হাসি, গান আর আড্ডায় পালিত হল টিউনারপেজের চতূর্থ জন্ম বার্ষিকী

12
1208

পিকনিক পিকনিক। আসলে পিকনিকের নাম শুনলেই শিড়দাড়া বয়ে আনন্দের শ্রোত বয়ে যায়। পৃথিবীর দুইটা জায়গায় গেলে মানুষের মন প্রশান্ত হয়ে যায় ১. টয়েলেট  ২. বনভোজন। চাকরি বলুন, ব্যবসাই বলুন কিংবা পড়ালেখার কথাই ধরুন সর্বত্রই ব্যস্ততার যাতাকলে পিস্ট হয়ে আমরা হাপিয়ে উঠি। এই একঘেয়েমী দূর করার জন্য দূরে কোথায়ও ঘুরে আসার বিকল্প নেই। সেই ঘুরাটা যদি দল বেধে হয় তখন সেটার নাম হয়ে যায় পিকনিক। তো বলছিলাম কি টিউনারপেজের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত পিকনিক নিয়ে। পিকনিকে আমরা দিনটা কিভাবে কাটিয়েছি সেটাই আমি রম্য আকারে তুলে ধরছি। যারা পিকনিক মিস করেছেন তারা চলুন আমার লেখার সাথে সাথে। সব কিছু আপনার চোখের সামনে জ্যান্ত হয়ে ফুটে উঠবে।

 

টিউনারপেজের জন্মদিন ২১ ফেব্রুয়ারী। তাই স্বভাবতই পিকনিকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১ তারিখ। স্পট হিসেবে ছিল কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী বার্ড। ২১ তারিখে পিকনিক হলেও ২০ তারিখ থেকেই সবার মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। পিকনিক উপলক্ষে রিজার্ভ করা হয়েছিল বিশাল এক বাস। সকাল ৭ টার মধ্যেই একে একে সবাই সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ডে এসে জড়ো হতে থাকে। আমি অবশ্য বাসে উঠেছি গৌরিপুর থেকে। কারন আমার বাড়ি ঐখানেই। অতঃপর সবাই যখন বাসে উঠে ছাড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তখনই জানা গেল আমাদের সকলের প্রিয় তাল পাতার সিপাহী নাস্তা নিয়ে আসতে বিলম্ব করতেছে। কি আর করা। অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও অপেক্ষা করতে হল।

11022631_589416404528298_4241065027265598939_n হাসি, গান আর আড্ডায় পালিত হল টিউনারপেজের চতূর্থ জন্ম বার্ষিকী

সব কাজ সমাধা করে বাস ছাড়ল ৯ টায়। বাস ছাড়ছে তাল পাতার সিপাহী থেকে এই মেসেজ পাওয়ার পর আমিও রওনা দিলাম গৌরিপুরের উদ্দেশ্যে। গৌরিপুর পৌছে এক কাপ র চা ( কায় কাউসের পোলার র চায়ের বর্ণনা না কিন্তুক) খেয়ে ঘুম কাতুরে শরীরটাকে চাঙ্গা করে তুললাম।

 

এরপর শুরু অপেক্ষার পালা কখন আসবে বাস। আর ঐদিকে বাস তার ইঞ্জিনের মৃদু গম্ভীর শদ তুলে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। প্রায় ঘন্টা খানেক পর ফারুক আহমেদ ভাই জানালো উনি দাউদকান্দি থেকে বাসে উঠেছেন। এরপরই সটান হয়ে রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার হিসেবে বলছে অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে ২০ মিনিটেই দাউদকান্দি থেকে গৌরিপুর এসে যাবে বাস। কারন এখানের রাস্তার প্রতিটা বাক আমার চেনা। হলও তাই। বাস এসে গৌরিপুর থামতেই এক লাফে উঠে গেলাম।

11016120_589420397861232_549047715139379166_o হাসি, গান আর আড্ডায় পালিত হল টিউনারপেজের চতূর্থ জন্ম বার্ষিকী

বাসে উঠেই ভাগিনা তাল পাতা, ফারুক ভাই, তুশিনের সাথে হ্যান্ডশেক করে আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম সামনে সিট খালি থাকলেও এখানে আপুর সংখ্যাই বেশি। আমি আবার মেয়েদের সামনে লজ্জা পাই কিনা। তাই বাসের পিছনের দিকে পা বাড়ালাম। পিছনে তাকিয়েই ভড়কে গেলাম। এ কি দেখছি? বাসে আগুন ধরল নাতো? পরক্ষণেই ভুল ভাঙ্গল। আমি আবার একটু টিউবলাইট তো। তাই একটু দেরিতেই বুঝি সব কিছু।

 

আসলে এটা ছিল বিড়িখোরদের অবদান। তারা বিড়ি টাইনা ধুয়া ছাইড়া পরিবেশ এমন বানাইছিল যে আমি ভাবছিলাম আগুন টাগুন লাগছে। এরপর সিটে গিয়ে ধপাস করে না বসতেই রুট পিএইচপি ভাইয়ের প্রশ্ন আপনার অস্ট্রেলিয়ার খেলার কি খবর? আরে রাখেন মিয়া আগে তো বসে নেই। এরপর না হয় খেলার খবর বলা যাবে। সিটে বসে খেয়াল করে দেখলাম ওনার গায়ে আইডি কার্ড ঝুলানো। ফিতায় লেখা প্রেস। নে পাইছি। বহুদিনের শখ টিভি/পত্রিকায় খোমা দেখানোর। পরে কার্ডের দিকে তাকায়া দেখি সেখানে লেখা রেডিও লুলিপপ। রেডিওতে যেহেতু খোমা দেখানোর কোন ব্যবস্থা নাই তাই সব আশা সেখানেই ফুটো বেলুনের মত চুপসে গেল। আশাহত হয়ে পিছনে তাকাতেই দেখি হেরে গলায় গান ধরেছে শাহরিয়ার ভাই। সাথে তাল দিচ্ছে ইয়াসির ভাই, তানভীর ভাই ও নাম না জানা আরও অনেকে। এরা দেখি বাসের ভিতরেই একখান ডিজে পার্টি বানায়া ফেলছে। এদের গান গাওয়া শেষ না হতেই ঘেত করে ব্রেক কষল ড্রাইভার। সামনে তাকায়া দেখি ছোট খাট জ্যাম। কিন্তু মিনিটের পর মিনিট যায় জ্যাম আর ছুটে না। জ্যামের ফাকে ফুকে তানভীর ভাই শুরু করলেন ফটোগ্রাফি। এর কানে গুতা মারেন, ওর ঘাড়ের সামনে গিয়া বাকা হইয়া পোজ দেন এই আরকি। সবচেয়ে মজাদার ছিল কিছু ঘুমন্ত পোলাপানের কান বরাবর আঙ্গুল রেখে তোলা ফটোগুলো। সবার উপর ঘুম সত্য এই বিদ্যা মেনে কয়েকজন বাসেই ঘুমিয়ে পরেছিলেন। আর তানভীর ভাই সেই সুযোগটা কি দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন।

10914732_589420777861194_2149575890330293513_o হাসি, গান আর আড্ডায় পালিত হল টিউনারপেজের চতূর্থ জন্ম বার্ষিকী

এক ফাকে দেখলাম সাইবার শুভ্র ভাই বাসের কন্ডাক্টর সেজে সবার থেকে ভাড়া তোলার চেস্টা করছেন। কিন্তু মনে মজা থাকলেই হয় না চেহারার ভাব ভঙ্গি আর কথা বার্তায় সেটা ফুটিয়ে তুলতে হয় তা কে বুঝাবে উনাকে??  তাই উনার আর কন্ডাক্টরগিরি করা হল না। উনি না পারলেও তানভীর ভাই ঠিকই জবরদস্তুর হেল্পার বনে গিয়েছিলেন। ইয়াসির ভাই আর তানভীর ভাই একসাথে থাকবেন আর মারামারি করবেন না তা কি করে হয়। ওনারা ওনাদের ঐতিহ্য বজায় রেখে ধুমাধুম লেগে গেলেন বাসের ভিতরেই। এক ফাকে আমি জানালা দিয়ে তাকায়া দেখি রাস্তার পাশে শসা আর বাঙ্গির খেত। লোভ সামলাতে পারলাম না। তাল পাতা আর ফারুক ভাইকে নিয়ে চললাম শসা চুরি অভিযানে। যেই না শসা খেতের দিকে পা বাড়ালাম বেরসিক জ্যাম তখনই বিপত্তি বাধালো। ভ্রুম ভ্রুম করে গাড়ি স্টার্ট নিয়ে জানান দিল জ্যাম আপাতত শেষ। কি আর করা শেষে শসা চুরি অভিযান পরিত্যাক্ত করেই বাসে ফিরে আসলাম। ধুকতে ধুকতে কুটুম্বপুর এসে আবার শুরু মহা জ্যাম। বেলা তখন ১২:৩০। আশেপাশের পরিবেশ দেখে দুই আপু নেমে গেলেন ফটোগ্রাফি করতে।

 

ঐদিকে আমাদের চিটাগঙ বাহিনী ১১ টার সময়ই বার্ডে পৌছে যায়। আমরা জ্যামে আটকাইছি জানতে পেরে ওনারা মহা ধুমধামে ঘুরাঘুরি করতে লাগলেন। আমি গোয়েন্দা হলেও আলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন নই। তাই বলতে পারছি না ওনারা ওইখানে কি কি করছেন। আর আমরা জ্যামে আটকা পরে ঘামছি। কিছুক্ষণ পর ইয়াসির ভাই দেখলাম নেতায়া পরছেন। পরে জানলাম উনি অসুস্থ হয়ে পরেছেন। গরমে টিকতে না পেরে ফাহাদ ভাই গায়ের শার্ট খুলে ফেললেন। জ্যামের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল কোটবাড়ি যেতেই রাত হবে। পিকনিক আর করা লাগবে না। কিন্তু পিপড়াও যে তার ধীর গতি দিয়ে এক সময় ঠিকই গন্তব্যে পৌছে যায়। অবশেষে আমরাও ধুকতে ধুকতে যখন বার্ডের সামনে বাস থেকে নামলাম তখন ঘড়ি তার কাটা টিকটিক করে জানিয়ে দিল এখন বেলা ৩টা।

11001872_941000355919577_937395546475689528_n হাসি, গান আর আড্ডায় পালিত হল টিউনারপেজের চতূর্থ জন্ম বার্ষিকী

বহুল প্রতীক্ষার পর আমরা পৌছলাম প্রাকৃতির অপার বিস্ময়, পল্লব সুশোভিত ছায়াঘেরা শান্তির নীড়, সুনিবিড় পরিবেশে অবস্থিত কোটবাড়িতে। আসলে কোটবাড়ির সৌন্দর্য্যের বর্ণনা বলে শেষ করা যাবে না। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসে প্রাকৃতির টানে। কুমিল্লার ছেলে বলে আমি মোটেই বাড়িয়ে বলছি না কোটবাড়ি সম্পর্কে। আপনি গুগল মারলে আমার কথার সত্যতা পাবেন। এখানে আছে শালবন বিহার, ইটাখোলা মুড়া, শালবন, বার্ড, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা পলিটেকনিক, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড পার্ক সহ আরও অনেক মনোমুগ্ধকর স্থান। যাই হউক অর্ধ দিনের জার্নি, জ্যাম, গরম আর ক্ষুধায় পেট চু চু করার কারনে আমরা বাস থেকে নেমেই ছুটে গেলাম বার্ড মসজিদের ওজুখানায়। পানি দিয়া হাত মুখ ধুইয়া মলিন বদনটাকে একটু উজ্জ্বল করে আমরা সবাই গেলাম ইটাখোলা মুড়ায়। বেলা তখন ৩ টা ৩০ হয়ে গেছে। সুতরাং এই সময়ে খাওয়া ছাড়া অন্য কিছুর কথা চিন্তাই করা যায় না। আমরা সবাই সারি বেধে বিরানী খেতে বসে গেলাম।

1381280_940998732586406_209572184329109089_n হাসি, গান আর আড্ডায় পালিত হল টিউনারপেজের চতূর্থ জন্ম বার্ষিকী

ইয়াসির ভাই, তানভীর ভাই, তুশিন, তাল পাতা, সামদানী সবার মাঝে বিরানী বিতরণ করল। খাওয়ার সময় ফারুক ভাই বসেছিল আমার সাথে। আমি একটা হাড্ডি চিবুতে চিবুতে উনি কিভাবে এক পোটলা বিরানী খেয়ে শেষ করলেন তা আমার মত গোয়েন্দ লোকের মাথায়ও ঢুকল না। অনেকেই খাওয়ার ফাকে ফাকে ফটোগ্রাফিও করেছেন। খাওয়া শেষে ইটাখোলা মুড়ার বিভিন্ন দেওয়ালের চিপায় ফটোসেশন চলল ধুমছে। আমি ফটো টটো তোলা বাদ দিয়া চারদিকে ঘুরতে লাগলাম। কথায় আছে ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে আর মেয়েরা টয়লেটে গেলেও মেকাপ করে।

 

আমি ঘুরতে ঘুরতে দেওয়ালের চিপায় যখন দেখলাম এক আপু মেকাপ করছে তখন মোটেও অবাক হলাম না। হাটার ফাকে কথা হয় অচিন পথিক ভাইয়ের সাথে। উনাকে কোটবাড়ি সম্পর্কে অনেক কিছুই বললাম। আমরা মুল দল থেকে আলাদা হয়ে বার্ডে চলে গেলাম। বার্ডের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখলাম। বেশ মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। সব কিছু গোছানো সাজানো। মুল দল সম্ভবত তখনও ইটাখোলা মুড়ায় ফটো তুলে বেড়াচ্ছে। আমরা বার্ড দেখা শেষ করে ফিরার সময় দেখি সবাই বার্ডে ঢুকতেছে। অগত্য আমরাও সবার পিছনে পিছনে চললাম। প্রায় আধা মাইল হেটে গিয়ে পৌছিলাম বার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। সেখানে শহীদ মিনারের পাদ দেশে সবাই একসাথে জড়ো হয়ে ফটো সেশন করলাম।

10649727_941734052512874_2232998131707203972_n হাসি, গান আর আড্ডায় পালিত হল টিউনারপেজের চতূর্থ জন্ম বার্ষিকী

এরপর স্কুলের মাঠের শুকনা ঘাসে সবাই গোল হয়ে বসে শুরু হল কেক কাটার পালা। তাল পাতা, তানভীর ভাই, টিটু ভাই ও প্লাবন ভাই ছুড়ি দিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করলেন।

10418172_589426584527280_7952118799306116977_n হাসি, গান আর আড্ডায় পালিত হল টিউনারপেজের চতূর্থ জন্ম বার্ষিকী

এবার এল পরিচয়ের পালা। সময় স্বল্পতা হেতু সবার পরিচয় দেওয়া সম্ভব ছিল না। শুধু এডমিনদের পরিচয় দিয়েই পরিচিতি পর্ব সারতে হয়েছিল। এরপর হল লটারির মাধ্যমে পুরস্কার বিতরণের পালা। পুরস্কার হিসেবে Tos Host এর পক্ষ থেকে দুইটি ১৬ জিবি পেন ড্রাইভ ও দুইটি ৮ জিবি পেইন ড্রাইভ দেওয়া হয়। লটারিতে একজনের নাম আসে তো সবাই করতালীতে ফেটে পরে।

10168060_589467721189833_9040218210418852168_n হাসি, গান আর আড্ডায় পালিত হল টিউনারপেজের চতূর্থ জন্ম বার্ষিকী

এক পর্যায়ে প্লাবন ভাই আমাকেই বলল লটারি করার জন্য। আমাকে বলা হল ৪৭ থেকে ৭১ এর মাঝে একটা নাম্বার বলতে। নাম লেখার সময় আমি খেয়াল করেছিলাম আমার নামটা ৬২/৬৩ নাম্বারে আছে। তাই আমি কইছিলাম ৬২। একটু দুই নাম্বারী করে পুরষ্কার জিততে চাইছিলাম আর কি। কিন্তু দেখা গেল ৬২ নাম্বার আমি না আরেকজন। কি আর করা চোখের সামনে দিয়া আরেকজনকে পুরষ্কার নিতে দেখলাম। সেই শোক এখনও কাটায়া উঠতে পারি নি। পুরষ্কার বিতরণী পর্ব শেষ হলে দেখা গেল সূর্য মামাও বিদায় নিছে। তাই বাধ্য হয়েই অনেক কাজ অসমাপ্ত রেখেই বাসের দিকে পা বাড়াতে হল। সবাই বাসে উঠতে উঠতে মাগরিব পেরিয়ে সাড়ে ৬ টা বেজে গেল। ঐদিকে আমাদের চট্টগ্রামের বন্ধুরাও আমাদের বিদায় জানিয়ে চলে গেল। শুরু হল আবার ঢাকা অভিমুখে বাস যাত্রা।

 

তবে রাতের নিরিবিলি পরিবেশে ভ্রমণটা ভাল হয়েছে সবার জন্যই। বাস যখন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট অতিক্রম করল তখন টিউনারপজের পক্ষ থেকে টি শার্ট দেওয়া হচ্ছিল। টি শার্ট ছিল মোটে ৭ টা। আর আমরা মানুষ ছিলাম প্রায় ৬০ জনের মত। সবার ভাগ্যে যেহেতু ঝুটবেনা তাই তানভীর ভাই আর তাল পাতাটা মিল্লা আমার উপর অবিচার করে মানুষরে দিয়া দিল। আমি পাইলাম না একটাও। এরপর সবাইকে একটা করে কলম দেওয়া হল টিউনারপেজের নাম খোদাই ওয়ালা। আরে মিয়া এই ডিজিটাল যুগে কি কলম টলম চলে? তারচেয়ে একটা করে কী বোর্ড দিলে খুশি হইতাম। আর আমাদের এইসবের ফাকে বাস রাতের অন্ধকার চিরে এগিয়েই চলছে। ক্রমশ নিকটবর্তী হয়ে উঠছে আমাদের গন্তব্য। বাস যখন চান্দিনা বাজারে তখন রেডিও লুলিপপের পক্ষ থেকে শুরু হল লুলিপপ বিতরণ। নাম লুলিপপ দেখেই লুলিপপ দিতে হবে? আমাগো সবাইরে দুধের বাচ্চা বানাইয়া ছাড়ল। এই জন্য রেডিও লুলিপপ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করছি। লুলিপপ চুষতে চুষতে খেয়ালই করি নাই কখন যে আমার গন্তব্যস্থল এসে পরছে। অতঃপর বাস থেকে নেমে বাড়িতে ফিরে খেয়ে দেয়ে লম্বা এক খান ঘুম দিয়েছি। ঘুম ভেঙ্গেছে পরেরদিন সকাল ১০ টায়। বাড়িতে আইসা ঘুম দেওয়ার পরও পিকনিক নিয়া আরও রিভিও আশা করেন?? তাইলে নেন – বাড়িতে আইসা আবিষ্কার করলাম আমি যেই শার্ট পরে পিকনিকে গিয়েছিলাম সেটার বগলের নিচে ফাইড়া গেছে। কে জানে এতগুলো ভাই, আপুদের সামনে ইজ্জত বিলায়া আইছি কিনা??

 

পাদটীকাঃ

পরিশেষে টিউনারপেজ কর্তৃপক্ষকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এমন একটি পিকনিক আয়োজন করার জন্য। ওনাদের কারনেই আমরা সবাই একত্রিত হতে পেরেছিলাম। নিজেদের আনন্দগুলি শেয়ার করতে পেরেছিলাম। ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাদেরকেও যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের ডাকে চলে এসেছেন পিকনিকে। আগামীতে আমি চাই গতানুগতিক পিকনিক না হয়ে ব্যতিক্রমী কিছু হউক। সে আইডিয়াও আমি ঠিক করে রেখেছি। যারা যারা পিকনিকে গিয়েছিলেন তারা আমার সাথে পরিচিত হতে পারেন ফেইসবুকে। আমার আইডি লিংক Masud Sarker Rana

এত বড় লেখা কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

পিকনিকের আরও ফটো দেখতে এখানে ক্লিক করুন

12 মন্তব্য

  1. এই প্রোগ্রামে আমরা অংশগ্রহন করতে পেরে আনন্দিত। আমি আহমেদ শিহাব toshost.com এর পক্ষ থেকে সকল পুরস্কার বিজয়ীদের জানাই শুভেচ্ছা। আশা করি ভবিষ্যতেও আমরা Tunerpage এর সাথে থাকতে পারব এবং নতুন চমক দিতে পারব।

  2. ৪র্থ জন্ম বার্ষিকীতেও আমার প্রিয় ব্লগের সবার সাথে দেখা করতে পারলাম না । খুব খারাপ লাগছে কিন্তু কি আর করার……………।
    তয় আপনারদের সবার ছবি দেখে ভাল লাগলো ।

একটি উত্তর ত্যাগ