সাইবার অপরাধীদের এবারের টার্গেট বিশ্বব্যাংক – জেনে নিন কিভাবে হ্যাকারদের কাছে টাকার সূত্র পাচার হয়

0
359

বিশ্বব্যাংক সাইবার অপরাধীদের এবারের টার্গেট বিশ্বব্যাংক - জেনে নিন কিভাবে হ্যাকারদের কাছে টাকার সূত্র পাচার হয়কম্পিউটার প্রযুক্তির উন্নতিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিত্তবান, শিল্পের মালিক, পুঁজিপতি সবাই আশা করেছিল টাকা পয়সা, সম্পদ ব্যাংকে মজুদ রাখতে সমস্যা হবে না। নিরাপদেই থাকবে তার সম্পত্তি। কিন্তু এ প্রযুক্তিই যেন মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাল আমলে সাইবার অপরাধীরা নানান ধরনের অপরাধ করেই চলেছে। তাদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা, গোয়েন্দা বাহিনী কেউই পেরে উঠছে না। সাইবার অপরাধীরা অত্যধিক মেধাবী। তারা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে গোপন নম্বর ও পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছে। ফলে বহু ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

সাইবার অপরাধীরা কীভাবে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের গোপন পাসওয়ার্ড কীভাবে জানতে পারছে সেটাই বিস্ময়ের ব্যাপার। এর দু’টি সূত্র থাকতে পারে। প্রথমত: যে কাজটি সাইবার অপরাধীরা করে থাকে তা হচ্ছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থ লেনদেনকারীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে। তার সঙ্গে গোপন চুক্তি করেই টাকা-পয়সা, সম্পদ লুট করে। দ্বিতয়ত: কোড ও পাসওয়ার্ড নম্বর হ্যাক করে জেনে নেয়।

সাইবার অপরাধ দমন করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমন কথাই প্রকাশ করেছেন ইন্টেলের ইউরোপীয় অংশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক রাজ সামানি।

রাজ সামানি বলেন, সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে সারা বিশ্বের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করে ফেলেছে। তবে ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি। কারণ বহু দেশই সাইবার অপরাধ দমনে কত ব্যয় করেছে তা প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করেনি।

সাইবার অপরাধের কারণে বহু ব্যাংক, বীমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাচ্ছে। শুধু ইউরোপেই গত এক বছরে চাকরি হারিয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ।

এত গেল বৃহদাকারে সাইবার অপরাধীদের অপরাধ চিত্রের ছিঁটেফোটা। এমনকি সাইবার অপরাধীরা ব্যাষ্টিক অর্থনীতিতেও আাঘাত হানতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। ঠিক এমনটিই ঘটেছিল ২০১৩ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা ব্যবসায়ীরা স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। তারা ব্যাংকে টাকা জমা রাখে। এক পর্যায়ে তাদের সঞ্চিত অর্থ হ্যাকাররা লুট করে।

বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পথের ফকির হয়ে যায়। ৪ কোটি ডলার লুট হয়ে গিয়েছিল। এমনকি ডেবিট ও কেডিট কার্ড থেকেও টাকা পাচার হয়ে গেছে। হ্যাকাররা কালো বাজারে ডেবিট কার্ড বিক্রি করতে থাকে। জালিয়াতির সুযোগ গ্রহণ করে হ্যাকার ও সাইবার অপরাধীরা।

এ অপরাধ দমন করতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠান সাময়িক সময়ের জন্য কার্ড থেকে টাকা লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এ থেকেই প্রতীয়মান হয় সাইবার অপরাধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ।

ব্যাষ্টিক অর্থনীতিতেও সাইবার অপরাধ বাজে প্রভাব ফেলছে। ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যাংক হিসাবে লেনদেন রাখা কষ্টকর হয়ে উঠছে। প্রতিটি ব্যাংক ব্যক্তিপর্যায়ে নতুন করে হিসাব বিচার বিশ্লেষণ করছে। কখন, কোন খাতে কী পরিমাণ টাকা উত্তলোন করছে তা জানতে চাচ্ছে। সাইবার অপরাধীরা যাতে টাকা হিসাব থেকে তুলে নিতে না পারে সেজন্য হিসাব নম্বর গোপন রাখার চেষ্টা করছে।

সাইবার অপরাধীদের এবারের টার্গেট বিশ্বব্যাংক। এ ব্যাংকে ব্যক্তিপর্যায়ে কারও কোন টাকা থাকে না। বিশ্বব্যাংক সারা বিশ্বে বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বে অর্থনৈতিক সহায়তা করে থাকে। নানা প্রকার উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। সাইবার অপরাধী এবং হ্যাকাররা এসব প্রকল্পের সব তথ্য চুরি করে তারপর অর্থ নিজেদের ব্যাংকে জমা রাখবে। এক পর্যায়ে ব্যাংকের থেকেও টাকা সরিয়ে নেবে। এ কারণে হুমিকর মুখে বিশ্বব্যাংকও।

একটি উত্তর ত্যাগ