ফায়ারফক্স সিকিউরিটি নিয়ে টেনশন করছেন? তাহলে ৫টি ধাপ অবশ্যই দেখুন

0
407

অনেক মানুষই মনে করেন যে মজিলা ফায়ারফক্স হচ্ছে অন্যতম নিরাপদ ওয়েব ব্রাউজার। কিন্তু সিকিউরিটি এক্সপার্টদের মতে নিরাপত্তা মাত্রা নির্ভর করে আপনি কতটুকু সেটিংস ঠিক করেছেন, এবং তকটুকু করেননি তার উপরে। এছাড়া আপনি চাইলে অনেক এড-অন থেকে কিছু এড-অন যোগ করতে পারেন যা আপনার ব্রাউজারকে রাখবে নিরাপদে। আমরা আজকে দেখব মাত্র ৫টা ধাপে কাজ করে কি করে আমারা আমাদের ব্রাউজারকে নিরাপদে রাখতে পারি।

মাস্টার পাসওয়ার্ড এনাবেল করা:

ফায়ারফক্সের একটি ফিচার হল আপনি চাইলেই সব সাইটের জন্য আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখতে পারবেন। আর আপনার সেভ করা ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ডগুলি কোথায় ব্যবহার হচ্ছে তা ইচ্ছা করলেই জেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এটি অনেক সময় বিপদের কারণ হতে পারে। কোন সাইট যদি আপনার এই পাসওয়ার্ডগুলি হ্যাক করে, অথবা অন্য কেউ আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করে, তখনই পড়তে হবে বিপদে।

set-master-password-in-firefox ফায়ারফক্স সিকিউরিটি নিয়ে টেনশন করছেন? তাহলে ৫টি ধাপ অবশ্যই দেখুন

কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় এটাই যে ফায়ারফক্সের আছে মাস্টার-পাসওয়ার্ড সেট করার সুবিধা। যেটি আপনি এনাবেল করতে পারেন: টুলস > অপশন > সিকিউরিটি তে গিয়ে Use a master password এ টিক দিয়ে। এতে করে প্রতি সেশনে মাত্র একবার আপনাকে এই পাসওয়ার্ড দিয়ে অন্য সকল পাসওয়ার্ড একসেস করতে হবে। যার কারণে আপনার ব্রাউজার হবে আরও সিকিউরড। এছাড়া পরবর্তিতে আপনর ঐসব সেভ করা পাসওয়ার্ড একসেস করতে হলেও দেওয়া লাগবে এই পাসওয়ার্ড যার কারণে আপনি থাকবেন নিরাপদে।

 সিঙ্ক্রোনাইজেশনের জন্য একটি দূর্বোধ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন

ফায়ারফক্সের অন্যতম আর একটি সুন্দর ফিচার হচ্ছে আপনি চাইলে আপনার বুকমার্কস, ব্রাউজিং হিস্টোরি, পাসওয়ার্ড সব কিছুই আপনার একটি একাউন্টে সিঙ্ক্রোনাইজ করে রাখতে পারেন। যাতে করে অন্য কোন কম্পিউটারে বসলে বা আপনার কম্পিউটার নতুন করে সেটআপ দিলেও আপনি আপনার সব কিছু আগের মত করেই ফিরে পান। কিন্তু আপনার এই সিঙ্ক্রোনাইজেশনের পাসওয়ার্ড যদি একটু কঠিন না হয়, তাহলে আপনি পড়তে পারেন বিপদে। তাই এর জন্য সিলেক্ট করুন একটি কঠিন পাসওয়ার্ড।

কঠিন পাসওয়ার্ডের টিপস: পাসওয়ার্ডে []{};:!@#$%^&*()-=+/\ সহ নম্বর এবং অক্ষরের ছোটহাতের বড় হাতের ব্যবহার করতে পারেন। আবার ধরেন আপনার নামের কোন অক্ষর a, সেই ক্ষেত্র @ ব্যবহার করতে পারেন, e এর জন্য 3 ব্যবহার করতে পারেন।

কঠিন পাসওয়ার্ডের উদাহরণ: (*#%23SAc324[}

 সিকিউরিটি অপশন এনাবেল করুন

অন্য প্রায় সব জনপ্রিয় ব্রাউজরের মতই ফায়ারফক্সেও কিছু সাধারণ সিকিউরিটি এবং প্রাইভেসি সেটিংস আছে। যদিও এইগুলি সাধারণত ডিফল্ট ভাবেই এনাবেল করা থাকে, তবুও আপনাকে লক্ষ রাখতে হবে যেন কোন ভাবে এটি ডিসএবল না হয়ে যায়।

১. কোন এড-অন একা একা একটিভ হওয়া থেকে বাচুঁন: Tools > Options > Sceurity তে Warn me when sites try to install add-ons এ টিক দিন। এতে করে কোন সাইট চাইলেই আর কোন এড-অন একটিভ করতে পারবে না।

২. এর পরের দুইটি অপশন Block reported attack sites এবং Block reported web forgeries টিক দিন। এতে করে যেই সাইট গুলি বিপদজনক হিসাবে চিন্হিত, সেই সব সাইট থেকে কিছুই আপনার ব্রাউজারে ওপেন হবে না।

৩. Tools > Options > Privacy থেকে Tell sites that I do not want to be tracked এ টিক দিন। এতে করে কোন ওয়েব সাইট আর আপনাকে ট্রাক করতে পারবে না।

৪. Tools > Options > Content থেকে Block pop-up windows এ টিক দিন। যাতে ব্রাউজার নিজেই পপ-আপ উইন্ডোগুলি বন্ধ করে দেয়। এতে আপনি আরও বেশি সিকিউরিটিতে থাকবেন, সাথে বিরক্তিকর অনেক কিছু থেকে রক্ষা পাবেন।

৫. Tools > Options > Advanced > Update থেকে Automatically install updates এ টিক দিন। এতে করে ব্রাউজার তার দরকার মত আপডেট ইন্সটল করে আপনাকে রাখবে সুরক্ষিত।

 সিকিউরিটি প্লাগইন ইন্সটল করুন

কিছু সিকিউরিটি প্লাগইনের মাধ্যে সহজেই আপনি অনেক সমস্যার হাত থেকে বাচঁতে পারেন।

১. Xpnd.it: এটি যে কোন Shortend URL এর উপরে মাউস রাখলেই মূল URL দেখাতে পারে, যার কারণে আপনি আগে থেকেই সাবধান হতে পারবেন।

২. HTTPS Finder: এটি যে কোন সাইটের SSL-encrypted কানেকশন থেকে থাকলে তা ব্যবহার করে। এতে করে আপনার লগইন ডিটেইলস রক্ষা পাবে।

৩. Web of Trust (WOT): এটি প্রতিটি সাইটের রেটিং দেখাবে এবং মলওয়্যার ও বিপদজনক থাকা সাইটগুলিকে ব্লক করবে।

৪. Adblock Plus: এটি ওয়েব সাইট থেকে প্রায় সব রকম এডভার্টাইসমেন্ট হাইড করে দিবে। আর ভিডিও এডভার্টাইসমেন্ট একা একা লোড হওয়া থেকে বাচাঁবে।

৫. NoScript: এটির সাহায্যে আপনি নিজেই কোন কোন সাইটে জাভাস্ক্রিপ্ট, ফ্লাস বা সিলভার লাইট ব্যবহার হবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে দেয়।

 আপনার প্লাগইনগুলি চেক করুন, এবং আপডেট করুন

বিভিন্ন সময় আমরা না বুঝেই অনেক প্লাগইন ব্যবহার করি, যা আমাদের জন্যই ক্ষতিকর। আবার অনেক সময় সঠিক প্লাগইনটা আমরা ঠিকমত আপডেট না করার জন্য তা অকার্যকর হয়ে থাকে। তাই মাঝে মধ্যেই এগুলি চেক করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় এবং সন্দেহজনক প্লাগইন ডিলিট করা, এবং দরকারি গুলিকে নিয়মিত আপডেট করা উচিত।

 

আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজিং আরও আরও সুন্দর এবং সুখকর হোক।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen + nine =