আন্ড্রয়েড মোবাইল অথবা ট্যাবলেট এর ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়িয়ে নিন (১৫টি টিপস)

2
1443

ট্যাবলেট এবং সেল ফোনসহ বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসের খুবই জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম হলো আন্ড্রয়েড। স্যামসাং, এইচটিসি, ব্ল্যাকবেরি এবং সনি ফোন সহ অনেক নামি-দামী ব্র্যান্ডের ফোন আন্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে চলে। আপনি যদি আন্ড্রয়েড চালিত মোবাইল ফোন কিনতে চান, তবে আপনি ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়ে চিন্তিত হতে পারেন। আন্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোনে অনেক বড় বড় অ্যাপস চালালে তা তাড়াতাড়ি ব্যাটারি শেষ করে ফেলতে পারে। তারপরও, আপনার ফোনে ব্যাটারি লাইফ বৃদ্ধি করার অনেক উপায় রয়েছে:

স্থায়িত্ব আন্ড্রয়েড মোবাইল অথবা ট্যাবলেট এর ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়িয়ে নিন (১৫টি টিপস)

পুরোনো আন্ড্রয়েড ফোন কেনার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কবার্তা

পুরনো মোবাইল ফোন কিনতে অনলাইন কেনাবেচার সাইটগুলোর জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসকল ওয়েবসাইটে মনের মতো মোবাইল ফোন কেনা অপেক্ষাকৃত সহজ। তারপরও, আপনি যে ডিভাইসটি কিনতে চাচ্ছেন সেটির ব্যাটারি ভাল করে দেখে নিন। যে কোনো আন্ড্রয়েড ফোনে সেটিংস মেন্যুতে গিয়ে দিন ও ঘণ্টা হিসেবে অবশিষ্ট ব্যাটারি লাইফ দেখতে পাবেন। ব্যাটারি লাইফ শেষ হয়ে আসলে,পুরোপুরি চার্জ দেয়া সত্ত্বেও ডিসপ্লেতে অনেক কম লাইফ দেখাবে। আপনি যদি বাজে বা নষ্ট ব্যাটারি কেনেন, তবে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি পাওয়ার একমাত্র উপায় নতুন

আরেকটি ব্যাটারি কেনা।
আন্ড্রয়েড ফোন কেনার আগে বিভিন্ন আন্ড্রয়েড ফোনের রিভিউ দেখে নিন। কিছু কিছু ফোনের ব্যাটারি লাইফ অন্যান্য ব্যাটারির চাইতে বেশি হয়। ব্যাটারি লাইফ আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলে, যেসব আন্ড্রয়েড ফোন দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফের জন্য পরিচিত সেসব ফোন কিনতে পারেন।
আপনার আন্ড্রয়েড ফোনের দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ পাওয়ার কয়েকটি উপায়:

কোন অ্যাপসগুলো অধিকাংশ ব্যাটারি লাইফ শেষ করছে তা শনাক্ত করুন

সেটিংস মেন্যু থেকে, ব্যাটারিতে যান। সেখানে সবার উপরে থাকবে অবশিষ্ট ব্যাটারি লাইফ এবং এর নিচে কোন অ্যাপ্লিকেশন কী পরিমাণ ব্যাটারি খরচ করছে তা দেখানো থাকবে। আপনি যদি এমন কোনো অ্যাপ্লিকেশন দেখেতে পান,যা প্রায় ব্যবহার হয় না বললেই চলে সেই অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ করে দিন, তাতে ব্যাটারি লাইফ বাড়বে।

ফেসবুক, টুইটার এবং ই-মেইল অ্যাক্টিভিটি হ্রাস করুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং এর পাশাপাশি ম্যাসেজিং অ্যাপসের অতিরিক্ত ব্যবহার আপনাকে সামাজিকভাবে সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করে, কিন্তু তা আপনার ব্যাটারির চার্জ নিঃশেষ করে দেয়। ডিভাইসের সাথে চার্জার সংযুক্ত অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার ফোনটি যখন ব্যাটারিতে চলছে তখন ব্যাটারি লাইফ দীর্ঘ করার জন্য এসব অ্যাপস বন্ধ করুন।

অপ্রয়োজনীয় রেডিওসমূহ বন্ধ করে দিন

হার্ডওয়্যার রেডিও, যেমন এলটিই, জিপিএস, এনএফসি, ব্লু-টুথ এবং ওয়াই-ফাই আজকালকার ফোনের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। কোনো রেডিওর প্রয়োজন না হলে, আপনার তা বন্ধ করে রাখা উচিৎ। আন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সহজে রেডিও অপশনে প্রবেশ করার জন্য স্ক্রিনের উপরের অংশ নিচে টেনে নামালেই চলে। তবে ফোনের মডেল অনুযায়ী এই পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। কেবল, রেডিও বাটনে ক্লিক করে অপ্রয়োজনীয় রেডিওটি বন্ধ করুন।

আপনি যদি কয়েক ঘণ্টার জন্য শুধুমাত্র এমন কাজে ব্যস্ত থাকেন যাতে কোনো রেডিওর প্রয়োজন নেই, এবং আপনার ফোনের নেটওয়ার্কেরও প্রয়োজন না থাকে, তবে আপনি আপনার ফোনের এয়ারপ্লেন মোড (Airplane mode) চালু করে রাখতে পারেন। আপনি যদি কোনো বিরতি ছাড়া গান শোনেন বা বই পড়েন তবে এটি বেশ কাজের। এটা আপনাকে কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত ব্যাটারি লাইফ দেবে।

এক্সট্রা পাওয়ার সেভিং মোড এনেবল করুন

আধুনিক স্মার্টফোন, যেমন- Samsung S5 ও HTC One-এর যথাক্রমে আলট্রা পাওয়ার সেভিং মোড (Ultra Power Saving mode) এবং এক্সট্রিম পাওয়ার সেভিং মোড (Extreme Power Saving mode) রয়েছে। এই সুবিধা ডিভাইসের ফোন কল করা ও রিসিভ করা, টেক্সট ম্যাসেজ পাঠানো, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা এবং ফেসবুকে অ্যাক্সেস সীমিত করে দেয়। তা স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয়, যা ব্যাটারি ক্ষয়ের আরেকটি কারণ। আপনার ফোনে যদি অতিরিক্ত পাওয়ার সেভিং মোড থাকে তবে আপনার তা সেট আপ করা উচিৎ এবং এতে আপনার ব্যাটারির চার্জ কয়েক ঘণ্টা বেশি থাকবে।

বাকগ্রাউন্ডে চলা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস বন্ধ করুন

বাকগ্রাউন্ডে অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস চালু থাকতে পারে। সেটিং মেন্যু থেকে, অ্যাপসে যান,“রানিং” অ্যাপসে যাওয়ার জন্য স্ক্রিন বাম দিকে সোয়াইপ (Swipe) করুন। আপনার যেই সার্ভিস বা অ্যাপস দরকার নেই তা বন্ধ করে দিন।

স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিন

আপনি সেটিংস মেন্যু থেকে ম্যানুয়ালি স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমাতে পারেন। আপনার যদি অটোমেটিক ব্রাইটনেস ফিচার এনেবল করা থাকে, তবে ব্যাটারি লাইফ বৃদ্ধির জন্য তা আপনার বন্ধ করা উচিৎ।

সাধারণ ওয়ালপেপার সেট করুন এবং হোম স্ক্রিনের অপ্রয়োজনীয় উইজেট ফেলে দিন

উইজেট এবং লাইভ ওয়ালপেপারও পাওয়ার হগ (power hog) যা তাড়াতাড়ি ব্যাটারির চার্জ নষ্ট করে। আপনাকে দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ ও জাঁকজমকপূর্ণ হোম স্ক্রিনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

অ্যাপস আপডেটেড রাখুন

আপডেটেড অ্যাপস কম ব্যাটারি খরচ করে। আপডেটগুলোর মধ্যে এমন কিছু জিনিস রয়েছে যা অ্যাপসটিকে ভালভাবে চলতে সাহায্য করে, এবং কম রিসোর্স ব্যবহার করে, যার ফলে কম ব্যাটারি খরচ হয়।

সিগন্যালর শক্তি দেখুন

আপনার ফোনটি যদি এমন কোনো এলাকায় থাকে যেখানে নেটওয়ার্কের কাভারেজ দুর্বল, তবে আরও শক্তিশালী সিগন্যালের খোঁজে আপানার ব্যাটারি আরও বেশি ক্ষয় হবে। এটা ব্যাটারি লাইফের উপর প্রভাব ফেলে। যদিও আপনার এ ব্যাপারে কিছুই করার নেই, তবুও আপনি এয়ারপ্লেন মোড (Airplane mode) অন করতে পারেন যদি আপনি মনে করেন আপনার ডাটা বা ফোন নেটওয়ার্কের প্রয়োজন নেই।

একটি ব্যাটারি কেস যোগাড় করুন

ব্যাটারি কেস আপনার ব্যাটারির সুরক্ষা দেয়, পাশাপাশি এর লাইফ দীর্ঘ করে। আপনার ফোনের জন্য কম্প্যাটিবল একটি কেস খুঁজে দেখুন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই ধরনের ব্যাটারি কেস তৈরি করে থাকে।

সিঙ্ক বন্ধ করুন

আপনার অ্যাকাউন্ট দিয়ে গুগল অ্যাকাউন্ট কনফিগার করলে, অটো-সিঙ্ক ফিচার এনেবল হয়ে যেতে পারে। এই ফিচারটি বিভিন্ন অ্যাপস ও ডিভাইস থেকে অনেক বেশী পরিমাণ ডাটা সিঙ্ক করে, এর মধ্যে রয়েছে ফোনে তোলা ছবি, এবং গুগল প্লে পারচেজ। আপনার ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়াতে চাইলে, আপনাকে অটো-সিঙ্ক ফিচারটি বন্ধ রাখতে হবে। ফোন চার্জের সময় আপনি চাইলে ম্যানুয়ালি সিঙ্ক করতে পারবেন।

ব্যাটারি সাশ্রয়ী অ্যাপস ব্যবহার করুন

ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর জন্য প্লে স্টোরে তৃতীয় পক্ষের অনেক অ্যাপস পাওয়া যায়। আপনি বেশ কিছু অ্যাপসের রিভিউ পড়ে আপনার পছন্দ মতো অ্যাপস নামিয়ে নিতে পারেন।

গুগল নাউ কার্ডস বন্ধ করে দিন

গুগল নাউ (Google Now) একটি অসাধারণ পার্সোনাল অ্যাসিস্টেন্ট। শুধু একটাই সমস্যা যে এটি প্রচুর ব্যাটারি খরচ করে। এটি আপনার অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার জন্য জিপিএস (GPS)-এর উপর নির্ভর করে। বিভিন্ন কার্ডস, যেমন- “Nearby Places” এবং “Travel time” যা জিপিএস (GPS) নির্ভর, সেসব নিস্ক্রিয় করার জন্য আপনার স্ক্রিনের নিচে যেয়ে ম্যাজিক ওয়ান্ড (magic wand) ব্যবহার করুন।

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ