ব্যবসার প্রচারণায় সোশাল মিডিয়ায় বা অনলাইন মার্কেটিং করতে যে ১৬টি ভুল অবশ্যই করবেন না

0
391

সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছোটখাটো ব্যবসা করতে গিয়ে অনেকেই নানা ভুল করে বসেন। ওয়াশিংটনের ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠার কনসালটেন্ট মারভিন পাওয়েল এসব ভুল সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন তার লিঙ্কএডিন পেজে। এর জবাব এসেছে বহু মানুষের কাছ থেকে। এখানে জেনে নিন ব্যবসার প্রচারে সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করতে গিয়ে যে ১৬টি সাধারণ ভুল করা হয়।

মার্কেটিং ব্যবসার প্রচারণায় সোশাল মিডিয়ায় বা অনলাইন মার্কেটিং করতে যে ১৬টি ভুল অবশ্যই করবেন না

১. ম্যারাথন না ভেবে স্প্রিন্ট ভাবা : অনেকেই প্রথমে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ব্যবসার প্রচারণা শুরু করেন। কিন্তু কিছু দিন যেতেই আর নিয়মিত থাকেন না। তাই এখানে ম্যারাথন দৌড়ের মতো এক গতিতে এগিয়ে যেতে হবে।

২. কোনো স্ট্র্যাটেজি না থাকা : এটা সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে। কোনো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়া সোশাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালানোর কোনো অর্থ নেই। সঠিক সময়ে সঠিক বিষয় নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় না আসতে পারলে তাকে গুরুত্বের সহকারে দেখা হয় না।

৩. না শুনে বেশি কথা বলা : সোশাল মিডিয়া যোগাযোগের স্থান। এর মাধ্যমে প্রচার করুন আর যোগাযোগ স্থাপন করুন। এ ক্ষেত্রে খোশগল্প করার কিছু নেই। অন্য মানুষ যা বলতে চায় তা আপনাকে শুনতে হবে।

৪. বাজে তর্কে যাবেন না : তর্কের মাধ্যমে সোশাল মিডিয়ায় বাজে আবহ সৃষ্টি করা উচিত নয়। প্রায়ই পেশাদাররা সেখানে অনর্থক তর্ক করেন যা তাদের সুনাম ক্ষুন্ন করে বলে মনে করেন ইকমার্স কনসালটেন্ট পামেলা হ্যাজেলটন।

৫. প্রমোশনের জন্য অতি সময় ব্যয় করা : ছোট ব্যবসায়ীরা নিজের প্রমোশন করতেই সোশাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন। অথচ একই সময় তাদের নিজেদের পণ্যের দিকেও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

৬. অবাস্তব আশা করা : অনেকে আবার একমাত্র সোশাল মিডিয়াকেই সফলতার একমাত্র মাধ্যম বলে মনে করেন এবং তা নিয়েই পড়ে থাকেন। তাদের আসলে অন্য উপায়েও চেষ্টা করে দেখা উচিত।

৭. বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট না করা : যে বিষয়েই প্রচারণা চালান তা যদি মানুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হয় তবে সেখানে চোখ পড়বে না। ফলে যতোই নিয়মিত থাকুন আপনি, কেউ পড়বে না আপনার প্রচারণা।

৮. ক্রেতার জবাব না দেওয়া : ক্রেতার মন্তব্য না পাত্তা দেওয়া, নিয়মিত তাদের জবাব না দেওয়া, শুধুমাত্র প্রোমোশনাল উদ্দেশ্যে সামাজিক প্রোফাইল ব্যবহার করা এবং রুচিহীন ব্র্যান্ডিং ও ডিজাইনের দ্বারা ক্রমশ ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়বে ব্যবসা।

৯. ব্যক্তিগত ও পেশাদারিত্বের পার্থক্য ভুলে যাওয়া : সোশাল মিডিয়াকে ব্যক্তিগত ও পেশাদার ক্ষেত্রে আলাদা করে নিন। যেমন- ফেসবুকের একটি প্রোফাইল একইসঙ্গে ব্যক্তিগত ও ব্যবসার কাজে ব্যবহার করবেন না। তবে লিঙ্কএডিন পেশা ক্ষেত্রে বেশ কাজের বলে মনে করেন টেকনলজি এক্সিকিউটিভ জর্জ এফ ফ্রাঙ্কস।

১০. অনুমান করা : ব্যবসা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কোনো অনুমান করা উচিত নয়। কারণ এতে ভুল থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই যদি একান্ত প্রয়োজন না হয় তবে মার্কেটিংয়ের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এতো বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন নেই। কারণ সোশাল মিডিয়া আসলে পণ্যের বিজ্ঞাপণের জন্য নয়। তাই এখান থেকে গাণিতিক উপাত্ত বের করতে পারবেন তেমন তথ্য-উপাত্ত পাবেন না।

১১. প্রথমে ব্যবসা এবং পরে ব্যক্তিগত প্রোফাইল : অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথমে সবাই ব্যবসার প্রোফাইল খুলে কিছু দিন পরই সেখানেই ব্যক্তিগ প্রোফাইল জুড়ে দেওয়া হয়। ফলে ক্রেতা নিয়মিতভাবে পেশাদার তথ্য পায় না। এক উদ্দেশ্যে এখানে প্রবেশ করে হয়তো অন্যকিছু পেয়ে যান। এতে প্রচারণার বিপরীতে ক্রেতার প্রতিক্রিয়া অনিয়মিত হয়।

১২. তথ্যের সরবরাহ সম্পর্কে ক্রমাগত ভুল ধারণা : সোশাল মিডিয়ায় কী ধরনের এবং কী পরিমাণে তথ্য সরবরাহ করতে হবে সে সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা থাকে না। তাই তা আগে বোঝা অনেক জরুরি বিষয় বলে মনে করেন টেকনলজি লিটারেট স্ট্র্যাটেজিক কনসালটেন্ট মার্ক অ্যানিবালি।

১৩. সব কাজ সোশাল মিডিয়ায় : ব্যবসার জন্য শুধুমাত্র সোশাল মিডিয়া কিছু নয়। এ জন্য ব্যক্তিগত নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তাই এখানে বিজ্ঞাপণ দিয়ে চুপচাপ বসে থাকাটা অবাস্তব।

১৪. ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত না হওয়া : ক্রেতার সঙ্গে সব দিক থেকেই যুক্ত হতে হবে। ক্রেতাকে প্রশ্ন করতে হবে, তার মতামত চাইতে হবে, পণ্যের গুণগত মান বাড়াতে পরামর্শ নিতে হবে। সেইসঙ্গে কিছুটা সেন্স অব হিউমারও দেখাতে হবে। যেকোনো উপায়ে তাদের কাছে টানতে হবে। আবার শুধুমাত্র নিজের পণ্য নিয়ে নগ্নভাবে প্রচারণা চালানো উচিত নয়। এর সঙ্গে কাজে এমন অন্যান্য পরামর্শ দিতে হবে। এতে করে ক্রেতা আপনার ওপর নির্ভর করতে শুরু করবেন।

১৫. সবাইকে করেছে দেখে নিজেও করা : সবাইকে দেখে করতে গেলে সেখানে কোনো স্ট্র্যাটেজি থাকবে না। তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে এবং সেখানে কী করবেন তা ঠিক করে নিয়ে প্রোফাইল খুলুন। অন্যকে দেখামাত্র নিজেও করতে গেলে আর সবার মতোই হবে।

১৬. এ সবকিছু সম্পর্কের উন্নয়ন তা না বোঝা : মনে রাখতে হবে, আপনি যাই করুন সবকিছুই আসলে সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য করা হয়। তাই এখানে কট্টোর ব্যবসায়ী মনোভাব না দেখিয়ে ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করুন।

একটি উত্তর ত্যাগ