আমার পছন্দের কিছু দরকারি এন্ড্রোয়েড অ্যাপস।

0
599

এন্ড্রোয়েড সম্পর্কে বলার তেমন কিছু নেই কারন এখন সবাই এন্ড্রোয়েড এর ভক্ত হয়ে গেছে। অসাধারন একটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম। “এন্ড্রোয়েড স্মার্ট ফোন হ্যান্ডস আপ”; কাজের কথায় আসি আমি মনে করি যে কোন অ্যাপস ব্যবহার করেন না তারা ভাব দেখানোর জন্য স্মার্টফোন না কিনে নকিয়া কিনেন। 

এবার আসুন আমার পছন্দের কিছু চরম এবং অবশ্যই দরকারি এন্ড্রোয়েড অ্যাপস এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। এগুলো ব্যবহার করলে আপনার স্মার্ট ফোনটি হয়ে উঠবে আরও বেশি স্মার্ট। 

Adaptxt Keyboard – Phone

নাম দেখেই বুঝতে পারছেন এটা একটা কী-বোর্ড অ্যাপস। বেশ অনেক গুলো কী-বোর্ড অ্যাপস ব্যবহার করেছি কিন্তু এটা মত সুবিধা কোনটাতে পাইনি। বেশ ইউজার ফ্রেন্ডলি কী-বোর্ড। এটার বিশেষত্ব হলঃ

  • আপনি আপনার মন মত কী-বোর্ড থিম বানাতে পারবেন বা কাস্টমাইজ করতে পারবেন। মানে আপনি আপনার ফোনের কালারের সাথে ম্যাচ করে কী-বোর্ড কালার ব্যবহার করতে পারবেন।
  • ৭৪ টা ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাড-ওনস আছে। মানে আপনি এই অ্যাড-ওনস গুলো ডাউনলোড করে ওই ভাষায় লিখতে পারবেন এতে বাংলিশ অ্যাড-ওনস আছে যাতে আপনাকে বাংলিশ লিখতে সাহায্য করবেন যেমন আপনি যদি কী-বোর্ড এ লিখতে চান Valobashi (ভালোবাসি) তবে valo লিখলেই আপনাকে সাজেশন দিবে valobashi.
  • ডিকশনারি তে আপনার নিজেস্ব শব্দ অ্যাড করতে পারবেন এতে পরবর্তীতে ওই শব্দ লিখতে গেলে আপনাকে সাজেশন দিবে।

এমন আরও অনেক সুবিধা আছে এই অ্যাপস টিতে। ব্যবহার করতে পারেন অনেক কাজে দিবে অ্যাপসটি।

Advanced Mobile Care

পিসির ক্ষেত্রে Utility Software গুলোর মধ্যে Advance System Care খুব পছন্দের এবং অনেক কার্যকরী সফটওয়্যার । ঠিক তেমনি এন্ড্রোয়েড ফোনের ক্ষেত্রেও Utility Apps এর মধ্যে খুব পছন্দের অ্যাপস Advanced Mobile Care. এই দুটি অ্যাপলিকেশনই iobit এর। তো যাই হোক যা যা আছে এই Advance System Care এঃ

  • সিস্টেম টিউনআপঃ যা আপনার মোবাইলের সিস্টেমকে টিউন করার কাজে ব্যবহার হবে।
  • গেম স্পীডারঃ মোবাইলে গেম গুলো বেশ স্মুথ ভাবে খেলতে পারবেন।
  • ব্যাটারি সেভারঃ ব্যাটারি ভাল ভাবে অপ্টিমাইজ করার জন্য বেশ অনেক সেটিংস আছে।
  • অ্যাপস ম্যানেজারঃ এর মাধ্যমে অ্যাপস মুভ করা, আনইন্সটল করা, অ্যাপস ম্যানেজ করা ইত্যাদি করা যায়।
  • টাস্ক কিলারঃ অটো বা মেনুয়াল ভাবে টাস্ক কিল করার সুবিধা আছে।
  • ব্যাকআপঃ মোবাইলের ফোন নাম্বার, কল হিস্টোরি ইত্যাদি ক্লাউডে ব্যাকআপ রাখার সুবিধা আছে।
  • প্রাইভেসি লকারঃ মোবাইলের প্রাইভেট ছবি, ভিডিও বা যে কোন ফাইল পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করার সুবিধা আছে এতে।

কাজে লাগার মত বেশ অনেক সুবিধা আছে এতে। এটা ব্যবহার করে যে এক ঢিলে অনেক পাখি মারা যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। 

APP Lock

নামেই বুঝতে পারছেন কাজ কি। অ্যাপস লক করা এর কাজ। ও ভুল বললাম এমন কি আছে লক করা যায় না এটা দিয়ে। নতুন ভার্শনে প্রায় সব কিছুই লক করা যায় এটা দিয়ে। আপনি যদি আপনার মোবাইলে প্রাইভেসি রাখতে চান তবে আপনার জন্য বেষ্ট অ্যাপস এটি। আসুন দেখে নেই কি কি পাবেন এতেঃ

  • প্যাটার্ন অথবা নাম্বার দুটা দিয়েই আপনি লক করতে পারবেন।
  • যে কোন ধরনের অ্যাপস ওপেন করা থেকে বিরত রাখবে।
  • ইনকামিং কলও লক করা যাবে। মানে আপনার আপনি ছাড়া আপনার ইনকামিং কল অন্য কেউ রিসিভ করতে পারবে না।
  • উইজেট এর মাধ্যমে দ্রুত লক বা আনলক করার সুবিধা পাবেন।

Call Blocker

হাঁ কল ব্লক করা। স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে যদি মোবাইলে অপারেটর দের কল ব্লক করার জন্য টাকা দেন এর চেয়ে লজ্জার মনে হয় না আর কিছু আছে। তবে এটা শুধু কল ব্লকার না এতে আরও অনেক সুবিধা পাবেন আপনি। এটা আপনার প্রাইভেসিও রক্ষা করবে। এই অ্যাপসটি যা যা সুবিধা দিবেঃ

  • যে কোন সময় যে কোন নাম্বার ব্লক করতে পারবেন এতে ওই নাম্বার থেকে আপনাকে ফোন করতে পার না। কিন্তু আপনি দেখতে পারবেন কখন কতবার আপনাকে ফোন করেছে।
  • ব্লক করা নাম্বারে অটো ম্যাসেজ পাঠানোর সুবিধা পাবেন এতে।
  • ফোন নাম্বার ব্যাকআপ রাখার সুবিধা পাবেন এতে এবং সেগুলো একাধিক প্লাটফরম এ ব্যবহার করতে পারবেন যেমনঃ সিম্বিয়ান মোবাইল, এন্ড্রোয়েড মোবাইল, ব্ল্যাকবেরি মোবাইল ইত্যাদি।
  • প্রাইভেট ফোন নাম্বার, প্রাইভেট ম্যাসেজ এবং কল লগ আলাদা প্রাইভেট স্পেসে রাখতে পারবেন। যা সাধারনত ফোন বুক বা ম্যাসেজ বক্স এ মানুষ খুঁজে পাবে না।

Elixir 2

এটি মূলত একটি সিস্টেম ইনফরমেশন অ্যাপলিকেশন। যত ধরনের ইনফরমেশন জানতে চান সব কিছু জানতে পারবেন আপনি এর মাধ্যমে। খুব কাজের অ্যাপস এন্ড্রোয়েড ডেভলপার দের জন্য + সাধারন ইউজারদের জন্য। এক সাথে অনেক কিছু পাবেন এতে। তো দেখে নেই কি কি থাকছে এই অ্যাপস এঃ

  • হার্ডওয়্যার ইনফরমেশনঃ আপনার ফোনের হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত যত ইনফরমেশন আছে সব বিস্তারিত জানতে পারবেন। যেমনঃ ইন্টারনাল/ এক্সটারনাল মেমরি, ব্যাটারি, ডিসপ্লে, ক্যামেরা, সিপিইউ ইত্যাদি।
  • সফটওয়্যার ইনফরমেশনঃ ফোনের সফটওয়্যার সংক্রান্ত ইনফরমেশন পাবেন এতে। যেমনঃ অপেরেটিং সিস্টেম সেটিংস, কনফিগারেশন, ফিচারস ইত্যাদি।
  • ফোনের সেটিংস পরিবর্তন করতে পারবেন। যেই অপশন ডিফল্ট ভাবে থাকে না এমন সেটিংস।
  • অ্যাপস ইনফরমেশন, মুভ করা, লোকেশন দেখা, ক্যাশ মুছা, ব্যাচ মুড এনেবল বা ডিজেবল করা ইত্যাদি।
  • অনেক গুলো ইউজেট পাবেন বিভিন্ন কাজের সুবিধার জন্য।

Prey Anti-Theft

খুবই কাজের একটি অ্যাপস এটি। উপরে ছবিতে তাদের স্লোগান দেখেলেই কিছুটা বুঝা যায় কাজ কি। “THEY CAN RUN BUT THEY CAN’T HIDE.” মানে বুঝিয়েছে চোর দৌড়াতে পারবে কিন্তু তারা লুকিয়ে থাকতে পারবে না।  এই অ্যাপস টা মূলত আপনার ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে কাজে লাগবে। যেকোনো সিম ফোনে ব্যবহার করুন না কেন টা আপনি জানতে পারবেন। যদি জিপিএস থাকে তবে ফোনের লোকেশনও দেখতে পারবেন। এটা যে কোন কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর মাধ্যমে কন্ট্রোল করতে পারবেন। এই অ্যাপস এর ফিচারসমূহঃ

  • ফোন চুরি হয়ে গেলে আপনি ফোন দূর থেকেই লক করে দিতে পারবেন।
  • আপস আনইন্সটল প্রোটেক্ট করতে পারবেন মানে আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ কোন অ্যাপস আনইন্সটল করতে পারবে না।
  • ফোন হারিয়ে গেলে ফোনের লোকেশন দেখতে পারবেন।
  • ফোনে অ্যালার্ম সাউন্ড দিতে পারবেন ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকেই।
  • চোর সিম পরিবর্তন করুন সমস্যা নেই আপনি চোরকে ম্যাসেজ দিয়ে কিছু বলতে পারবেন।

এক কথায় অসাধারন এবং খুবই কাজের একটি অ্যাপস। ব্যবহার না করলে ফোন হারিয়ে গেলে এক সময় আফসোস করতে হবে।

Link2SD

মারাত্মক কাজের অ্যাপস এটি। রুট ইউজাররা বিশাল সুবিধা পাবে এর মাধ্যমে। অনেকেরই ফোন মেমরি খুব কম থাকে। ৪০০/৫০০ এমবি। কিন্তু কিছু কিছু অ্যাপস আছে যা ফোনের ইন্টারনাল মেমরিতেই রাখতে হয় নাহলে কাজ করেনা। বা ডিফল্ট অ্যাপস গুলোও ফোন মেমরিতে থাকে। কাজে না লাগলেও ফোন মেমরি দখল করে বসে থাকে। এই সমস্যা সমাধান পেতে যারা চান তাদের জন্য খুবই দরকারি অ্যাপস এটি।

এই অ্যাপসটি মূলত আপনার SD মেমরি কার্ডের সাথে আপনার ফোনের ইন্টারনাল মেমরির লিঙ্ক তৈরি করে। এতে SD কার্ডের একটি অংশকে ফোন মেমরির মত করে ব্যবহার করা যায়। এটা একটিভ করার পর আপনার ইন্টারনাল মেমোরির অদরকারি অ্যাপস গুলো বা সকল অ্যাপস গুলো SD কার্ডের লিঙ্ক করা অংশে রাখতে পারবেন।

এটা ব্যবহার করার জন্য অনেক ঝামেলা করতে হয়। ফোন রুট করতে হয় তারপর SD কার্ডকে পার্টিশন সফটওয়্যার দিয়ে একটি পার্টিশন করতে হয়। এরপর সেই পার্টিশন অংশকে অ্যাপস এর মাধ্যমে কনফিগার করতে হয়। শুধু মাত্র এই অ্যাপসটি কনফিগারেশন ও ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত একটি পোস্ট লিখব খুব শিগ্রই।

আজ এ পর্যন্তই… খুব শিগ্রই আরও নতুন নতুন ও কার্যকরী অ্যাপস নিয়ে পোস্ট করব। অ্যাপস গুলো ভাল লাগলে অন্যের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

আরও জানতে হলে এখানে ভিজিট করুন http://www.bdtunepage.com

একটি উত্তর ত্যাগ