পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট কম্পিউটার

0
349

একটা সময় ছিল যখন কম্পিউটারের আকার ছিল বড় কক্ষের সমান। কিন্তু প্রযুক্তির পালাবদলে কম্পিউটার এখন সুচের ডগায় চলে এসেছে! মাত্র এক মিলি মিটার ঘনকের কম্পিউটার তৈরি করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তারা এটির নাম  দিয়েছে মাইক্রো মোট। গবেষকরা দাবী করছেন এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট কম্পিউটার।

এক দশক ধরে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা ছোট আকারের কম্পিউটার তৈরির জন্য গবেষণা করছে। যেখানে বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগ বা ইন্টারনেট থিংস (আইওটি) বিষয়টি সবখানে বড় করে দেখা হচ্ছে সেখানে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ছোট আকারের কম্পিউটার তৈরির কাজ করছে।

সবচেয়ে ছোট কম্পিউটার পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট কম্পিউটার

ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউ কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সিনিয়র কিউরেটর ড্যাগ স্পাইসার বলেন, ‘ইন্টারনেট থিংস এমন এক বিশ্বের সন্ধান দেয় সেখানে প্রতিটি পণ্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, টোস্টার, ওয়াশিং মেশিন, দরজার হাতল। এসব পণ্যের সঙ্গে  ভবিষ্যৎতে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সংযুক্ত থাকবে। এগুলোর ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।

ছোট আকারের  এই কম্পিউটার দিয়ে ছবি তোলা, তাপমাত্রা পরিমাপ, চাপ মাপা যাবে। ফলে এটি চিকিৎসা এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী। গবেষকরা আশা করছেন, এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করিয়ে ইসিসি, রক্তের চাপ, তাপমাত্রা পরিমাপ করা যাবে।

শিল্প ক্ষেত্রে তেল অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মাইক্রো মোট ব্যবহার করা যাবে। তেল কূপে ছোট আকারের এই কম্পিউটার প্রবেশ করিয়ে তেল কূপের গভীরতা ও তেলের পরিমান অনুসন্ধান করা যাবে।

মাইক্রো মোট কম্পিউটারে  ডিসপ্লে, কিবোর্ড কিংবা মাউস নেই। এই কম্পিউটারটির প্রোগ্রামিং ও চার্জ পদ্ধতি আলোক নির্ভর। তথ্য প্রেরণের জন্য হাই ফ্রিকোয়েন্সির ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটারটি তথ্য প্রসেসিং করে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে সেন্ট্রাল কম্পিউটারে পাঠায়।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড ব্লাউ বলেন, ‘মাইক্রো মোটকে আরো ছোট আকার দেয়ার চেষ্টা চলছে। এজন্য ব্যাটারির আকার ছোট করতে কাজ চলছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

ten + nine =