হ্যাকিং থেকে বাঁচাতে ১২টি টিপস

0
839

কিছুদিন থেকে আবারও ফেসবুক আইডি হ্যাকারদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর মাঝে অনেকেরই আইডি হ্যাক হয়েছে। কারও কারও আইডি ফেরত পাওয়া গেছে, অনেকেরটা যায়নি। কেউ জানেনা “কেন” বা “কখন” কার আইডি হ্যাক হবে। “আমার তো আইডিতে তেমন কিছু নাই, আমার আইডি হ্যাক করবে কেন?” এই সব প্রশ্ন অবান্তর।

আইডি হ্যাক হলে কী হয়? বিশেষ করে মেয়েদের আইডিতে অনেক ধরনের মেসেজ থাকে, ছবি থাকে, Only me করা অনেক কন্টেন্ট থাকে। ফেসবুকে ও ওয়েবে অনেক পেইজ বা সাইট আছে, যেখানে মেয়েদের ছবি ও পরিচিতি, ইনবক্স মেসেজ ইত্যাদি পোস্ট করা হয়। আহামরি কিছু না, সাধারণ ছবি। অথচ সেসব ছবি বা কন্টেন্টে নরকের কীটদের নোংরা কমেন্ট দেখলে গা ঘিন ঘিন করে উঠবে যে কোন নোংরা মানুষের।

একটা ফেসবুক আইডি শুধু একটা আইডি না, এটা একটা ব্যক্তিগত ডায়েরি, শত শত স্মৃতির একটা আর্কাইভ। ফেসবুকের প্রতিটি পোস্টে কমেন্টে ছবিতে ছড়িয়ে আছে অনেক অনেক মায়া, সুখ বা দুঃখের স্মৃতি। প্রিয় এই জিনিসটি হাতছাড়া হয়ে গেলে কষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক। একই সাথে নিজের নিরাপত্তাও পড়ে যায় হুমকির মুখে। তাহলে কীভাবে ঠেকাবেন আইডি হ্যাক হওয়া?

১) ইমেইল

আইডি যে ইমেইল দিয়ে করা, সেই ইমেইলের এক্সেস নিশ্চিত করবেন। অনেকেই ইমেইল তেমন ইউজ করেনা দেখে আর সেই ইমেইলটির খোঁজ রাখে না, এটা করা যাবে না। দরকার হলে ইমেইলের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে ইমেইল এক্টিভেট করে রাখবেন। আর অবশ্যই – “ফেসবুকের পাসওয়ার্ড আর ইমেইলের পাসওয়ার্ড একই হবে না”। ইয়াহু মেইল ইনএকটিভ ইমেইল ইউজারদের একাউন্ট লক করে রাখে, মাঝে মাঝে লগইন করলেই এই সমস্যা হবে না।

২) রিপ্লেস ইমেইল

আইডি সংশ্লিষ্ট ইমেইলে ঢুকতে না পারলে আরও একটা ইমেইল খুলে সেটা এড করুন ফেসবুক প্রোফাইলে। নতুন ইমেইল খোলার ব্যাপারে হেল্প লাগলে বিশ্বাসভাজন কারও কাছ থেকে সাহায্য নিন।

৩) পাসওয়ার্ডে কারিগরি

পাসওয়ার্ড বদলে দিন। পাসওয়ার্ডে অন্তত একটা ক্যাপিটাল লেটার, একটা সংখ্যা আর একটা সিম্বল (!, @, #, $, %, ^, &) দিন। এরপর পাসওয়ার্ডটা কোথাও লিখে রাখুন। হতে পারে প্রিয় কোন বইয়ের পাতায়। মাঝের কোন পাতায় লিখে রাখতে পারেন। সেখানে অবশ্যই লিখবেন না যে এটা ফেসবুক বা ইমেইল পাসওয়ার্ড। শুধু আপনি জানবেন এটা কী।

৪) ইংরেজিতে নাম থাকা চাই

ফেসবুকে বাংলায় নাম যাই থাকুক, ইংরেজিতে নিজের আসল নাম, বা নামের প্রথম অংশ থাকা খুবই দরকারি। আর জন্মতারিখ যেন ঠিক থাকে।

৫) ভরসার বন্ধু

ট্রাস্টেড ফ্রেন্ড এড করে রাখুন, প্রয়োজনে হেল্প পাবেন।

৬) দুই ধাপের যাচাই

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশনটা অনেক কাজের, কিন্তু অনেক সময় ফোন হারিয়ে গেলে, নম্বর পাল্টালে বা টেকনিকাল কোন সমস্যার জন্য নিজের একাউন্টে নিজেই আর ঢোকা যায় না।

৭) নতুন কম্পিউটারে বসলে

নতুন কোন পিসিতে বসলে প্রাইভেট ব্রাউজিং উইন্ডো খুলে ফেসবুকে লগইন করুন। ক্রোমের জন্য Ctrl + Shift + N আর ফায়ারফক্সের জন্য Ctrl + Shift + P এক সাথে প্রেস করলে প্রাইভেট ব্রাউজিং উইন্ডো ওপেন হবে। এই উইন্ডো বন্ধ করার পর এর কোন হিস্টোরি ব্রাউজারে থাকবে না। জানান নিশ্চয়, ব্রাউজারে যা কিছুই করেন না কেন, এর রেকর্ড থাকে, যে কেউ ইচ্ছে করলেই সেটা দেখতে পারে।

৮)লিঙ্কে ক্লিক করুন বুঝে

ফেসবুক ইনবক্সে বা ওয়ালে কোন লিঙ্ক পেলেই ক্লিক করতে হয় না। অনেক লিঙ্কে ক্লিক করলেও আইডি হ্যাক হবার চান্স থাকে। অনেক ভাইরাস টাইপের এপ্লিকেশনও আছে, যেগুলো তোমার অজান্তেই আপনার একাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে, এরপর যা ইচ্ছে তাই আপনার ওয়ালে বা আপনার বন্ধুদের ওয়ালে পোস্ট করবে।

৯) এক্টিভিটি লগ

এক্টিভিটি লগ চেক করুন। নিজের প্রোফাইলের উপরে ডান দিকে View Activity Log এর লিঙ্ক পাবেন, যেখানে আপনার করা সব এক্টিভিটির বিবরণ থাকবে, যদি কিছু থাকে যা আপনি করেননি, বা সন্দেহজনক, তবে দ্রুত সেই এপ্লিকেশনটি মুছে ফেল। ( সেটিংসের লিঙ্ক পাবে এখানে – https://www.facebook.com/settings?tab=applications )

১০) ব্যাক আপ

নোট গুলোর ব্যাকআপ রাখুন। আইডি হ্যাক হলে যে তা ফেরত পাওয়া যাবে, এর কোন নিশ্চয়তা নেই, কাজেই নোট বা গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলোর ব্যাকআপ রাখা জরুরী। একটা ওয়ার্ড ফাইলে নোটগুলো সেভ করে রাখতে পারেন, অথবা নিজেই নিজেকে ইমেইল করে রাখতে পারেন লেখা গুলো। তাহলে ফেসবুক একাউন্ট হারালেও নোটগুলো হারাবে না।

১১) কম্পিউটারের নিরাপত্তা

পিসিতে এন্টি ভাইরাসের সাথে সাথে এন্টি ম্যালওয়ার সফটওয়ার থাকাও জরুরী। অনেক ম্যালওয়ার এন্টি ভাইরাসের নিরাপত্তা ফাঁকি দিতে পারে। মোবাইলের জন্যেও এন্টিভাইরাস দরকারি।

১২) সাহায্য চান

একাউন্ট হ্যাক হলে নিজে নিজে রিকভার করতে না পারলে এই বিষয়ে জানে এমন বিশ্বাসযোগ্য কারও সাহায্য নিন। নিজে নিজে মাতবরি করে অবস্থা জটিল করবেন না।

একটি উত্তর ত্যাগ