ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য তৈরি ?

0
301

আশা করি ফ্রিল্যান্সিং কি বা  আসলে ফ্রিল্যান্সিং ব্যপারটি কি তা জানেন । এবার আপনি যদি নিজেকে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে গড়তে চান তাহলে, প্রথমেই আপনি নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে যে আপনি শুরু  করার জন্য তৈরি কিনা । আপনি জেনেছেন, ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে কি কি ধরনের কাজ পাওয়া যায় ।এগুলো তাদের মাকের্টপ্লেসে ক্যাটাগরি অনুযায়ী  সাজানো আছে । আপনাকে ওখান থেকে সিলেক্ট করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনি কি শুরু করার জন্য তৈরি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য তৈরি ?ধরনের কাজগুলো পারবেন বা না পারলেও শিখে নিতে পারবেন কিনা ।

আর, আপনি যদি একেবারেই নতুন থাকেন যে জীবনের প্রথম মাকের্টপ্লেসে আসছেন বা এর আগেও শুধু আসা যাওয়াই করছেন তাহলে আপনি আপনার অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নেন কি ক্যাটাগরির জন্য আপনি কাজ করবেন বা করতে পারবেন ।তার আগে আপনি ভাল করে ক্যাটাগরি অনুযায়ী দেখে নিবেন যে,  কোন ক্যাটাগরিতে কি ধরনের কাজ করতে হয়, কোন লেভেল পর্যন্ত কাজ জানা থাকা লাগবে এবং সেই কাজগুলোর মূল্য বা বাজেট কেমন থাকে অথবা ঘন্টা প্রতি কাজ থাকলে প্রতি ঘন্টায় কত ডলার করে দিতে আগ্রহী ।

যেমন, আপনি যদি আর্টিকল রাইটিং এর কাজ করেন তাহলে ঘন্টা প্রতি ৪-৫ ডলার বা তার বেশী হতে পারেন আবার আপনি যদি মোবাইল এপ্লিকেশন ডেভেলাপিং এর কাজ করেন তখন আপনি ঘন্টা প্রতি ১৫-২০ ডলার বা তার বেশী হতে পারেন । তবে অবশ্যই, আপনাকে কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ শিখতে যে পরিশ্রম  ও সময় ব্যয় করতে হবে, একজন মোবাইল এপ্লিকেশন ডেভেলাপার হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলার জন্য এর তুলনায় কয়েকগুণ বেশী পরিশ্রম  ও সময় ব্যয় করতে হবে। তাই কাজের ধরনের সাথে সাথে যেমন কাজের মূল্য ভিন্ন তেমনি ফ্রিল্যান্সারদের যোগ্যতাও ভিন্ন । এজন্য আপনাকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজের কাজ থেকে জানতে হবে যেমন,

 
  • আপনি পারবেন কিনা? বা
  • না পারলেও শিখতে পারবেন কিনা ?
  • শিখার ইচ্ছা আছে কিনা ?
  • শিখে কাজ করার মত ধৈর্য্য আছে কিনা ?
  • শিখার সময় আছে কিনা ?

এখানে বয়সের কথা বলছি না কারন কাজ করার ও শিখার জন্য ইচ্ছাটাই যথেষ্ঠ।
আমি যখন একটি সফটওয়ার কোম্পানীতে কাজ করতাম তখন একজন সিনিয়র সহকর্মী ছিলেন, উনি সারাজীবন পড়ে এসেছেন মাদ্রাসায় ।তারপর যখন, উনি অনার্সে ভর্তি হলেন তখন একজন বন্ধুর কাছে কম্পিউটার দেখে কম্পিউটারে কিভাবে কাজ করতে হয় তা শিখতে আগ্রহী হয়েছিলেন । পরে, ইসলামিক একটি ফাউন্ডেশনে একটি বৃত্তি পেয়ে উনি সেই সুযোগ কাজে লাগান । সর্ম্পূন কম্পিউটার অজ্ঞ ছিলেন, অথচ পরে রাত দিন পরিশ্রম করে জাভা শিখেন, তারপর অনেক সফটওয়ার কোম্পানীতে বিনা বেতনে অনেকদিন কাজও করেন ।

পরে,উনি আমাদের কোম্পানীতে একজন ইন্টার্ন হিসাবে যোগ দিলেও আমি আসার সময় দেখছিলাম উনি এনড্রয়েড এপপস ডেভেলাপমেন্ট টিমে সবোর্চ্চ বেতনধারী ছিলেন । আসলে উনার এই পজিশনে আসার একমাত্র কারন ছিল, উনার ইচ্ছা ও পরিশ্রম । তাই আমার মনে হয় না এসব কোন কিছু অসম্ভব ।

    এবার আসি নবীন থেকে একটু পরে,আপনি যদি মনে করেন যে আপনি কিছু কিছু কাজ জানেন অথবা নিজেকে ভাবছেন যে আপনি কাজ পারেন কিন্তু বুঝতে পারছেন না ফ্রিল্যান্স মাকের্টপ্লেসগুলোতে সেই দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে পারবেন কিনা ।তাহলে, আপনাকে বলব আপনি যে ক্যাটাগরির কাজগুলো করতে চান বা ভাবছেন পারবেন, সেই ক্যাটাগরির কাজের পোস্টগুলো দেখুন । একজন বায়ার যে কাজগুলো করাতে চান আপনি সেগুলো পারবেন কি না ।যদি মনে করেন,পারবেন না তাহলে আপনার যেহেতু কিছু জানা আছে ,তাই আপনি বুঝবেন যে আপনার আরও কি কি জানা উচিত বা শিখতে হবে । সাথে সাথে আপনি শিখার জন্য নেমে পড়ুন। তবে , মনে রাখবেন থিওরীটিক্যাল শিখা ও জানা এবং শিখে প্র্যাকটিক্যালি করা দুটি আলাদা ব্যাপার । তাই বলব শিখার সাথে সাথে ওই রিলেটেড ছোট কাট কিছু প্রজেক্ট করুন।

আর , যদি মনে করেন পারবেন তাহলে প্রথমেই ওই কাজগুলোতে বিড করলে বা নাকরলেও  নিজে নিজে নিজের জন্য করে রাখুন । দেখবেন যে বায়ার যে সময় দিয়ে কাজটি করাতে চেয়েছিল সেই সময়ের ভেতর কাজটি করতে পেরেছেন কিনা । আপনি হয়তো ভাববেন যে কাজ পাই নাই বা বিডই করলাম না তাহলে করব কেন? এর উত্তর এসব করবেন আপনার নিজের জন্য । পরে প্রজেক্টি সম্পূর্নকরে বা আপনি যদি মনে করে এতে আরও কিছু ফিচার যোগ করলে ভাল হবে , তাহলে এসব যোগ করে আপনি আপনার একটি পার্সনাল প্রপাইলে আপলোড করে রাখুন । পরে, প্রতিবার বিভিন্ন কাজের জন্য বিড করার সময় অভিজ্ঞতা হিসাবে এটার ডেমো দেখতে পারবেন। কিভাবে অনলাইনে একটি প্রফেশনাল পাসনাল প্রপাইল করবেন এবং ফ্রিল্যান্সার এর জন্য এর গুরুত্ব কি  তা নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করব।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen − 10 =