করে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কিনে নিচ্ছে!

৭। কিছুদিন হলো বাংলাদেশে চালু হয়েছে ‘গুগল স্ট্রিটভিউ’। ‘গুগল স্ট্রিটভিউ’-এর জন্য স্ট্রিটভিউ কার পৃথিবীজুড়ে পাড়ি দিয়েছে ২৮ মিলিয়ন মাইল পথ। শুধু কার নয়, স্ট্রিটভিউয়ের জন্য উটকে কাজে লাগিয়ে মরুভূমির রাস্তার ছবি তুলেছে গুগল!

৮। গুগলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষীই বলতে হয়। ২০২০ সালের মধ্যে সারা পৃথিবীর প্রায় ১২৭ মিলিয়ন বই স্ক্যান করে নিজস্ব ডেটাবেইসে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে গুগল। তা ছাড়া তারা এমন একটি কম্পিউটার বানানোর চেষ্টা করেছে, যেটি নিজেই প্রোগ্রাম লিখতে পারবে। বুদ্ধিমান কম্পিউটার বুঝি একেই বলে!

৯। গুগল হোমপেজ দেখা যায় প্রায় নব্বইটি ভাষায়। এর ভেতরে কিছু অদ্ভুত ভাষাও আছে। যেমন জনপ্রিয় মুভি সিরিজ স্ট্রারট্রেক-এ ব্যবহৃত ‘ক্লিংওন’ ভাষা কিংবা দ্য মাপেট সিনেমায় ব্যবহৃত ‘বর্ক বর্ক বর্ক’ ভাষা।

১০। প্রতি সেকেন্ডে গুগলে প্রায় ৪০ হাজার সার্চ করা হচ্ছে। গুগলের প্রতিটি সার্চের জন্য যে পরিমাণ কম্পিউটিং দরকার হয়, তা অ্যাপোলো ১১-কে চাঁদে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটিংয়ের চেয়েও বেশি!

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − 7 =